বৃহস্পতিবার নেলসনের স্যাক্সটন ওভালে ব্যাটিং বিপর্যয়ে ওয়ানডে সিরিজটা তো হাতছাড়া হয়ে গেছে আগেই। বোলাররা জয়ের একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন। শক্তিশালী নিউজিল্যান্ডকে তাদের মাটিতে বেঁধে ফেলেছিলেন ২৫১ রানে। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় জয় পাওয়া হয়নি। রিচমন্ড পাহাড়ে গিয়ে ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশের কোটি সমর্থকদের হতাশার কান্না। শনিবার সিরিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচটিও হবে একই ভেন্যুতে। নেলসনের স্যাক্সটন ওভালে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে অধরা জয় কি ধরা যাবে এই শেষ ওয়ানডে ম্যাচে?
বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের শারীরিক ভাষা দেখে আশা করতে ইচ্ছে করে। দল হারলে সমর্থকরা আশাহত হন। কষ্ট পান। কাঁদেনও। এরপরও আশাটা ছাড়েন না। সিরিজ চুলোয় যাক, এরপরও কে হায় মন থেকে হোয়াইটওয়াশ হতে চায়? হোয়াইটওয়াশ এড়াতে একটি জয়ের আশা নিয়েই শনিবার মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল।
শুক্রবার খেলোয়াররাও জানালেন জয়ের প্রত্যয়; বললেন, ‘প্রতিটি ম্যাচে আমরা জয়ের আশা নিয়ে মাঠে নামি। ক্রাইস্টচার্চে চেষ্টা করেছি। রানও ভালো করেছি। বড় সুযোগ তৈরি হয়েছিল নেলসনে। ভুল হয়ে গেছে। সুযোগটি কাজে লাগাতে পারিনি। তবু আপ্রাণ চেষ্টা করব শনিবারের ম্যাচটা যাতে জিতি।’
এই জয় চেষ্টার মাঝে ভিন্ন এক দুঃসংবাদও আছে। শনিবার বৃষ্টি হানা দিতে পারে নেলসনের মাঠে। স্থানীয় আবহাওয়া বিভাগ বলেছে এখন পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন বৃষ্টির সম্ভাবনা পঞ্চাশ-পঞ্চাশ। বাতাস বইতে পারে ঘন্টায় ২১ কিঃমিঃ গতিতে। নিউজিল্যান্ডে এখন গ্রীষ্মকাল হলেও পাহাড় দুহিতা নেলসনে বৃষ্টির সঙ্গে শীতও নামে। এদেশের বৃষ্টি-বাতাস-শীতের সঙ্গে উইকেটের আচরণও রহস্যময়। বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের খেলোয়াড়দের বেশিরভাগ খেই হারান এসব পরিবেশে। যদিও শুক্রবার টিম টাইগার্সের সদস্যরা বলেছেন নিউজিল্যান্ডের পরিবেশের সঙ্গে তারা অভ্যস্থ-ধাতস্থ হয়ে গেছেন।
নেলসন নগরকেন্দ্রের পাশে হোটেল ট্রেইলওয়েজে উঠেছে টিম বাংলাদেশ। ছোট শহর। সে কারণে প্রায় সিটি সেন্টারের আশেপাশেই টিম বাংলাদেশের কোনও না কোনও সদস্যকে হাঁটাচলা করতে দেখা যায়। বিশেষ করে খেলোয়াড়রা বেরোন বাংলা খাবারের সন্ধানে। দামি হোটেলে তাদেরকে রাখা হলেও সেখানকার খাবার তাদের মুখে রোচে না। নেলসনে কোনও বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট নেই। নগরকেন্দ্র লাগোয়া একটি ভারতীয় রেস্টুরেন্টেই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটান বাংলাদেশি খেলোয়াড়রা।
