প্রচণ্ড বাতাসে তামিমের নতুন অভিজ্ঞতা

সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবালসংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবালকে বেশ ভালো মেজাজে পাওয়া গেল। একটা ভালো ইনিংস খেলার পর যে কোনও ব্যাটসম্যানকে এমনই পাওয়ার কথা। ৫০ বলে ৫৬ রান, এরমাঝে আবার চার ১১টি!

উইকেট, বাতাস, ম্যাচে বারবার বৃষ্টির হানা ও ম্যাচের টার্গেট সবকিছুই নিয়েই তামিমকে প্রশ্ন করা হয়েছে।  এর আগে তিনি নিউজিল্যান্ডের লিগে খেলতে এসে ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভের মাঠেও খেলেছেন। কিউই এক সাংবাদিক সেই কথা মনে করিয়ে বলেন, ‘এ মাঠটা আপনারতো আগে থাকেই বেশ চেনাজানা।’ তামিমও হেসে জবাব দিলেন, ‘তবে সেটা বাদামি উইকেট ছিল, এটা সবুজ উইকেট।’ এরপর আবার বলেন, ‘আগে এখানে খেলাতে এ মাঠ ও উইকেট সম্পর্কে আমার কাছে অবশ্য বেশ তথ্য ছিল।’

এবারের প্রসঙ্গ বাতাস। তামিম বলেন, ‘এতো বাতাসের মধ্যে আমরা কখনও খেলিনি। পৃথিবীর আর কোথাও এতো বাতাসের মধ্যে খেলা হয় না। বাতাসে একাধিকবার উইকেটের বেল পর্যন্ত পড়ে গেছে। প্রচণ্ড বাতাসে মাঝেমধ্যে মনে হচ্ছিল কেউ যেন পেছন থেকে টেনে ধরছে। আমাদের অবশ্য ম্যাচ অফিসিয়ালরা আগেভাগে বলে দিয়েছিল বাতাস বেশি মনে হলে আমরা সরে দাঁড়াতে পারব। এজন্যে ম্যাচের সময় অনেককে সরে দাঁড়াতে দেখেছেন। দিনের শেষে বলতে পারি এতো বাতাসের মধ্যে খেলেও প্রথম দিন আমরা অনেক ভালো খেলেছি।’

এরপর তামিম নিজের ইনিংস নিয়ে পরিকল্পনার কথা বলেন। তামিম বলেন, ‘টস হেরে ফিল্ডিং পাওয়ার পর আমি ঠিক করেছিলাম খারাপ বল যাতে ছেড়ে না দেই। মনে মনে ঠিক করি স্কোরিং বলের সুযোগ পেলে আমি মিস করব না। কারণ এ কন্ডিশনে তারা ভালো বল করবে এটাই স্বাভাবিক। কাজেই বাউন্ডারির বলগুলো আমি যদি বাউন্ডারিতে হিট করতে পারি তাহলে কাজটা আমার জন্যে সহজ হয়ে যাবে।’ স্কোরবোর্ডেও নজর ছিল বাংলাদেশি ওপেনারের, ‘আমি ভাবছিলাম আমার কাজটা করতে পারলে স্কোর বোর্ড ঠিক হবে। আমার নিজেরও আত্মবিশ্বাস বাড়বে। পুরো ইনিংসের সময় আমি এটিই চিন্তা করছিলাম যে কোনও অবস্থাতেই যেন স্কোরিং সুযোগ যাতে মিস না হয়। আল্লাহর রহমতে আমার কাছে যতোটা স্কোরিংয়ের সুযোগ এসেছে আমি সেটার বেশিরভাগ কাজে লাগাতে পেরেছি।’  

আত্মবিশ্বাস বেড়েছে জানালেন তামিম, ‘আসলে এমন একটি ইনিংস হলে খুব স্বাভাবিক যে কারোর মধ্যে আত্মবিশ্বাস এসে যায়।’ নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট তিনি, ‘আমার হিসাবে প্রথম দিন আমরা খুব ভালো খেলেছি। রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ) ভাই যদি শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থাকতো তাহলে অসাধারণ হতো।’

একজন ব্যাটসম্যান ভালো করলে অন্যদের মধ্যেও সেটা ছড়িয়ে যায় বিশ্বাস করেন তামিম। টস হেরে ব্যাটিং পাওয়ার পর শুরুতে শঙ্কা কাজ করছিল খেলোয়াড়দের মনে। কিন্তু তার ও মমিনুলের পারফরম্যান্স অন্য খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে মনে করেন তামিম, ‘প্রথম বল হওয়ার আগে আমরা চিন্তা করছিলাম কী হতে পারে না হতে পারে। এসব নিয়ে আমাদের মনের মধ্যে প্রশ্ন ছিল। কিন্তু দিনের শেষে বলতে পারি প্রথম দিনের পরিস্থিতি আমরা ভালোভাবে সামাল দিয়েছি। বিশেষ করে মমিনুল যেভাবে ইনিংস খেলেছে তাতে সবার ধারণা হয়েছে এখানে রান করা সম্ভব, আবার উইকেটেও টিকে থাকা সম্ভব। এ রকম হলে সবার মধ্যে অবশ্যই আত্মবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়।’

/এফএইচএম/