পে-স্কেল বৃদ্ধি: সুফল পাবেন ক্রীড়াবিদ-কোচরাও

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। ১১ বছর পর জাতীয় বেতন স্কেল বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্তে কম বেশি খুশি সরকারি চাকুরিজীবীরা। বেতন বৃদ্ধির তালিকায় স্থায়ী যারা চাকরি করছেন, তাদের মধ্যে ক্রীড়াবিদ থেকে শুরু করে কোচরাও আছেন।

ক্রীড়াঙ্গনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বিকেএসপি, ক্রীড়া পরিদপ্তর ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর আছে। এর মধ্যে ক্রীড়া পরিষদ, বিকেএসপি ও ক্রীড়া পরিদপ্তরে সাবেক ক্রীড়াবিদরা কেউ কোচ কিংবা কর্মকর্তা পদে কাজ করছেন। তারা সবাই পে স্কেলের আওতায় থাকায় বেতন বৃদ্ধির সুফল ভোগ করবেন।

১১ বছর পর পে-স্কেল বৃদ্ধি হওয়ায় খুশি বিকেএসপির উপ-পরিচালক ও ক্রিকেট কোচ মন্টু দত্ত, ‘এটা অনেক দিনেরই দাবি ছিল পেশাজীবী সমাজের। অবশেষে সেটা বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। বিকেএসপির কোচ ও অন্যরাও এর সুবিধা পাবেন। বিশেষ করে কোচদের পিছু টান কিছুটা কমবে।’

সাবেক শুটার আল আমিন সবুজ ক্রীড়া পরিদপ্তরের অধীনে বর্তমানে ময়মনসিংহে জেলা ক্রীড়া অফিসার পদে কর্মরত আছেন। একটি জেলার সামগ্রিক দিক দেখার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে ক্রীড়া অফিসারদের কাজ করতে হয়। সবুজের মতে খেলা ছাড়ার পর ক্রীড়াঙ্গনে চাকরি করাটা এখন আরও সবাইকে উদ্বুদ্ধ করবে। তার কথা, ‘খেলাধুলা শেষে যখন একজন ক্রীড়াবিদ দেখবে ক্রীড়া অফিসার কিংবা কোচ হলে ভালো বেতন পাওয়া যায় তখন অবশ্যই তারা এই পেশায় আসবে। এতে ক্রীড়াঙ্গনের মান অনেক বৃদ্ধি পাবে।’

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে দেশের সকল ফেডারেশন ও ক্রীড়া স্থাপনা। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে কয়েকটি খেলায় দশের অধিক কোচ রয়েছেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক প্রশাসন টিটন ক্ষীসা বলেন, ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে কোচরাও পে স্কেলের অধীনে বেতন ভাতার সুবিধা পাবেন।’ 

আন্তর্জাতিক মাস্টার ও দাবা কোচ আবু সুফিয়ান শাকিল বলেন, ‘এটা আমাদের কোচদের জন্য স্বস্তির খবর। কোচরা ভালো থাকলে আরও ভালো মানের ক্রীড়াবিদ উঠে আসবে। তাই ক্রীড়াঙ্গনের জন্য সুখবর বলবো আমি।'

ফুটবল (সংখ্যায় কম) সহ অন্য খেলার অধিকাংশ খেলোয়াড়রা পুলিশ, আনসার, নৌবাহিনী, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সার্ভিস সংস্থায় যুক্ত। সার্ভিসেস সংস্থায় কর্মরত স্থায়ী ক্রীড়াবিদরাও এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন। এসএ গেমসে রেকর্ড জয়ী সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা নৌবাহিনীতে কোচ হিসেবে কর্মরত। তিনি পে স্কেল বৃদ্ধি নিয়ে বলেন, ‘ফুটবল, ক্রিকেট ছাড়া অন্য সব খেলার খেলোয়াড়রা সার্ভিসেস বাহিনীর উপর নির্ভরশীল। ৮০-৮৫ ভাগ খেলোয়াড়রা ডিফেন্সের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ক্রীড়াঙ্গনে এই পে স্কেল বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তখন আরও সাফল্য আসবে৷ এতে করে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই ক্রীড়াঙ্গনের প্রতি আকৃষ্ট হবে।’

অ্যাথলেট মোহাম্মদ ইসমাইল ও ফুটবলার সুমন রেজাদের মতো শতশত ক্রীড়াবিদরাও এই পে-স্কেলের আওতায় থাকছেন।  এমনিতে সরকার খেলোয়াড়দের মাসিক এক লাখ করে বেতন দিচ্ছে। এর বাইরে নতুন করে পে-স্কেল অন্যদের জন্য আশীর্বাদ-ই।