কিন্তু হাই-হ্যালো, সালাম, ভাই কেমন, দুপুরে খেয়েছেন এসব কুশল কথাবার্তা তো থেমে থাকে না। কথায় কথায় কামরুল ইসলাম রাব্বি বললেন, ‘আজ রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ) ভাই জুমার নামাজ পড়িয়েছেন। এমনকি খুতবা পর্যন্ত।’ এ কথার মধ্যে মাহমুদউল্লাহ এসে পড়েন অপেক্ষমান মিডিয়ার ক্যামেরার সীমায়। রাব্বির কথায় তাকে বেশ লাজুক মনে হয়। নামাজে গিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিমও। হোটেলে ঢুকতে ঢুকতে তার সঙ্গে কথা হয়। চোট কাটিয়ে খুব তাড়াতাড়ি মাঠে ফেরার আশার কথা জানান মুশফিক। বললেন, ‘এমআরআই রিপোর্টে আমার গুরুতর সমস্যা পাওয়া যায়নি। আমি নিজেও অনেক ভালো বোধ করছি। আশা করছি টেস্ট সিরিজের আগেই সম্পূর্ণ সেরে উঠব। আপনারা সবাই আমার জন্যে দোয়া করবেন।’
শুক্রবার টিম বাংলাদেশের অনুশীলন না থাকায় খেলোয়াড়রা বেশ আয়েশি মেজাজে ছিলেন। দুপুরের খাবার শেষে তাদেরকে নেলসেন ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হয় টিম বাসে। এর আগে শনিবারের ম্যাচ নিয়ে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেন প্রথমে ইমরুল, পরে সাব্বির। বৃহস্পতিবারের ম্যাচে এ দু’জনের জুটিটাই সবচেয়ে লম্বা হয়েছিল। ঝড়ো গতির ইনিংস খেলার আশা জাগিয়েছিলেন সাব্বির। কিন্তু তার রান আউট সবকিছু ওলটপালট করে দেয়। কিউইরা সেই যে পেয়ে বসে বাংলাদেশ দলকে, আর কাউকে দাঁড়াতেই দেয়নি। এরজন্যে সাব্বিরের রান আউটটাকেই ধরা হয় ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। যার নায়ক হবার কথা ছিল তিনি হন খলনায়ক। কিন্তু সাব্বির এরজন্যে ইমরুলকে দোষারোপ করলেননা। ইমরুলও সাব্বিরকে না। ভুল স্বীকার করে দু’জনেই বলেন আর এমন হবে না। তবে ইমরুল স্বীকার করেন সাব্বিরের বিদায়ের পর মাহমুদউল্লাহ-সাকিবও যখন ফিরে গেলেন তখন মোসাদ্দেককে নিয়ে তিনি একটি জুটি গড়ার চিন্তা করেছিলেন। কিন্তু মোসাদ্দেকও আউট হয়ে গেলে তিনি কিছু নার্ভাস হয়ে পড়েন। এরপরতো সব শেষ। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে পরের ম্যাচগুলোয় আরও ভালো খেলার প্রতিশ্রুতি দিলেন ইমরুল-সাব্বির।
বাংলাদেশ দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু এখন দলের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডে আছেন। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত শনিবারের একাদশ ঘোষণা করা না হলেও তিনি আভাস দিলেন, দলের সঙ্গে তরুণ যে সব প্রতিভাকে উড়িয়ে আনা হয়েছে তাদের কাউকে কাউকে আগামী ম্যাচগুলোয় সুযোগ দেওয়ার চিন্তা তারা করছেন।
দলসূত্রগুলো আভাস দিয়েছে শনিবারের ম্যাচে ফিরে আসতে পারেন মুস্তাফিজুর রহমান। বৃহস্পতিবারের ম্যাচে তাকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছিল। মুস্তাফিজ ফিরলে বাদ পড়তে পারেন শুভাশীষ রায়। বৃহস্পতিবারের ম্যাচে আইসিসির তিরস্কার জুটেছে অভিষিক্ত তানবীর হায়দারের ভাগ্যে। শনিবারের ম্যাচে তাকে বাদ দিলে ফিরে আসতে পারেন সৌম্য সরকার।
/এফএইচএম/