বাংলাদেশের দরকার ১৯৬ রান

সৌম্য-সাব্বিরের আউটে পথ হারাল বাংলাদেশ

পুরো ম্যাচজুড়ে বাংলাদেশের পথের কাঁটা হয়ে ছিলেন মুনরোমাউন্ট মাঙ্গানুইতে শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। শুরুটা আশা জাগানিয়া হলেও কলিন মুনরো ও টম ব্রুসের দুটি শক্ত ইনিংসে সুবিধা করতে পারেনি সফরকারীরা। সিরিজে ফিরতে বাংলাদেশের দরকার ১৯৬ রান। 

লক্ষ্যে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মাত্র ৩ বল খেলে রানের খাতা না খুলেই মিচেল স্যান্টনারের বলে টম ব্রুসের ক্যাচ হন ইমরুল কায়েস। মাত্র ২ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমানের জুটি ধাক্কা সামলায়। কিন্তু সাব্বিরের ভুল বোঝাবুঝির ফাঁদে পড়ে তামিম হন রান আউট। ৭ বলে দুটি চারে সাজানো তার ১৩ রানের ইনিংস থামে। মাঠে নেমেই দ্বিতীয় বলে বেন হুইলারের শিকার হন সাকিব আল হাসান (১)। মাত্র ৩৬ রানের মধ্যে দল তিন উইকেট হারালেও সৌম্য সরকার ও সাব্বিরের ব্যাটিং নৈপুণ্যে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ট্রেন্ট বোল্টের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে আউট হন সৌম্য। ভাঙে ৬.৪ ওভারে গড়া ৬৮ রানের দারুণ জুটিটি। তিন চার ও দুই ছয়ে থামে সৌম্যের ২৬ বলে সাজানো ৩৯ রানের ইনিংস।

সাব্বির কিছুক্ষণ পরই সৌম্যকে অনুসরণ করে সাজঘরে ফিরে যান। হাফসেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে ক্রিজ ছাড়েন তিনি। ইশ সোধির বলে বোল্টের হাতে ক্যাচ দেন সাব্বির। ৩২ বলে তিনটি করে চার ও ছয়ে ৪৮ রানে আউট হন তিনি। এই দুই ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার পর রানের গতি স্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। মোসাদ্দেক হোসেন খেলতে নেমে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মাত্র ১ রানে কেন উইলিয়ামসনকে উইকেট দেন তিনি। ১৫ বলে ১৯ রানে সোধির দ্বিতীয় শিকার হন মাহমুদউল্লাহ। মাঠে খেলছেন নুরুল হাসান ও মাশরাফি মর্তুজা। ১৬.২ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রান করেছে বাংলাদেশ।
এর আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত শুরুতেই বাংলাদেশের অনুকূলে যায়। প্রথম বলেই মোসাদ্দেক হোসেনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন স্বাগতিক ওপেনার লুক রনচি, উইকেট শিকারি ছিলেন মাশরাফি।

এরপর একপাশে কলিন মুনরো ব্যাটে ঝড় তুললেও কেন উইলিয়ামসন বেশিদূর এগোতে পারেননি। গত ম্যাচের নায়ক কেন উইলিয়ামসনকে মাত্র ১২ রানে তামিম ইকবালের ক্যাচ বানান সাকিব আল হাসান। কোরি এন্ডারসন ক্রিজে নেমে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। নিজের তৃতীয় বলে মাত্র ৪ রান করে মোসাদ্দেক হোসেনের কাছে বোল্ড হন তিনি। ৪৬ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

কিন্তু কলিন মুনরো শুরু থেকে আগ্রাসী ছিলেন। যার ফলে ৩১ বলে পঞ্চাশ ছোঁন তিনি। সেখানেই থেমে যাননি মুনরো। হাফসেঞ্চুরিকে নিয়ে যান তিন অঙ্কের ঘরে। মাত্র ৫২ বলে ৭টি করে চার ও ছয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করেন তিনি। বাংলাদেশের জন্য কঠিন সময় তৈরি করেন মুনরো। তবে নিজের ৫৪তম বলে রুবেল হোসেনের কাছে উইকেট দেন এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ইনিংস সেরা ১০১ রান করেন তিনি। ওই ওভারেই রুবেল বোল্ড করেন কলিন ডি গ্রান্ডহোমকে। নিজের ও ইনিংসের শেষ ওভারে রুবেল আরও দুটি উইকেট তুলে নেন। জিমি নিশামকে বোল্ড করার পর মিচেল স্যান্টনারকে রান আউট করেন তিনি।
২০ ওভার শেষে ৭ উইকেটে ১৯৫ রান স্কোরবোর্ডে  জমা করে নিউজিল্যান্ড। 

/এফএইচএম/