মিডল অর্ডার ধসেই টাইগারদের বিপর্যয়

256984মিডল অর্ডারের ব্যাটিং ব্যর্থতা নিউজিল্যান্ডে একদিনের সিরিজে বাংলাদেশের হোয়াইটওয়াশের অন্যতম কারণ। প্রথম ম্যাচে ৩৪১ রানের নিচে চাপা পড়ার পরও বাংলাদেশের মিডল অর্ডার চাপটা সয়ে এগিয়ে চলেছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডেতে মিডল অর্ডার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিলে নিউজিল্যান্ড সিরিজটিকে করে ফেলে একপেশে। 

প্রথমে অবশ্য আসতে পারে মুশফিকুর রহিমের কথা। মিডল অর্ডারে বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য নাম মুশফিক। প্রথম ওয়ানডেতে ৪২ রানের মাথায় হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পড়ার কারণে রিটায়ার্ড হার্ট হন। তিনি বাকি দুটি ওয়ানডে তো খেলতেই পারেননি, প্রথম টি-টোয়েন্টির স্কোয়াডেও নেই। মুশফিকের অনুপস্থিতি মিডল অর্ডারকে করে ফেলে দুর্বল। প্রতিরোধ গড়া বা রান করা কোনোটাই বাংলাদেশ আর করতে পারেনি। 

মিডল অর্ডারে সবচেয়ে বেশি ব্যর্থ হয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। তিন ম্যাচে তার রান ০, ৩, ১। একটু পেছন দিকে তাকালেই দেখা যাবে, সাম্প্রতিক অতীতে বিশেষ করে বিশ্বকাপে ও বিভিন্ন হোম সিরিজে সাফল্য ভাস্বর বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের অন্যতম স্তম্ভ মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু ব্যাট হাতে এবার একদম অফ ফর্মে থাকায় বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ হয়ে পড়ে ভঙ্গুর। তিন ম্যাচে ৪ রান মাহমুদউল্লাহর নামের পাশে বড্ড বেমানান।

ওপেন করার চাপ মুক্ত করতে প্রথম ওয়ানডেতে সৌম্য সরকারকে নামানো হয়েছিল ওয়ান ডাউনে। মিডল অর্ডারের মাথা বলা যায যে স্থানটিকে। ১ রান করে  বিদায় নেন সৌম্য। বাকি দুটিতে আর জায়গা হয়নি তার। 

তিন, চার, পাঁচ ও ছয় নম্বর পজিশনকে নিয়ে যে মিডল অর্ডার, সেটি বাংলাদেশকে সর্বাধিক রান ১০২ রান দিয়েছে প্রথম ওয়ানডেতে। এর মাঝে ৫৯ ছিল সাকিব আল হাসানের আর ৪২ মুশফিকের। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তিন নম্বরে ব্যাট করা সাব্বির রহমানের ৩৮ রানসহ সাত নম্বর পর্যন্ত মোট পাঁচ জনের সংগ্রহ ৫১ রান। আর তৃতীয় ওয়ানডেতে ছয় নম্বর পর্যন্ত মোট চার জন ব্যাটসম্যানের সংগ্রহ ৫১। নিউজিল্যান্ড বোলাররা বাংলদেশের মিডল অর্ডারে বাররার হানা দিয়ে সফল হয়েছেন আর জিতেও নিয়েছেন সিরিজ।

টপ অর্ডারে দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস তিন ম্যাচ ১১৩ ও ১১৯ রান করেছেন। প্রতিটি ম্যাচেই দলকে ভালো সূচনা দিয়েছেন তারা। কিন্তু মিডল অর্ডার সেই ধারাবাহিকতা রাখতে পারেনি। লোয়ার  অর্ডারে অবশ্য একজন রেখেছেন প্রতিশ্রুতির স্বাক্ষর। তিনি উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান। মুশফিকের পরিবর্তে খেলতে নেমে দুটি ম্যাচে তিনি করেছেন ২৪ ও ৪৪। তার ব্যাটিংয়ে ছিল সাহস ও দায়িত্বের ছাপ। টেকনিক্যালি তিনি ছিলেন সুদৃঢ়। বলের গুনাগুন বিচার করে নিউজিল্যান্ডের পিচে স্কয়ার অব দ্য উউকেট অথবা পুল করে খেলে তিনি নিজেকে নির্ভরযোগ্য হিসেবেই পরিচিত করেছেন। 

সামনে টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট সিরিজ, টাইগারদের মিডল অর্ডার তার ফর্ম ফিরে না পেলে আরও বিপর্যয় আসন্ন।

/এফএইচএম/