কলরেট বাড়লো না কমলো?

মোবাইল ফোনমোবাইল ফোনের কলরেটের নতুন হার নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। সোমবার রাত ১২টার পর এই হার কার্যকর হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক মোবাইল অপারেটর গ্রাহকদের এসএমএস দিয়ে বিষয়টি জানাতে শুরু করেছে। নতুন হার অনুযায়ী মোবাইল অপারেটরগুলো ৪৫ পয়সার নিচে কোনও কলরেট নির্ধারণ করতে পারবে না। এই কলরেট সর্বোচ্চ ২ টাকা পর্যন্ত হতে পারবে।

এদিকে, এই সংবাদে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে গ্রাহকরা অভিযোগ করছেন কলের খরচ বাড়লো। অন্যদিকে মোবাইল ফোন অপারেটররা বলছে, খরচ আসলে কমলো। মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) চালু হলে গ্রাহকরা এখনকার চেয়ে আরও কম খরচে মোবাইলে কথা বলতে পারবেন।

বর্তমানে বিটিআরসির নির্ধারণ করে দেওয়া সর্বনিম্ন অননেট চার্জ প্রতি মিনিট ২৫ পয়সা ও অফনেট ৬৫ পয়সা। সর্বোচ্চ চার্জ প্রতি মিনিট ২ টাকা। মোবাইল ফোন অপারেটররা এই সীমার মধ্যে থেকে নিজেদের অপারেটরের চার্জ নির্ধারণ করেছে। ফলে একেক অপারেটরের চার্জ ছিল একেকরকম।

অপারেটররা বলেছে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে গ্রাহকরা সুফল পাবেন। জানা গেছে, অননেট কলের সর্বনিম্ন সীমা ২৫ পয়সা হলেও গ্রাহকদের গড় খরচ হতো ৩৯-৪০ পয়সা। আর অন্য অপারেটরে (অফনেটে) কলের সর্বনিম্ন সীমা ৬৫ পয়সা হলেও গ্রাহকের খরচ হতো ৮৯ পয়সা থেকে ১ টাকা ৪০ পয়সার মতো। নতুন কলরেট চালুর ফলে একই অপারেটরে কলের খরচ ৫ পয়সা বাড়লেও অন্য অপারেটরে কলের ক্ষেত্রে খরচ কমবে ৪৫ থেকে ৫০ পয়সা। মূলত গ্রাহক সংখ্যায় ছোট অপারেটরের গ্রাহকরা এই সুবিধা পাবেন বলে মনে করছে অপারেটররা।

এক প্রশ্নের জবাবে রবির হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স শাহেদ আলম বলেন, আসলে কলরেট কমলো। দেশের মোট কলের মধ্যে অননেট হলো ৬৫ এবং অফনেট হলো ৩৫ শতাংশ। এরমধ্যে দামের পার্থক্য ছিল ১৪৫ শতাংশ। নতুন কলরেটের কারণে কলরেট কমলো প্রায় ৬৫ শতাংশ। অফনেট ও অননেটের মধ্যে দামের যে বৈষম্য ছিল তা দূর হলো। এমএনপি চালু হলে গ্রাহক আরও উপকৃত হবেন। নেটওয়ার্ক পছন্দে তাদের অবাধ স্বাধীনতা থাকবে।

বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, বাংলালিংক সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এটি গ্রাহকদের নেটওয়ার্ক বেছে নেওয়া ও একই কলরেটে অননেট ও অফনেট কল করার স্বাধীনতা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রা আরও সহজ করতে ভূমিকা রাখবে, যা আগে সম্ভব ছিল না। সব ধরনের নির্দেশ মেনে এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বাংলালিংক তার গ্রাহককে সবসময় বেশি সুবিধা দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।