ভারতের মাটিতে সঠিক সময়েই টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ!

টেস্ট প্রাপ্তির ১৬ বছর পর এই প্রথম ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলার আমন্ত্রণ পেয়েছে বাংলাদেশ। এখানে অবশ্য ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের চাওয়াটাই বেশি ছিল। এত বছর পর ৯ ফেব্রুয়ারি সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, হায়দরবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে একমাত্র টেস্ট দিয়ে সেই খড়া কাটাবে বাংলাদেশ।

অবশ্য সবজায়গায় আক্ষেপ থাকলেও বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ হাথুরুসিংহে মনে করেন সঠিক সময়েই ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ! অথচ হাথুরুসিংহের আগেই সংবাদ সম্মেলনে কম টেস্ট খেলার আক্ষেপের কথা জানিয়ে গেছেন মুশফিক! তারও আগে ভারতীয় অধিনায়ক বাংলাদেশের পক্ষ হয়ে টেস্ট আরও বেশি খেলার কথা জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি বলেছেন, ‘ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের আরও বেশি ম্যাচে সুযোগ পাওয়া উচিত।’

কিন্তু বাংলাদেশের কোচ তেমনটা ভাবছেন না। টেস্ট ক্রিকেটের এক নম্বর দল ভারতের বিপক্ষে এই টেস্টটি দিয়ে নিজেদের জানার একটি সুযোগ হিসেবেই দেখছেন তিনি, ‘বাংলাদেশ এখন বড় দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছে। ওয়ানডেতে ভারতের বিপক্ষে দেশের মাটিতে ভালো করার কারণেই হয়তো ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ। আমি মনে করি, ভারতের সঙ্গে তাদের মাটিতে খেলার এটিই আদর্শ সময়। নিজেদের বিচার করতে এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর কিছুতেই হতে পারে না।’ হাথুরুসিংহের এই কথাতেই স্পষ্ট ভারতের বিপক্ষে এক প্রকার কঠিন পরীক্ষাতেই বসতে হচ্ছে তার শিষ্যদেরকে!

সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ দলকে সবাই বলছে টেস্ট খেলতে পারে না। তাদেরকে আপনারা খেলার সুযোগও দেবেন না! তাহলে কীভাবে বুঝতে পারবেন টিম উন্নতি করছে। আমার মনে হয় এই বছরটা যদি আমরা ভালোভাবে খেলতে পারি। আমাদের যে সুযোগটা এসেছে, সেটা কাজে লাগাতে পারলে সামনে হয়তো আরও বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পাবো। টেস্ট ক্রিকেট এমন একটি খেলা, যেখানে খেলার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’

এদিকে সৌম্য সরকার ফর্ম ফিরে পাওয়াতে নির্ভার হাথুরুসিংহে, ‘সৌম্যর রান পাওয়াটা ভালো ব্যাপার। স্বাভাবিকভাবেই সে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। আশা করি সে এটা ধরে রাখতে পারবে।’

নিউজিল্যান্ড সিরিজে মাহমুদউল্লাহর বাজে ফর্ম এই সিরিজে কেটে যাবে বলে মনে করেন হাথুরুসিংহে, ‘নিউজিল্যান্ড সিরিজে মাহমুদউল্লাহর রান না পাওয়া একটা বড় সমস্যা। আমি আশা করছি হায়দরাবাদ টেস্টে সে রানে ফিরবে।’

বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বেশ আবেগপ্রবণ। সেই অর্থে দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটারই তাই। হাথুরুসিংহে মনে করেন আবেগকে কাজে লাগিয়ে ভালো কিছু করতে হয়, ‘ভারতীয় অধিনায়ক আবেগকে কাজে লাগিয়েই নিজের পারফরম্যান্স উন্নতি করেছে। আমাদেরও সেটাই করতে হবে। আমরা আবেগী হতেই পারি। তবে আবেগকে কাজে লাগাতে হবে। একজন ক্রিকেটার যত বেশি খেলবে, ততবেশি সে তার আবেগকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে পারবে।’

/আরআই/এফআইআর/