এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতা: কারণ খুঁজতে মূল্যায়ন কমিটি

জাপানে বিশাল বহর পাঠিয়েও এশিয়ান গেমসে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। পুরো আসর থেকে এসেছে মাত্র একটি পদক। এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণ খুঁজে বের করতে এবং ভবিষ্যতের জন্য করণীয় নির্ধারণে বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি গঠন করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

রবিবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে ইতোমধ্যে মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। এবারের ফল কোনোভাবেই আশাব্যঞ্জক নয় বলে স্বীকার করেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে শুধু অংশগ্রহণ নয়, পদকের জন্য লড়াই করতে পারে- এমন দল গড়ে তোলাই এখন সরকারের লক্ষ্য।

আমিনুল হক বলেন, ‘এশিয়ান গেমসে আমাদের পারফরম্যান্স মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যর্থতার পেছনের প্রকৃত ভুলগুলো খুঁজে বের করে ভবিষ্যতে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে একটি মূল্যায়ন কমিটি কাজ শুরু করেছে। সরকার চায় বাংলাদেশ স্রেফ অংশগ্রহণকারী হিসেবে নয়, সরাসরি পদক জয়ের শক্ত দাবিদার হিসেবে আন্তর্জাতিক আসরে লড়াই করুক।’

এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা ছিল ক্রিকেট নিয়ে। সে কারণে জাতীয় দলের প্রায় পূর্ণ শক্তির স্কোয়াডকে এই আসরে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু মাঠের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার কাছে বড় ব্যবধানে হেরে ক্রিকেট থেকেই কোনো পদক ছাড়াই ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশকে। অথচ এ দুটি দল তুলনামূলক কম শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়েছিল।

২০১০ সালের গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের অভিষেকেই আফগানিস্তানকে হারিয়ে ঐতিহাসিক সোনা জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই সাফল্যের পর ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রত্যাশা বরাবরই ছিল বেশি। কিন্তু এবারই প্রথম ক্রিকেট ইভেন্ট থেকে কোনো পদক ছাড়াই ফিরতে হলো বাংলাদেশকে।

এশিয়ান গেমসের এই ব্যর্থতার পর ভবিষ্যতে সরকারি বিনিয়োগ ও প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, যেসব খেলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য ও পদক জয়ের বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সেসব খেলাতেই সরকারের গুরুত্ব ও সম্পদ বরাদ্দ বাড়ানো হবে।