টানা চতুর্থবারের মতো বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। বিকালে মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে ফাইনালে শক্তিশালী নেপালকে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লাল সবুজ দল। ম্যাচ শেষ হতেই তাই সবাই উচ্ছ্বাসে ভেসেছেন।
দলের কোচ ও কর্মকর্তাদের তো কাঁধের উপরে নিয়ে খেলোয়াড়েরা ইনডোর স্টেডিয়াম প্রদক্ষিণ করেছেন।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের কোচ আব্দুল জলিল বলেন, ‘কোচের দায়িত্বটা আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। দলকে চ্যাম্পিয়ন করে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে সে দায়িত্ব পালন করেছি। আমি মনে করি শতভাগ সফলতা এসেছে।'
নেপালের অন্যতম সেরা এবং ভারতের প্রো কাবাডি খেলোয়াড় ঘনশ্যাম রোকা মাগারকে নিয়ে ফাইনালে বিশেষ পরিকল্পনা ছিল। তা জানিয়ে স্বাগতিক দলের কোচ বলেছেন, ‘তাকে কীভাবে আটকানো যায় সে পরিকল্পনা আমরা আগেই সাজিয়েছিলাম। ঘনশ্যামকে আটকানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার জিয়াউর রহমানকে। সে সঠিকভাবে তার দায়িত্ব পালন করেছে। যে কারণে ঘনশ্যাম আজ সুবিধা করতে পারেনি। এতে বাংলাদেশের জয় পাওয়াটা আরও সহজ হয়েছে।'
বাংলাদেশ টানা চতুর্থবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন অধিনায়ক ও রেইডার আরদুজ্জান মুন্সী। ফাইনালের আগে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। শিরোপা জিতেই শেষটা রাঙালেন। ফাইনাল শেষে বিদায়ী অধিনায়ক বলেছেন, ‘এবার শুরু থেকে আমাদের টিম কম্বিনেশন অনেক ভালো ছিল। আপনারা দেখেছেন এই আসরে অনেক ভালো দল এসেছে। কোনও দলই দুর্বল নয়। আমাদের খেলার ধারাবাহিকতা এতই সুন্দর ছিল যে শুরু থেকে শেষ অবধি আমাদের চাপে পড়তে হয়নি। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দিয়ে দলকে জয়ী করতে পেরেছি। এটা আমার জীবনের সেরা পাওয়া।'
এরপরই তিনি যোগ করেন, ‘এভাবে এত আয়োজন করে আমাকে বিদায় দেওয়া হবে এটা কখনও ভাবিনি। আমাকে এত সুন্দরভাবে বিদায় দেয়ার জন্য কাবাডি ফেডারেশনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এছাড়া ফাইনালের আগে একটা মানসিক চাপ থাকে। কিন্তু আমরা কোনও চাপ নেইনি। আমি নির্ভার হয়ে খোলার চেষ্টা করেছি। তাতে সহজ জয় পেয়েছি।'