বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম অপরিহার্য অনুষঙ্গ। তবে অসচেতনতা ও কিছু সাধারণ ভুলের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইসটির নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সাইবার অপরাধীদের হাত থেকে ব্যক্তিগত তথ্য ও স্মার্টফোন সুরক্ষিত রাখতে এমন ৫টি সাধারণ ভুল রয়েছে, যা এখনই সংশোধন করা জরুরি।
১. দুর্বল লক ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার
অনেকেই মনে রাখার সুবিধার্থে সহজ প্যাটার্ন, ১২৩৪ বা নিজের জন্মসালের মতো সাধারণ পিন ব্যবহার করেন। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
করণীয়: স্মার্টফোনে সবসময় শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বা পিন ব্যবহার করুন। বায়োমেট্রিক সিকিউরিটি (ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস লক) চালু রাখা আরও নিরাপদ।
২. সফটওয়্যার আপডেট না করা
ফোনে অপারেটিং সিস্টেম বা অ্যাপের আপডেট এলে অনেকেই তা অবহেলা করে এড়িয়ে যান। এর ফলে ফোনে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঘাটতি বা 'বাগ' থেকে যায়, যা হ্যাকারদের কাজ সহজ করে দেয়।
করণীয়: সিস্টেম এবং অ্যাপের আপডেট নোটিফিকেশন আসবামাত্রই ফোনটি আপডেট করে নিন। এতে নতুন সিকিউরিটি প্যাচ যুক্ত হয়।
৩. থার্ড-পার্টি অ্যাপ সোর্স ব্যবহার
গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোরের বাইরে বিভিন্ন অপরিচিত ওয়েবসাইট থেকে এপিকে ফাইল বা মড অ্যাপ ডাউনলোড করার অভ্যাস অনেকেরই আছে। এসব অ্যাপে থাকা ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার বা স্পাইওয়্যার ফোনে প্রবেশ করতে পারে।
করণীয়: শুধুমাত্র অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করুন এবং ডাউনলোডের আগে রিভিউ দেখে নিন।
৪. উন্মুক্ত বা পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার
রেল স্টেশন, শপিং মল বা রেস্তোরাঁর ফ্রি বা পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ওপেন নেটওয়ার্কে ওত পেতে থাকা হ্যাকাররা সহজেই আপনার ফোনের ডাটা, পাসওয়ার্ড বা ব্যাংকিং তথ্য চুরি করতে পারে।
করণীয়: পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। খুব জরুরি হলে একটি নির্ভরযোগ্য ভিপিএন ব্যবহার করতে পারেন।
৫. অ্যাপ পারমিশন না দেখেই 'অ্যালাউ' করা
নতুন কোনও অ্যাপ ইনস্টল করার পর সেটি ফোনের কন্টাক্ট, গ্যালারি, লোকেশন বা মাইক্রোফোনের পারমিশন চায়। অনেক সময় সাধারণ একটি ক্যালকুলেটর বা ফ্ল্যাশলাইট অ্যাপও পুরো গ্যালারির অ্যাক্সেস চেয়ে বসে, যা আমরা না দেখেই 'অ্যালাউ' করে দিই।
করণীয়: অ্যাপটি সচল রাখতে ঠিক যতটুকু পারমিশন প্রয়োজন, কেবল ততটুকুই দিন। অপ্রয়োজনীয় পারমিশন সেটিংস থেকে বন্ধ করে রাখুন।
একটি অসচেতনতাই ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। তাই আজই আপনার স্মার্টফোনের সেটিংস ও ব্যবহারের অভ্যাসগুলো যাচাই করুন এবং ডিভাইসটিকে রাখুন সম্পূর্ণ নিরাপদ।