জালিয়াতির বিষয়ে গ্রাহকদের সচেতন থাকার পরামর্শ বিটিআরসির

বায়োমেট্রিকবাংলাদেশ টে‌লিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ ক‌মিশন (বি‌টিআর‌সি) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেছেন, গ্রাহকের অসাবধানতার সুযোগে কিছু অসাধু রিটেইলার জালিয়াতি করার চেষ্টা করছে। বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে নিবন্ধনের সময় গ্রাহকের নামে কোন কোন নম্বর নিবন্ধন করা হচ্ছে সে বিষয়ে গ্রাহককে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে। বুধবার (২৫ মে) ‌বিকেলে বি‌টিআর‌সি ভবনে আয়ো‌জিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
সম্প্রতি একাধিক সিম জালিয়াতি প্রসঙ্গে (বি‌টিআরসি) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, গ্রাহকদের সাবধান থাকতে হবে যাতে করে নিজের আঙুলের ছাপ দিয়ে অন্য কারো ভেরিফিকেশন সম্পন্ন না করেন। আমরা সম্প্রতি এমন কিছু উদাহরণ দেখেছি যেখানে গ্রাহকের অসাবধানতার সুযোগে কিছু অসাধু রিটেইলার জালিয়াতি করার চেষ্টা করেছে। কিছুদিন পূর্বে আশুলিয়াতে একজন অসাধু রিটেইলার গ্রাহকের অমনোযোগিতার সুযোগ নিয়ে তাদের নামে একাধিক সিম নিবন্ধন করে তা বেশি অর্থের বিনিময়ে অন্য প্রতারকের কাছে বিক্রির চেষ্টা করেন। তবে বর্তমান বায়োমেট্রিক্স ভেরিফিকেশন পদ্ধতি অনুযায়ী প্রকৃত গ্রাহকরা এসএমএসের মাধ্যমে তা জেনে যাওয়ায় অসাধু রিটেইলারকে ধরা সম্ভব হয়েছে।
ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, সম্প্রতি চট্টগ্রামে বিকাশের দুজন এজেন্ট জালিয়াতির মাধ্যমে সিম প্রতিস্থাপন করে একজন গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া যায়। এখানে উল্লেখ্য, বিকাশ করার ক্ষেত্রে গ্রাহকের গোপন পিন নম্বর ছাড়া অর্থ আদান প্রদান করা সম্ভব নয়। এ ধরণের অভিযোগ আগে হর হামেশা পাওয়া গেলেও প্রতারকের প্রকৃত পরিচয় না জানার কারণে তাদের ধরা সম্ভব হতো না। তবে বর্তমানে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে প্রতারক কর্তৃক প্রতিস্থাপিত সিমটিও প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করার মাধ্যমেই নিবন্ধন করতে হয়েছে বলে তাদেরকে ধরা সম্ভব হয়েছে।
এখন পর্যন্ত সব অপারেটরে ৯ কোটি ৭০ লাখ ৮৫ হাজার ৭ শত ৪১টি সংযোগের গ্রাহক পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান ড. শাহজাহান মাহমুদ। তিনি বলেন, আগামী ১ জুনের মধ্যে যে সকল সিম/রিম এর বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হবে না সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে বাংলাদেশের বাইরে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কথা চিন্তা করে জারিকৃত ট্যারিফ এবং সার্ভিস নির্দেশনার সঙ্গে সংগতি রেখে এ সব নিষ্ক্রিয় মোবাইল নম্বর ১৫ মাস পর্যন্ত ব্যবহারকারীর জন্য সংরক্ষণ করা হবে। যাতে করে উক্ত সময়ের মধ্যে কোনও গ্রাহক তার ব্যবহৃত সিম/রিম বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা সাপেক্ষে নির্দিষ্ট চার্জের বিনিময়ে পুনরায় সচল করাতে পারেন। এই ১৫ মাসের মধ্যে কোনও গ্রাহক তার মোবাইল নম্বর পুনরায় উত্তোলন না করলে অপারেটর আরও ৩ মাসের পাবলিক নোটিশ প্রদান সাপেক্ষে উক্ত মোবাইল নম্বর যে কারও কাছে বিক্রি করতে পারবে।
আরও পড়ুন: জেলা বাজেট নিয়ে পিছু হটলেন অর্থমন্ত্রী

/সিএ/এজে