জাতীয় সাঁতারে পদক জিতলে গত বছরও মিলতো আর্থিক পুরস্কার। স্বর্ণজয়ীর জন্য দুই হাজার, রৌপ্যজয়ীর এক হাজার আর ব্রোঞ্জজয়ীর জন্য ছিল ৫০০ টাকা। এবার সেই পুরস্কারই তুলে দেওয়া হয়েছে। রেকর্ড গড়লে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও সাধারণ পদকজয়ীদের জন্য আর কোনো আর্থিক পুরস্কার রাখেনি বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশন।
বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে ম্যাক্স গ্রুপ ৩৫তম জাতীয় সাঁতার, ডাইভিং ও ওয়াটার পোলো প্রতিযোগিতা। মিরপুরের জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে চার দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে ৭৪টি দলের প্রায় ৪৭০ জন পুরুষ ও ১০২ জন নারী সাঁতারু।
মঙ্গলবার পল্টনে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) ডাচ্-বাংলা ব্যাংক অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিযোগিতার বিস্তারিত তুলে ধরে সুইমিং ফেডারেশন। সেখানেই সামনে আসে পদকজয়ীদের জন্য আর্থিক পুরস্কার না রাখার বিষয়টি।
গত বছর অনুষ্ঠিত ৩৪তম জাতীয় সাঁতারে স্বর্ণপদকজয়ীরা পেয়েছিলেন দুই হাজার টাকা, রৌপ্যপদকজয়ীরা এক হাজার এবং ব্রোঞ্জপদকজয়ীরা ৫০০ টাকা করে। এবার সেই পুরস্কার কেন থাকছে না- এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল। বরং রেকর্ডধারীদের পুরস্কারের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রেকর্ডধারীদের অনুপ্রাণিত করতেই পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’ তবে রেকর্ড গড়লে পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কারের নিয়ম গত বছরও ছিল।
এবারের প্রতিযোগিতায় সাঁতারে মোট ৪২টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ব অ্যাকোয়াটিক্সের ইভেন্ট কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গত বছর থেকে পুরুষদের ৮০০ মিটার ফ্রিস্টাইল, নারীদের ১ হাজার ৫০০ মিটার ফ্রিস্টাইল, ৪×১০০ মিটার মিক্সড ফ্রিস্টাইল রিলে এবং ৪×১০০ মিটার মিক্সড মিডলে রিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত বছর থেকে জাতীয় পর্যায়ে নারীদের জন্য তিনটি ডাইভিং ইভেন্ট চালু হয়েছে। ডাইভিংয়ে পুরুষদের তিনটি ও নারীদের তিনটি ইভেন্টের পাশাপাশি ওয়াটার পোলো মিলিয়ে মোট ৪৯টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী সাঁতারুদের জন্য একটি প্রদর্শনী সাঁতার ইভেন্টও রাখা হয়েছে।
বুধবার বিকাল ৩টায় ৩৫তম জাতীয় সাঁতারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।