‘ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ইউটিউবের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে চাই’

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পুরোনো জিমনেসিয়াম সবসময় ক্রীড়াবিদের পদচারণায় মুখর থাকে। আজ শিশু-কিশোরদের কোলাহলে মুখরিত হলো পুরোনো জিমনেসিয়াম। ম্যাটের ওপর আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকসে ব্যস্ত ছিলেন কিশোর-কিশোরীরা। 

পল্টনের এই জিমনেসিয়ামে মঙ্গলবার দিনব্যাপী প্রথমবারের মতো হয়ে গেলো বঙ্গবন্ধু প্রথম আন্তঃস্কুল জিমন্যাস্টিকস, যাতে অংশ নিয়েছে দেশের ৫৬টি স্কুলের ২৫০ জন জিমন্যাস্ট। এমন উৎসবমুখর পরিবেশে আসতে পেরে সবাই খুশি।

দিনাজপুর কালেক্টরেট হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ফ্লোর এক্সারসাইজে সোনা জয়ের পর বলেছে, ‘এখানে খেলতে এসে খুবই ভালো লাগছে। আমার আনন্দ আরও বেড়ে গেছে যখন পদকটি পেয়েছি।’

দিনাজপুর থেকে এবার স্কুল জিমন্যাস্টিকসে এসেছে ৩২ জন জিমন্যাস্ট। ৬টা পদক জিতেছে তারা।

তাদের কোচ সাবেক জিমন্যাস্ট আজমেরি সুলতানা এমন আসরে এসে উচ্ছ্বসিত, ‘মাত্র ৩ মাসের প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি। এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। আমরা ভাবতেও পারিনি এত চমৎকার প্রতিযোগিতা হবে।’

সারাদিনের আয়োজনে যারা ইভেন্টে জিতেছে, পদকের পাশাপাশি সার্টিফিকেটও দেওয়া হয়েছে। 

রাজধানীর বনশ্রী ড্রেক্সেলা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া রূপকথা মল্লিক প্রথমবার অংশ নিয়েই জিতেছে ব্রোঞ্জ। বাবা রিপন লাল মল্লিক ল ফার্মে চাকরি করেন। মেয়েকে জিমন্যাস্টিকসে আনতে পেরে খুশি, ‘গত দুই বছর ধরে সে জিমন্যাস্টিকস শিখছে। ওর আগ্রহের কারণে এখানে খেলা শেখাই। আজই প্রথম প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। এবং পদকও পেয়েছে। খুব ভালো লাগছে আমার।’

জ্যোতি সাহার মেয়ে নবনীতা সাহা পড়ছে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে। বিভিন্ন ডিজিটাল গ্যাজেটের আসক্তি ছাড়িয়ে মেয়েকে জিমন্যাস্টিকসে দিতে পেরে আনন্দিত তিনি, ‘এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ইউটিউবে আসক্ত হয়ে পড়ছে। কিন্তু এসব আসক্তি থেকে দূরে রাখতে চাই। তাই আমি মেয়েকে জিমন্যাস্টিকসে এনেছি। সে এখানে সময় যেমন কাটাতে পারছে, খেলাধুলার মাধ্যমে শরীরও ফিট রাখতে পারছে। এটা অনেক ইতিবাচক দিক আমাদের জন্য।’

জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের  সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান টুর্নামেন্ট আয়োজনের চ্যালেঞ্জিং কাজটা করতে পেরে তৃপ্ত, ‘আমাদের হাই পারফর্মার অনেক আছে। কিন্তু জেনে না জেনে অনেকে শারীরিক কসরৎ করে। এদের আসল জিমন্যাস্টিকসের অভিজ্ঞতা দিতে সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করি। আগেই আয়োজন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নানা কারণে হয়নি। শেষ পর্যন্ত সারা দেশ থেকে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের এনে প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছি। কাজটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিন্তু এখানে অভিভাবকদের প্রচুর সাড়া পেয়েছি। বাচ্চারা যখন জিমে ঢুকছিল খুব রোমাঞ্চিত ছিল।’

পুরো আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে শেলটেক ও ইলেকট্রোমার্ট। সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর আরও বলেছেন, ‘মামুন স্যারকে (ফেডারেশনের সভাপতি শেখ বশির আহমেদ) এই পরিকল্পনা জানাতেই তিনি নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। তাছাড়া সারা দেশ থেকে আসা প্রচুর জিমন্যাস্টের আবাসান ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছে ফেডারেশন। আমাদের কোরিয়ান কোচ নতুন প্রতিভাবান জিমন্যাস্ট বাছাই করে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।’