দেশের খেলাধুলাতে পুলিশ বিভাগ নিয়মিত অংশ নিয়ে থাকে। ৩৪টির মতো ডিসিপ্লিনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হয়ে তাদের উপস্থিতি লক্ষনীয়। তবে এবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশের সব খেলোয়াড়দের যার যার জেলা ও ইউনিটে যোগ দিতে বলা হয়েছে। আপাতত খেলার চেয়ে আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখার দিকে দৃষ্টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।
২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান স্বাক্ষরিত চিঠি সকল ডিসিপ্লিনের সম্পাদক, যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। শুধু খেলা নয়, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যারা আছেন, তাদেরকেও একই চিঠি দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পুলিশের অপারেশন পরিধি ব্যাপকভাবে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হওয়ায় বাংলাদেশ পুলিশ ক্লাবের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে নিয়োজিত যে সকল সদস্য রয়েছে, তাদেরকে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিজ নিজ জেলা ও ইউনিটে প্রেরণ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।’
এরই মধ্যে খেলোয়াড়দের অনেকেই নিজ জেলা বা ইউনিটে যোগ দিতে শুরু করেছেন। সাধারণত যারা খেলোয়াড়, তাদের পুলিশি কর্মকাণ্ডে সেভাবে অংশগ্রহণ কমই হয়ে থাকে। এবার প্রায় খেলাধুলায় যুক্ত প্রায় ৩০০ সদস্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন করে যুক্ত হতে যাচ্ছেন।
তবে এ নিয়ে কেউ কেউ অন্য কথা বলেছেন। পুলিশের একজন খেলোয়াড় নাম প্রকাশ না করে বলেছেন, 'আমরা সারা বছর খেলার কার্যক্রমে থাকি। এখন পুলিশি কর্মকান্ডে অংশ নিলে নিয়মিত খেলা কিংবা অনুশীলনে বিঘ্ন হবে। তারপরও চাকরির কারণে নির্দেশ তো মানতে হচ্ছে।'
তবে নতুন সরকার আসার পর হাতে গোনা ডিসিপ্লিন ছাড়া অন্যগুলোতে খেলা নেই। ফেডারেশনগুলো নতুন করে গঠন হচ্ছে।
পুলিশ ফুটবল ক্লাবের সম্পাদক ও ডিআইজি (রেলওয়ে) শেখ মো. রেজাউল হায়দার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমরা চিঠি পেয়েছি। তবে পুলিশ ফুটবল ক্লাবের সামনে খেলা আছে। লিগ শুরু হবে। সদস্যরা আগেই যার যার ইউনিট ও জেলাতে হাজিরা দিয়েছে। ফুটবলারদের মনে হচ্ছে সমস্যা হবে না। তারা খেলাতেই থাকবে। না থাকলে তো ফুটবলে অংশই নিতে পারবো না আমরা। এই দলে ১৬/১৭ জন আছে চাকরি করে। খেলাটাও চাকরির অংশ। বাকিদের খেলা মনে হচ্ছে এই সময়ে নেই, যেহেতু দেশে আইন শৃঙ্খলা এখন মূল অগ্রাধিকার, তাই জেলা ও ইউনিটে যোগ দেওয়ার নির্দেশ এসেছে। সামনে যাদের খেলা থাকবে হয়তো তারা তখন অনুশীলনেরও সুযোগ পাবে। এ নিয়ে অন্য কিছু চিন্তার নেই। আবার এটাও ঠিক নিয়মতি অনুশীলনে না থাকলে পারফরম্যান্সে সমস্যা হয়। পুলিশ ক্লাব তো আগে থেকে নানান ডিসিপ্লিনে সাফল্য পেয়ে আসছে।’