এশিয়ান গেমসের সমাপনীতে গেলো না হকি দল, ব্যস্ত শপিংয়ে!

এশিয়ান গেমসের মতো মহাদেশীয় ক্রীড়া আসরের সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলো না বাংলাদেশ পুরুষ হকি দল। নাগোয়ার পালোমা মিজুহো স্টেডিয়ামে রবিবার বসেছিল ২০তম এশিয়ান গেমসের সমাপনী আয়োজন। সেখানে বাংলাদেশের ৪৫ জন ক্রীড়াবিদের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও হকি দলের একজন খেলোয়াড়ও উপস্থিত ছিলেন না। সমাপনী অনুষ্ঠানের বদলে শেষ দিনটি শহর ঘুরে কেনাকাটাতেই কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দলটি।

সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ও এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ দলের শেফ দ্য মিশন মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ হকি দলের আয়োজকদের আটজন খেলোয়াড় পাঠাতে বলেছিলেন। কিন্তু সেই অনুরোধে সাড়া দেয়নি কেউ।

হকি দলের ম্যানেজার ও বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্স অবশ্য এর পেছনে দূরত্বকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গিফুতে দলের আবাসন থেকে নাগোয়ার অনুষ্ঠানস্থলে যেতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে বলে জানান তিনি। সংবাদ মাধ্যমকে প্রিন্স বলেন, ‘বললেই তো এত সহজ নয়। আমরা গিফুতে আছি, আর অনুষ্ঠান হচ্ছে নাগোয়ায়। আমাদের জায়গা থেকে সেখানে যেতে তিন ঘণ্টার পথ।’ 

শনিবারই এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের হকি অভিযান শেষ হয়েছে। সপ্তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে থাইল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে সপ্তম হয় বাংলাদেশ। এরপরই দলের ব্যস্ততা কিছুটা কমে আসে।

প্রিন্স বলেন, ‘আমাদের অভিযান গতকাল শেষ হয়েছে। ম্যাচ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম, সময় পাইনি। তাই এখানে আমাদের শেষ দিন হওয়ায় শহর ঘুরে বেড়ানো এবং কিছু কেনাকাটা করার পরিকল্পনা করেছিলাম।’

সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়েছিল বলে জানান হকি দলের এই কর্মকর্তা। তার দাবি, শনিবার রাতে তাদের বিষয়টি জানানো হয়।

আরিফুল বলেন, শনিবার রাতে তাদের সমাপনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। পরে অবশ্য অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের আর্চারি দলের সদস্যদের পাশাপাশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সাইফ হাসান, লিটন দাসসহ অন্য ক্রীড়াবিদরা উপস্থিত ছিলেন। লিটন দাস বাংলাদেশের পতাকা বাহক ছিলেন। 

গত ১৯ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল ২০তম এশিয়ান গেমস। রবিবার নাগোয়ার পালোমা মিজুহো স্টেডিয়ামে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে মহাদেশীয় এই ক্রীড়া আসরের।