রবিবারের ম্যাচ নিয়ে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন দলের অন্যতম সিনিয়র ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। দেশবাসীর উদ্দেশে তামিম বলেন, ‘আমাদের ওপর আস্থা রাখুন। আমরা যে বিদেশের মাটিতেও ম্যাচ জিততে পারি সেই আত্মবিশ্বাস আমাদের আছে।’ নিউজিল্যান্ড সফরের ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে তামিম বলেন, ‘আগে যখন এখানে আসতাম কোনও সুযোগই সৃষ্টি করতে পারতাম না। এখন পারছি। কিছু ভুলের জন্যে আমরা জিততে পারছি না। আগামীতে যদি সুযোগ পাই সেই ভুলগুলো আর করব না। একটা জয়ের জন্যে দেশবাসীর মতো খেলোয়াড়রাও মুখিয়ে আছেন। কারণ সবাই জানেন একটা জয় পেলে পাল্টে যাবে সবকিছু। তুঙ্গে উঠবে দলের আত্মবিশ্বাস।’
শুধু তামিম ভালো খেললে দল জেতে না
একটি কথা আছে যেদিন তামিম ভালো খেলে সেদিন দল জিতে। এখন কী দুটোই সম্পর্কিত? তামিম জবাবে বলেন, ‘না না এমন কিছু না। সত্যিকার কথা হলো যেদিন আমরা সবাই মিলে ভালো খেলি সেদিন দল জেতে। সত্যি ব্যাপার যে আমাদের কারোর পারফরম্যান্স আপ টু দ্য মার্ক ছিল না। বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের। খারাপ দিকট হলো প্রায় সবারই শুরুটা ভালো হচ্ছে। এখানে এবার আমি যে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছি সবক’টিতে শুরুটা ভালো করেছিলাম। কিন্তু সেই শুরুর ভালোটা আমরা কেউ ধরে রাখতে পারিনি। এটাই হতাশার বিষয় ।’
কোনও কৈফিয়ত নেই
তামিম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা একটা খেলাও জিততে পারিনি। এ নিয়ে কোনও কৈফিয়ত নেই। কিন্তু একটা বিষয় ইতিবাচকভাবে নেওয়া উচিত সেটা হলো আমরা এখানে বারবার সুযোগ তৈরি করছি। কোনও কোনও সময় মনে হচ্ছিল আমরা জিততেও পারি। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা জয়টা ছিনিয়ে নিতে পারছি না। এ নিয়ে দেশবাসীর মতো আমাদের খেলোয়াড়রাও বিশেষ আশাহত। কিন্তু এরপরও আশার কথা আমরা সুযোগ তৈরি করছি। যা আগে আমরা পারতাম না। এখানে আমরা ২০১০ সালে খেলতে এসেছি। আগেই এসেছি। কিন্তু তখন কিন্তু এভাবে সুযোগ সৃষ্টি করতে পারতাম না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই দলটিই দেশে গত দু’বছর ভালো খেলেছে। এক সময় আমরা দেশেও জিততে পারতাম না। তখন আমাদের বলা হতো আগে দেশে ভালো ক্রিকেট খেলে জয়ী হও, এরপর বিদেশে খেলতে যাও। বিদেশে এসেও আমরা যোগ্যতার পরিচয় দিচ্ছি। সুযোগ তৈরি করছি। কিন্তু সৃষ্ট সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জিততে পারছি না। যেদিন আমরা এই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারব, সেদিন অবশ্যই জিততে পারব।’
বিদেশের মাটিতেও আমরা ম্যাচ জিততে পারি
তামিম বলেন, ‘আমরা এখনও একটা ম্যাচও জিততে না পারায় স্বাভাবিক কারণেই দেশবাসী হতাশ। কিন্তু তাদের বলছি আমাদের ওপর আস্থা রাখুন। দেশবাসীর উদ্দেশে বলেছি খেলোয়াড়দের কমিটমেন্ট এক পার্সেন্টও কম নেই। একটা জয়ের জন্যে আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করছি। সবার একটাই চেষ্টা কীভাবে বাংলাদেশের জন্য একটা ম্যাচ আমরা জিততে পারি। এই সফরের পর হয়তো দেশবাসী আমাদের ওপর নাখোশ হতে পারেন। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাদের উদ্দেশে বলছি আমাদের উন্নতিগুলোও বিবেচনায় রাখুন। আগে কখনও নিউজিল্যান্ড এসে আমরা কোনও সুযোগই সৃষ্টি করতে পারতাম না। কিন্তু তা এখন পারছি।’
সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি
টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচ থেকে দলের আর কিছু পাওয়ার আছে কিনা জানতে চাইলে তামিম বলেন, ‘অবশ্যই আছে। শেষ ম্যাচেও যদি সুযোগ আসে তাহলো আগের ম্যাচগুলোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা একটি জয়ের চেষ্টা করব। খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস আছে বিদেশের মাটিতেও জয় সম্ভব। বিদেশের মাটিতে একটি জয় পাওয়া গেলে তুঙ্গে উঠবে আত্মবিশ্বাস। আমাদের সঙ্গে এখন ২২ জন খেলোয়াড় আছেন। এই বাইশজনের একজনও আমরা স্বপ্ন দেখা বন্ধ করিনি। এখানে আমরা কেউ হারতে আসিনি। একটা জয়ের জন্যে শুধু স্বপ্ন দেখছি না, জয়ের জন্যে সব চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা যদি ম্যাচ হারি তখন অনেক প্রশ্নই ওঠে আমরা ব্যাটিং ভালো করিনি, বোলিং বা ফিল্ডিং ভালো করিনি। এরজন্যেই তো একটা দল একটা ম্যাচ হারে। এরপর দেশবাসীকে অনুরোধ একটু ধৈর্য ধরুন। আগের ম্যাচগুলোর চেয়ে ১০-২০ ভাগও যদি ভালো করি আমাদের পক্ষে ম্যাচ জেতা সম্ভব।’
/এফএইচএম/