ওয়েলিংটনে নিজেকে ছাড়ালেন সাকিব

shakib-al-hasan-22বিশ্বের অন্যতম বাউন্সি উইকেটের একটি ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভ স্টেডিয়াম। ভেন্যুটি সাগরের খুব কাছে হওয়ায় বাতাসের গতিটা এখানে খানিকটা বেশিই। এমন কন্ডিশনে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের খুব বেশি খেলার অভিজ্ঞতা নেই।

দলের অন্যতম সিনিয়র ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। ২০০৮ সালে সাকিব ছিলেন জাতীয় দলের তরুণ খেলোয়াড়। অভিষেকের এক বছরের মাথায় নিউজিল্যান্ড সফরে যান তিনি। সেবার ওয়েলিংটনে বাংলাদেশ একটি টেস্ট খেলে। সেখানে দুই ইনিংসে মিলিয়ে সাকিবের ব্যাট থেকে এসেছিল ৪৬ রান। প্রথম ইনিংসে ৫ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেছিলেন অপরাজিত ৪১ রানের ইনিংস।

শুক্রবার ওয়েলিংটনে নিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমে আগের ৪১ রানকে ছাড়িয়ে যান অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার। সাউদির অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলটি কভারের উপর দিয়ে বাউন্ডারি মেরে ওয়েলিংটনে নিজের করা আগের স্কোরকে ছাড়িয়ে যান সাকিব।

এমনিতেই মমিনুলের পর সাকিবের প্রিয় প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। তাদের দুই জনের গড়ই এটা প্রমাণ করে। এদিনে কিউইদের বিপক্ষে নিজের চতুর্থ এবং ক্যারিয়ারের ২০তম হাফসেঞ্চুরি তুলে নিতে কোনও ভুল করেননি সাকিব।

সাউদির বলে হাফসেঞ্চুরির মাইলফলকে পৌঁছান সাকিব। ৮৬ বলে ৮ চারে তিনি ৫০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।

অথচ বৃহস্পতিবার প্রথম দিনে ভাগ্যগুণে বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি। ব্যক্তিগত ৪ রানে নাইল ওয়াগনারের বলে স্কয়ার লেগে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার মিচেল স্যান্টনার সাকিবের ক্যাচটি ফেলে দেন। পুরো ইনিংসে ওই একটাই বাজে শট খেলেছিলেন সাকিব। এরপর প্রথম দিন শেষে করে কিউই পেসারদের বিপক্ষে খেলেন অসাধারণ এক ইনিংস।

কিউইদের বিপক্ষে সাকিবের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ১০০। ২০১০ সালে দ্বিতীয়বারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে সেঞ্চুরি পান বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার। হ্যামিল্টন টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৩ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ঠিকই সেঞ্চুরি তুলে নেন সাকিব।

সবমিলিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে সাকিবের তিনটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি রয়েছে ২০টি হাফসেঞ্চুরি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১০০ রান থাকলেও ক্যারিয়ারে তার সর্বোচ্চ রান ১৪৪। ২০১১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে এই স্কোর করেছিলেন সাকিব।

/আরআই/কেআর/