ক্রিকেট বিশ্বে পরাশক্তি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। তবে এই অর্জনটুকু শুধু ঘরের মাটিতেই! গেলো দুই বছর ধরে ক্রিকেট বিশ্বের রাঘব বোয়ালদের ঘরের মাটিতে ডেকে এনে নাস্তানাবুদ করেছে টাইগাররা। বিশেষ করে, গত বছর পাকিস্তান-ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকাকে বধ করার পর বাংলাদেশকে নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়। যার ধারাবাহিকতা চলতি বছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও ছিল। সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে হারলেও দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলে নাম কুড়িয়েছে সাকিব-তামিমরা।
২০১৪ সালের শেষের দিকে মাশরাফির হাতে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের চিত্রনাট্যটা বদলে যেতে থাকে। এই চিত্রনাট্যের রংটা আরও রাঙিয়ে তুলতে মাশরাফির জন্য নিউজিল্যান্ড সফর তাই একটা বড় সুযোগ। দ্বিতীয়বার অধিনায়ক হওয়ার পর এই প্রথম দলকে নিয়ে বিদেশ সফরে এসেছেন।
আর তাইতো ঘরের মাঠের চ্যালেঞ্জ জয় করে বাংলাদেশের নতুন চ্যালেঞ্জটা বিদেশের মাটিতে ভালো করা-এটা মাশরাফি ভালো করেই জানেন। সেই লক্ষ্য নিয়েই তৃতীয়বারের মতো কিউইদের ডেড়াতে খেলতে গেছে বাংলাদেশ। যদিও ওমন সিমিং কন্ডিশনে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জটা একটু বেশিই! তার পরেও গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের সাফল্য আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে বাংলাদেশকে।
সবকিছু মিলিয়ে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ, কিউইদের কন্ডিশনে কেমন খেলে? তা দেখতে কোটি চোখ তাকিয়ে থাকবে নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশ সিরিজের দিকে। সোমবার ভোর চারটায় ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভাল স্টেডিয়ামে দুই দল মুখোমুখি হবে। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল নাইন ও স্টার স্পোর্টস।
এই ভেন্যুটি টাইগারদের কাছে নতুন। কারণ এর আগে এখানে কোনও ম্যাচ খেলেনি বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে তাই নতুন ভেন্যুতে নতুন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে তাদের সামনে।
কিউইদের বিপক্ষে নতুন এই চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াতে ক্যাম্প করেছে ৮ দিন। সেখানে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে নিউজিল্যান্ড একাদশের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচেও অংশ নিয়েছে তারা। তাই সব মিলিয়ে ব্ল্যাক ক্যাপসদের বিপক্ষে ২২ গজের লড়াইয়ে পুরোপুরি প্রস্তুত মাশরাফি-সাকিবরা। মাশরাফিদের জন্য বাড়তি আত্মবিশ্বাস হতে পারে সম্প্রতি ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের ছন্দে থাকার বিষয়টি।
পরিসংখ্যান ঘেঁটে জানা গেলো, ৫০ ওভারের ক্রিকেটে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ২৫ বার। যার ১৭টিতে জিতেছে কিউইরা। বাংলাদেশ জিতেছে আটটিতে। যার সবগুলোই আবার নিজেদের মাটিতে।
বাংলাদেশ দল দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ খেলতে এখন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড সফর করেছে দুইবার। ২০০৭-০৮ ও ২০০৯-১০ এই দুইবারের সফরে কোনও ফরম্যাটেই ম্যাচ জিততে পারেনি টাইগাররা। ওখানে মোট ৭টি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। সবগুলোতেই হারতে হয়েছে অতিথিদের।
এবার তাহলে কী ঘটতে চলছে? বাংলাদেশ কি পারবে প্রথমবারের মতো কিউইদের রুখে দিতে। বাংলাদেশের শেষের পরিসংখ্যানগুলোতে চাইলে এমন আশা করাই যায়।
বাংলাদেশ দল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ বার মুখোমুখি হয়েছিল গত ওয়নাডে বিশ্বকাপে হ্যামিল্টনে। ওই ম্যাচটিতে ভালো খেলেও হেরে গিয়েছিল টাইগাররা। এর আগে ৮ মুখোমুখিতে ৭ বারই জিতেছিল বাংলাদেশ। বাকি একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। এই সাফল্য হয়তো আত্মবিশ্বাসী করবে টাইগারদের; হয়তো সোমবারেই আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! আগের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়বে বাংলাদেশ।
আর এই বাংলাদেশকে নিয়ে যে কতটা সতর্ক কিউইরা; তা কোচ মাইক হেসনের কথাতেই স্পষ্ট। বেশ কয়দিন আগেই তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ দলে এখন অনেক ভালো ভালো পারফরমার রয়েছে। চার-পাঁচ বছর আগের দলটি এখন অনেক বেশি পরিণত। তারা সম্প্রতি দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছে। আমাদের জন্য সত্যি বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।’
নিউজিল্যান্ড সফর মানেই বাংলাদেশের হারের বৃত্তে বন্দী থাকা। এবারও কি তাই হবে? নাকি বদলে যাওয়া বাংলাদেশ ব্ল্যাক ক্যাপসদের মাটিতে নামিয়ে আনবে। যেভাবে ইংলিশদের গুঁড়িয়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো টেস্ট জিতেছিল! এমন কিছু দেখার অপেক্ষাতেই গোটা বাংলাদেশের সঙ্গে নিউজিল্যান্ড প্রবাসী দর্শকরাও!
/এফআইআর/