অশ্বিন-কোহলিই হুমকি বাংলাদেশের!

qck_1486547151হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্ট ম্যাচটিতে টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে এক ও দুই নম্বরে থাকা অশ্বিন ও কোহলিকে হুমকি মনে করছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে এক নম্বর দল বিরাট কোহলির ভারত। বোলিংয়ে শীর্ষে আছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন, দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন রবিন্দ্র জাদেজা। ব্যাটিংয়েও বিরাট কোহলির অবস্থান দ্বিতীয়তে। এমন দলের বিপক্ষে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ খেলতে নামবে ‘ঐতিহাসিক টেস্ট’। বলতে গেলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান ও বোলারদের ভারতীয় দুই ক্রিকেটার অশ্বিন ও কোহলির বিপক্ষেই বেশি লড়াই করতে হবে।

টেস্ট প্রাপ্তির ১৬ বছর পর এই প্রথম ভারতের আমন্ত্রণে হায়দরাবাদে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। মুশফিকের দৃষ্টিতে এই টেস্টটি ঐতিহাসিক না হলেও কোহলির দৃষ্টিতে ঐতিহাসিক এক টেস্ট।

বুধবার ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে অশ্বিন ও কোহলি বাংলাদেশের জন্য হুমকি কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মুশফিক বলেছেন, ‘বিরাট কোহলি বলেন আর অশ্বিন বলেন, তারা উঁচু মাপের ক্রিকেটার। তারা ভালো করলেই যে দল জিতে যাবে-সেইসব ভাবার কোনও কারণ নেই। আমাদের বিপক্ষে জিততে গেলে দল হিসেবেই খেলতে হবে ভারতকে। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দলগত নৈপুণ্য দেখিয়েই জিতেছে ভারত। নাম্বার ওয়ান টেস্ট টিম হিসেবে ভারতের সবচেয়ে বড় অর্জন এটাই।’

বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটিং লাইনআপ ভারতের। এর মধ্যে বিরাট কোহলি আছেন সেরা ফর্মে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ টেস্টে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেছেন তিনি। মুম্বাইতে প্রথম ইনিংসে ওকসের বলে আউট হওয়ার আগে ২৩৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। সবমিলিয়ে ওই সিরিজে ৬৫৫ রান করেছেন ভারতীয় অধিনায়ক। এদিকে বল হাতে ইংলিশদের গুড়িয়ে দিয়েছেন দুই স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন (২৮) ও রবিন্দ্র জাদেজা (২৬) উইকেট।

সেই কাহলি-অশ্বিন-জাদেজার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এমন তিন ক্রিকেটার যখন সামনে-তখন যে কোনও দলের জন্যই তারা হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হবেন। এ প্রসঙ্গে মুশফিক বলেছেন, ‘আমার মনে হয় শুধু দুইজন নয়, পুরো দলই হুমকি। কারণ খেলাটা ভারতে। কোহলি অনেক ভালো ফর্মে আছেন। সেক্ষেত্রে সে আমাদের জন্য বড় হুমকি।’

একই সঙ্গে অশ্বিনকেও হুমকি মনে করে বাংলাদেশ, ‘আমাদের বিপক্ষে টেস্ট জিততে গেলে অবশ্যই ২০ উইকেট তুলে নিতে হবে। আমরা যদি অশ্বিনকে ভালো ভাবে খেলতে পারি, তাহলে এটা তার জন্য অনেক কঠিন হবে। তবে সবকিছু মিলিয়ে অশ্বিন ও কোহলি আমাদের জন্য হুমকি।’

নিজেদের পরিকল্পনা নিয়ে মুশফিক আরও যোগ করেন, ‘এই মুহূর্তে বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি। আমাদের চেষ্টা থাকবে বিরাট কোহলি যেন বেশি অবদান রাখতে না পারে। ওকে অল্প রানে আটকানো গেলে ভারতকে কম রানে আটকানো সহজ হবে। সত্যি কথা বলতে আসলে পরিকল্পনা করে কোনও লাভ নেই। পরিকল্পনাগুলো মাঠে বাস্তবায়ন করাটাই আসল কাজ।’

নিউজিল্যান্ডে ব্যক্তিগত অনেক পারফরম্যান্স হলেও দলীয় পারফরম্যান্স হয়নি বলেই ফলাফল নিজেদের পক্ষে আসেনি। ঠিক এমনটাই মনে করেন মুশফিক। ভারতের বিপক্ষে তাই সবার ভূমিকা আশা করছেন তিনি, ‘শীর্ষ সাত ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব থাকে শুরুটা ভালো করে সেটা বজায় রেখে ইনিংসটাকে বড় করা। টেস্ট ক্রিকেটে ৫০ প্লাস কিংবা ৬০ প্লাস রান কখনোই যথেষ্ট নয়।’

নিউজিল্যান্ড সিরিজে সাব্বির ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাট সেভাবে হাসেনি। এ বিষয়ে মুশফিক বলেছেন, ‘নিউজিল্যান্ড সিরিজে হয়তো তারা পারেনি। আমি জানি তাদের দক্ষতা কতখানি। আশা করবো, ভালো শুরু করে তারা সেটা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারবে। এছাড়া সাব্বিরকে নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। ওর জন্য এখানে একটা বড় সুযোগ। প্রথমবার এখানে সে খেলবে। সাব্বির নিজেও জানে দুটি হাফসেঞ্চুরি করার পরও দল হেরেছে। সে আরও রান করতে মুখিয়ে আছে।’

তাদের মতো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের ভুলগুলো ভারতের বিপক্ষে চান না মুশফিক, ‘নিউজিল্যান্ডে ব্যাটসম্যানরা বড় ইনিংস খেলার পরও আমাদের হারের বড় একটি কারণ হচ্ছে অন্য খেলোয়াড়দের সহযোগিতার অভাব। দলের সবাই এগিয়ে না এলে যে কোনও দলের জন্যই কাজটা কঠিন হয়ে যায়। খেলাটা দলীয় প্রচেষ্টার মাধ্যমে হতে হবে। আমি দেখতে মুখিয়ে আছি, আমাদের সেরা ৭ ব্যাটসম্যান সবাই বড় রান করবে না। কমপক্ষে দুই-তিন জন যারাই বড় রান করবে তাদের সঙ্গে কিছুটা হলেও অন্য ব্যাটসম্যানরা রান করে কিছুটা সহযোগিতা করবে।’

/আরআই/