খেলেছেন প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগে। খেলা শেষে অবশ্য ফুটবলের সঙ্গে জড়াননি। ৪৫ বছর বয়সে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার পাশাপাশি হঠাৎ করে ব্যাডমিন্টনে ঝোঁক বাড়ে। খেলতে খেলতে জাতীয়স্তরে র্যাংকিংয়ে জায়গাও করে নেন। এরপর ঢুকে পড়েন কোচিংয়ে। দেশের বাইরে থেকে হাইপারফরম্যান্স ট্রেনিং কোচিং কোর্স করে কোটি টাকা ব্যয়ে নিজের একাডেমি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ডুয়েট থেকে পাস করা ইঞ্জিনিয়ার মীর সারওয়ার আলম আগে বেশ কয়েকবার জাতীয় দলের কোচও করা হয়েছিল। কিন্তু এবার এসএ গেমসের জন্য দীর্ঘমেয়াদে সারওয়ার আলমের ওপর ভরসা রেখেছে ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন। তাকে কেন্দ্র করে এখন বড় স্বপ্ন।
সারওয়ার আলম নিজেও পুরোপুরি ব্যাডমিন্টন পাগল। একপরযায়ে ব্যবসা-বাণিজ্য না করে ব্যাডমিন্টনে কোচিং করেই ক্যারিয়ার এগিয়ে নিচ্ছেন। বয়স তার ৬৩। এই বয়সে শাটলারদের নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখছেন তিনি। আপাতত ২৪ জন শাটলার নিয়ে ক্যাম্প শুরু হবে। সেখান থেকে ১২ জনে নিয়ে আসা হবে। এসএ গেমসে বাংলাদেশের রেকর্ড খুব যে ভালো তা নয়। তবে সারওয়ার আলমের স্বপ্ন বহুদূর। তার একাডেমি কিংবা কোচিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ২৫ জনের মতো মেধাবী শাটলার বেরিয়েছে। বর্তমান জাতীয় দলে আছেন ৮ জন। বাংলা ট্রিবিউনকে তাই সারওয়ার আলম বলেছেন, ‘দেখুন স্বপ্ন দেখতে হলে ব্রোঞ্জ কিংবা রুপা নয় স্বর্ণপদকের জন্য দেখা উচিত। আমাদের বাংলাদেশে প্রচুর মেধাবী শাটলার আছে। আমি নিজেও অনেককে কোচিং করিয়েছি। আমার মনে হয় তাদের নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখাই যায়। এছাড়া এবার ভালো ফল করার জন্য আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।আমার সঙ্গে একজন ইন্দোনেশিয়া ও স্বদেশি কোচও থাকবেন।ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন এরই মধ্যে সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর সমস্ত পরিকল্পনা করেছেন। রাসেল কবির সুমন(সাধারণ সম্পাদক) এর অধিনে এখন বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন নতুন রুপ পেতে যাচ্ছে। উনি বিচক্ষণ এবং দূরদর্শী। তাই আমারও কাজ করতে অনেক ভাল লাগছে।দেশের জন্য কাজ শেষে আবার রাজশাহীর একাডেমির দায়িত্বে ফিরে যাবো।’
তবে এর জন্য প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সুবিধার প্রয়োজন মনে করেন বর্ষীয়ান কোচ,‘শুধু কোচিং করালেই হবে না। শাটলাররা যেন সুযোগ সুবিধা ঠিকমতো পায়। বিশেষ করে শীত মৌসুমে বাইরে খেলার আমন্ত্রণ থাকে তাদের। সেখানে অর্থযোগের বিষয় থাকে। তাই সবকিছুর সমন্বয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে পদক সম্ভব হবে।’
সারওয়ার আলম এখন পুরোদস্তুর কোচিং পেশায় আছেন। মালয়েশিয়া ও কলকাতায় কোচিং করিয়েছেন, এখন আছেন রাজশাহীর ব্যাডমিন্টন একাডেমিতে। ডুয়েট থেকে পাস করে ব্যবসা বাণিজ্যের এক পর্যায়ে ব্যাডমিন্টনে পেশাদার কোচ হওয়ার পেছনের কারণ নিয়ে বলেছেন, ‘ব্যবসা করার সময় পরিচিতদের মাধ্যমে আমার ব্যাডমিন্টন বেশি ভালো লেগে যায়। আমি নিজের টাকায় ৪০ লাখ ব্যয় করে দেশের বাইরে কোচিং কোর্স করেছি। কোটি টাকা ব্যয়ে একাডেমি করেছিলাম। ৮ বছর চালানোর পর অজানা কারণে তা এখন নেই। ব্যাডমিন্টনের কারণে ব্যবসা-বাণিজ করছি না, ছেড়ে দিয়েছি। কোচিং করে যা আয় হয় তাতেই আমি সন্তুষ্ট বলতে পারেন। স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশের ব্যাডমিন্টন একসময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দাপিয়ে বেড়াবে। মাথা উঁচু করে দাড়াবে।’