এশিয়ান ইনডোর অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের ১২তম আসরে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের শীর্ষ ৫ অ্যাথলেট বৃহস্পতিবার ইরানের তেহরানে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি হতে যাওয়া এই চ্যাম্পিয়নশিপে লড়বেন। তবে পরিতাপের বিষয় হলো অ্যাথলেটদের সঙ্গে দুইজন কর্মকর্তা গেলেও নেই কোনও কোচ!
গতবার ৬০ মিটিার স্প্রিন্টে ইমরানুর রহমান সোনার পদক জিতে ইতিহাস গড়েন। এবারও আশা নিয়ে ঢাকা থেকে যাচ্ছেন লন্ডনে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা এই অ্যাথলেট। এছাড়া একই ইভেন্টে রাকিবুল হাসান ও শিরিন আক্তার, ৪০০ মিটার দৌড়ে জহির রায়হান ও হাই জাম্পে মাহফুজুর রহমান অংশ নিচ্ছেন।
কর্মকর্তা দুজন হচ্ছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টু ও কোষাধ্যক্ষ জামাল হোসেন। তিন দিনের চ্যাম্পিয়নশিপে ফেডারেশন অ্যাথলেটদের সঙ্গে কোনও কোচ পাঠানোর প্রয়োজন মনে করেনি!
ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিবকে এনিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তরে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আসলে যারা যাচ্ছে, তারা সিনিয়র অ্যাথলেট। তাদের সঙ্গে কোচ পাঠানোর প্রয়োজন দেখছি না। তারা নিজেদের দেখভাল নিজেরাই করতে পারে। যদি জুনিয়র হতো তাহলে হয়তো ভেবে দেখা যেতো। এছাড়া ইমরান-জহিরদের সেখানে ট্রেনিং দেওয়ার মতো দেশে তেমন কোচ নেই। অ্যাথলেটরা নিজেদের মতো করেই ট্রেনিং কিংবা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। দেশের বাইরে কোচ লাগে না।’
তাহলে দলের সঙ্গে কোচ না পাঠিয়ে দুই কর্মকর্তা কেন যাচ্ছেন? মন্টুর ব্যাখ্যা, ‘আমি যাচ্ছি সেখানে সভাতে অংশ নিতে। আর কোষাধক্ষ্য যাচ্ছে সেখানে সবকিছু দেখতে। না গেলে তো শিখতে পারবে না। ওখানে শিখে এসে দেশে কাজে লাগাতে পারবে। আর আমাদের কোটা মাত্র একজন অফিসিয়ালের। সেখানে কোচ না পাঠিয়ে কর্মকর্তা পাঠানো শ্রেয়। অ্যাথলেটদের উৎসাহ দিতে পারলেই হলো। আমরা তো কোচদের দেশের বাইরে পাঠাই, ট্রেনিংয়ে।’
তবে মন্টুর এমন ব্যাখ্যা মেনে নিতে পারছেন না সেনাবাহিনীর কোচ ফরিদ খান চৌধুরী, ‘আসলে ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক যা বলছেন, তাতে আমি একমত নেই। দেশের বাইরে খেলতে গেলে অ্যাথলেটদের সঙ্গে কোচ থাকাটা বাধ্যতামূলক। তেহরানে যেখানে পাঁচজন অ্যাথলেট যাচ্ছে সেখানে একজন কোচকে পাঠানোর দরকার ছিল। আর আমরাই তো অ্যাথলেটদের দেশে ট্রেনিং করাই। তাহলে সেখানে গিয়ে পারবো না কেন? একজন অ্যাথলেটের যে কোনও প্রতিযোগিতায় কোচের দরকার হতে পারে। এটা টেকনিক্যাল কাজ। যা কর্মকর্তারা বুঝবেন না।’