তামিমের কথায় যেমন আত্মবিশ্বাস, দলের অন্য খেলোয়াড়দের অঙ্গভঙ্গিও তাই মনে হয়েছে। মঙ্গলবার টিম হোটেলে গিয়ে পাওয়া গেছে এর প্রমাণ। খেলোয়াড়রা সবাই চনমনেই আছেন। ক্রাইস্টচার্চের ঠান্ডা আবহাওয়াও নেলসনে নেই। মঙ্গলবার নেলসন পৌঁছে টিম বাংলাদেশ উঠেছে স্থানীয় ট্রেইলওয়েজ হোটেলে। এটি নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণ দ্বীপ শহর নেলসনের পাঁচতারকা হোটেলগুলোর একটি।
তামিম বললেন, ‘এখানে আমরা এর আগে একটিমাত্র খেলা খেলেছিলাম এবং সেটাই জিতেছি। গত বিশ্বকাপের সময় স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে আমরা জিতেছি বড় রান তাড়া করে।’ তবে উইকেটের চেহারা বদলে যাওয়ার শঙ্কা তার মনে, ‘তখন এখানে যে উইকেট পেয়েছিলাম তা এবার নাও পেতে পারি। কিন্তু মাঠটির ব্যাপারে আমাদের যে ধারণা আছে তা এ যাত্রায় বেশ কাজে দেবে। ক্রাইস্টচার্চের ম্যাচের অভিজ্ঞতায় আমাদের ধারণা হয়েছে প্রতিপক্ষকে ২৮০-৩০০ রানের মধ্যে বেঁধে ফেলতে পারলে জয় সম্ভব। এমন স্কোর তাড়া করে জয়ের লক্ষ্য আমাদের থাকবে।’
নেলসনের খেলায় ক্রাইস্টচার্চের খেলার প্রভাব থাকবে কিনা জানতে চাইলে তামিম বলেন মোটেই না, ‘সেখানে আমরা ভালো খেলিনি ঠিক, কিন্তু সেখানকার ভুলগুলো থেকে শুধরে ভালো খেলে জয় বের করে আনা সম্ভব। ব্যক্তিগতভাবে সবাই যার যার ভুলগুলো শনাক্ত ও শুধরানোর কাজ করছে। এখন টিম মিটিংয়ে বসে কোথায় কী উন্নতি করতে পারি তা আমরা ঠিক করব।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘৩৪০ রান তাড়া করা যায়। বিশ্ব ক্রিকেটে এটা হচ্ছে। আমাদের ব্যাপারটা হলো তিনশ’র বেশি রান তাড়া করে আমাদের জয়ের অভ্যাসটি সে রকম নেই। সে রকম রান তাড়া করে জয়ের অভ্যাস করাটা এখন আমাদের টার্গেট।’ বাংলাদেশের কন্ডিশন উল্লেখ করে তামিম বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আমরা যে কন্ডিশনে খেলি সেখানে তিনশ রান তাড়া করে জেতা খুব একটা হয় না। ২৬০-২৮০’র বেশি রান হয় খুব কম। কিন্তু এখানকার উইকেটে ৩২০-৩৩০ এমন রান প্রায় হয়। এখান থেকে আমাদের সেই অভ্যাসটা গড়ে তুলতে হবে।’
পরিকল্পনামাফিক কাজগুলো করতে পারলে না জেতার কোন কারণ নেই মনে করেন তামিম। এ দলটির প্রতি দারুন বিশ্বাস আছে তার, ‘আমরা সব করতে পারি।’ বাংলাদেশের মারকুটে ওপেনার বলেন, ‘আমরা যখন থেকে সাফল্য পেতে শুরু করেছি তখন থেকে প্রতিটি ম্যাচকেই আমরা আলাদা করে দেখি। প্রতিটি ম্যাচ আমরা জিততে চাই। প্রতিটি ম্যাচ জেতা আমাদের সম্ভব নয় কিন্তু চেষ্টাতো করি।’
বৃহস্পতিবারের ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ ম্যাচ সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচ। নেলসনের মাঠে গত বিশ্বকাপে ৯৫ রান করেছিলেন তামিম। সে প্রসঙ্গ তুলতেই মজা করে বলেন, ‘এই চাপটা দিলেন! যে কোনও মাঠে ভালো করাটা অনুপ্রেরণার। এর মানে এই নয় যে আবার নেমেই ৯৫ রান করে ফেলব। শূন্য রানেওতো আউট হতে পারি। শূন্য থেকে শিখতে হবে।’
/এফএইচএম/