টেনিসের ‘হল অব ফেমে’ ফেদেরার

ক্যারিয়ারে জিতেছেন ২০টি গ্র্যান্ড স্লাম, বিশ্ব টেনিসের রাজত্বও করেছেন বছরের পর বছর। কিন্তু শনিবার টেনিসের সর্বোচ্চ সম্মানগুলোর একটির সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে আর সামলাতে পারলেন না রজার ফেদেরার। চোখের জলে আন্তর্জাতিক টেনিস হল অব ফেমে আনুষ্ঠানিকভাবে জায়গা করে নিলেন সুইস কিংবদন্তি।

রোড আইল্যান্ডের নিউপোর্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানে টেনিস বিশ্বের বহু কিংবদন্তির উপস্থিতিতে ৪৫ বছর বয়সী ফেদেরারকে হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বক্তব্য দিতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ২০ বারের গ্র্যান্ড স্লামজয়ী এই তারকা।

২০২২ সালে টেনিসকে বিদায় জানানো ফেদেরার দীর্ঘ বক্তব্যে স্মরণ করেন তার ক্যারিয়ারের প্রতিপক্ষ, কর্মকর্তা, সমর্থক, পরিবার ও বন্ধুদের। পুরো বক্তব্যজুড়েই ছিল তার প্রিয় খেলাটির প্রতি ভালোবাসার এক আবেগঘন প্রকাশ।

বলছিলেন, ‘এটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা সম্মান। তারা এটিকে হল অব ফেম বলে, কিন্তু খ্যাতি কখনোই আমার লক্ষ্য ছিল না। আমার লক্ষ্য ছিল এমন কিছু করে জীবন কাটানো, যেটা আমি ভালোবাসি—এমন মানুষদের সঙ্গে, যারা আমার মতোই এটিকে ভালোবাসে।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে নিজের ক্যারিয়ারের কিছু কম পরিচিত পরিসংখ্যান তুলে ধরে পরিবেশ কিছুটা হালকা করে দেন আটবারের উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন, ‘আমি সুস্পষ্ট পরিসংখ্যানের কথা বলছি না। কতটি মেজর জিতেছি কিংবা কত সপ্তাহ এক নম্বরে ছিলাম সেসবও নয়। আমি এমন সংখ্যার কথা বলছি, যেগুলো আসলে একটি ছবি আঁকে। ১৯৯৮ সালে শুরু থেকে ২০২২ সালে অবসর নেওয়া পর্যন্ত আমি ৫ হাজারের বেশি হেডব্যান্ড পরেছি। এটা (বিয়র্ন) বিয়র্ন বোর্গ ও (জন) ম্যাকেনরোর মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি।’

এরপর আরও মজার তথ্য দেন তিনি, ‘আর যদি এটাকে চমকপ্রদ মনে হয়, তাহলে আমি সম্ভবত ৭ হাজারের বেশি জোড়া মোজা পরেছি। এটা আমার বেশির ভাগ প্রতিপক্ষের প্রায় দ্বিগুণ। কারণ আমি একসঙ্গে দুই জোড়া করে পরতাম।’

তবে হাস্যরসের আড়ালেই ছিল গভীর আবেগ। ফেদেরার বলেন, হল অব ফেমে জায়গা পাওয়ার অনুভূতিকে আসলে কোনো সংখ্যা দিয়ে মাপা সম্ভব নয়, ‘সত্যি বলতে, এখানে থাকার অর্থ কী, তা পরিমাপ করার কোনো উপায় নেই। এটাকে ভাষায় প্রকাশ করাও কঠিন।’