রেকর্ড গড়লেই ২০ হাজার, সেরা অ্যাথলেটের জন্য মোটরসাইকেল

পদক জয়ের লড়াইয়ের পাশাপাশি রেকর্ড গড়ার হাতছানি। তার সঙ্গে সেরা অ্যাথলেট হওয়ার পুরস্কার হিসেবে থাকছে মোটরসাইকেলও। আগামী ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা। তিন দিনের এই আসরে ৫৭টি সংস্থার ৫৬৫ জন অ্যাথলেট অংশ নেবেন।

পুরুষদের ২২টি ও নারীদের ১৮টিসহ মোট ৪০টি ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন অ্যাথলেটরা। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন ৪৩১ জন পুরুষ ও ১৩৪ জন নারী। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের জন্য যথাক্রমে ৬ হাজার, ৫ হাজার ও ৩ হাজার টাকা পুরস্কার রাখা হয়েছে। আর নতুন রেকর্ড গড়া অ্যাথলেট পাবেন ২০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে প্রতিযোগিতার সেরা অ্যাথলেটের জন্য রয়েছে একটি মোটরসাইকেল।

প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে বুধবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জাবের দেশের অ্যাথলেটিকসে প্রতিভা অন্বেষণের পরিকল্পনার কথা জানান। পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমে লক্ষ্মীপুর ও যশোরকে বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পর্যায়ক্রমে আরও ১১টি জেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে ফেডারেশনের। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উঠে আসা সম্ভাবনাময় অ্যাথলেটদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার আওতায় আনতে চায় সংস্থাটি।

তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় বাধা আবাসন ও প্রশিক্ষণসুবিধার সংকট। জাতীয় স্টেডিয়ামের পাশে ভলিবল ফেডারেশনের জায়গায় চার থেকে পাঁচতলা একটি ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। প্রস্তাবিত ভবনে নারী ও পুরুষ অ্যাথলেটদের জন্য পৃথক আবাসনের পাশাপাশি জেলা পর্যায় থেকে বাছাই করা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের থাকার ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে কাছাকাছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ব্যবস্থাও করতে চায় ফেডারেশন।

এবারের প্রতিযোগিতায় ফলাফল নির্ধারণে প্রযুক্তির ব্যবহারেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন জানান, দীর্ঘদিন অকেজো হয়ে পড়ে থাকা ইলেকট্রনিক ফটোফিনিশিং ব্যবস্থা বুয়েটের প্রকৌশলীদের সহযোগিতায় বিনা খরচে সচল করা হয়েছে। ফলে দৌড়ের ইভেন্টগুলোতে সময় নির্ধারণ ও ফলাফল প্রকাশে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা ব্যবহার করা যাবে।

তপন বলেন, ফটোফিনিশিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত ও নির্ভুল ফলাফল নিশ্চিত করতে সাতজন বিএসসি প্রকৌশলী দায়িত্ব পালন করবেন। ফলাফল প্রদর্শনের জন্য থাকবে তিন থেকে চারটি ডিসপ্লে বোর্ড। প্রতিটি ইভেন্ট শেষ হওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

প্রতিযোগিতার সাতটি থ্রো ইভেন্ট ২৩ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। ২৪ অক্টোবর ভোর ৫টায় পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কে হবে ম্যারাথন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে ২৩ অক্টোবর বিকেল ৪টায়।

এবারের প্রতিযোগিতার টাইটেল স্পন্সর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং পাওয়ার্ড বাই আনোয়ার ইস্পাত।