অথচ গত বিশ্বকাপে নেলসনের এই স্যাক্সটন ওভালেই স্কটল্যান্ডের ৩১৮ রান তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডকে ২৫১ রানে বেঁধে ফেলেও ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় পারল না টাইগাররা।
দলের জয়ে আশাবাদী হয়ে অল্প সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি নেলসনের মাঠে উৎসবের নানা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন। বাংলাদেশসহ সারা দুনিয়ার কোটি কোটি ক্রিকেট পাগল ভক্তরাতো বটে, নেলসনের মাঠে সমবেত এই প্রবাসীরাও মন খারাপ করে আক্ষেপ করতে করতে মাঠ ছেড়েছেন। এদের কষ্টটা অনেক বেশি হওয়ার, কারণ বড় আশা নিয়ে এরা অনেক দূর থেকে খেলা দেখতে নেলসন এসেছিলেন। কেউ অস্ট্রেলিয়া থেকে, কেউবা ক্রাইস্টচার্চ-অকল্যান্ড থেকে। উল্লেখ্য, নেলসনে কোনও বাংলাদেশি নেই।
কথা ছিল রান ২৮০-৩০০’র মধ্যে হলে জেতা সম্ভব নেলসনের মাঠে। সেখানে বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডকে বেঁধে ফেলে ২৫১ রানের মধ্যে। কিন্তু এরমধ্যেও শুরুর দিকে গতির রাজা কিউই বোলারদের দেখেশুনে খেলতে হয়েছে। সাউদিকে তুলে মারতে গিয়ে ল্যাথামের ক্যাচ হয়ে যখন ১৬ রানের মাথায় সাজঘরে ফিরে গেলেন তামিম ইকবাল। তখন ইমরুল কায়েস এবং সাব্বির আরও দেখেশুনে খেলতে গিয়ে মন্থর হয় রানের চাকা। আস্কিং রানরেট সাড়ে ৫ পেরিয়ে যায়। কিন্তু এরপরও এই জুটিটিই আশা ছড়াচ্ছিল। কিন্তু সাব্বিরের রান আউটটায় বাংলাদেশ যে খেই হারাল, এরপর ৩১ রানের মধ্যে খুইয়ে বসে ৫ উইকেট। ব্যাটসম্যান সাকিব-মাহমুদউল্লাহ যাদের ওপর দায়িত্ব ছিল তারা কেউ দায়িত্ব পালন করতে পারলেন না। এরপর কী আর বাংলাদেশ জেতে?
খেলা শেষের মিডিয়া ব্রিফিং’এ মনভাঙ্গা ক্যাপ্টেন মাশরাফিও বলেছেন, ‘এমন সহজ একটি জয়ের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলাম না। এখন পরের ম্যাচে জয়ের জন্যে ছেলেদের উদ্ধুদ্ধ করার কাজ শুরু করতে হবে।’ মাশরাফি যখন এই ব্রিফিং করছিলেন বাইরের অল্পস্বল্প প্রবাসী বাংলাদেশিদের কেউ আর মাঠে নেই। বিজয়ী কিউই দলের খেলোয়াররা মাঠের একপাশে হেঁটে অপেক্ষমান বাচ্চাদের অটোগ্রাফ দিচ্ছিলেন। এই কাজটি বৃহস্পতিবার নেলসনে মাশরাফিদেরই করার কথা ছিল।
/এফএইচএম/