কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বড় পরিসরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদফতরের বাস্তবায়নাধীন ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে একযোগে প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার আবেদনকারী।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দেশের আটটি বিভাগের ৬৪টি জেলার নির্ধারিত পরীক্ষাকেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এআই প্রশিক্ষণে অংশ নিতে দেশব্যাপী প্রায় ৮৩ হাজার আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় ৫০ হাজার আবেদন বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং তারা লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
প্রকল্পের প্রথম ধাপে দেশের প্রতিটি জেলা থেকে ২৫ জন করে মোট ১ হাজার ৬০০ প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হবে। সে হিসেবে প্রতিটি আসনের বিপরীতে গড়ে ৩২ জনের বেশি আবেদনকারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগিতা দেখা গেছে ঢাকা জেলায়। সেখানে মাত্র ২৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৩ হাজার ৭৮০ জন, অর্থাৎ প্রতিটি আসনের জন্য লড়ছেন প্রায় ১৫২ জন প্রার্থী।
লিখিত পরীক্ষা চলাকালে রাজধানীর কল্যাণপুরের একটি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন প্রকল্প পরিচালক মো. আতিকুর রহমান এবং ঢাকা জেলার উপপরিচালক এ কে এম শাহরিয়ার। তারা পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ, পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি, আসনব্যবস্থা, নিরাপত্তা, প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনা এবং পরীক্ষা পরিচালনার বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে প্রকল্প পরিচালক মো. আতিকুর রহমান বলেন, দেশের ৬৪টি জেলায় একই সময়ে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে লিখিত পরীক্ষা আয়োজনের জন্য কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার আলোকে প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হবে।
তিনি জানান, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৯ জুলাই। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে ৩০ জুলাই এবং নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে আগামী ২ আগস্ট থেকে দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে
দুই বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের আওতায় মোট ১১ হাজার ২০০ যুবক-যুবতীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৬০০ জন বেসিক এবং ১ হাজার ৬০০ জন অ্যাডভান্সড এআই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে মোট ৪৪৮টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে। প্রতিটি কোর্সের মেয়াদ দুই মাস। এ সময় ৫০টি ক্লাসের মাধ্যমে মোট ৩০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
বেসিক পর্যায়ের প্রশিক্ষণে চ্যাটজিপিটি, মাইক্রোসফট কোপাইলট, ডিপসিক, জেমিনি, গ্রামারলি, কুইলবট, জ্যাসপার, ক্যানভা, পিক্সলার, ইনভিডিও ও ইলেভেনল্যাবসসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় এআই টুল ব্যবহারের ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অন্যদিকে অ্যাডভান্সড প্রশিক্ষণে রানওয়ে, সিন্থেশিয়া, মিডজার্নি, ট্যাবলো, জ্যাপিয়ার, ডিসক্রিপ্ট, ক্লিকআপ, নোশন এআই, ডরিক এআই, আহরেফস, সেলসফোর্স, হাবস্পট, কপি ডট এআই, অ্যাডোবি সেনসেই, ড্যাল-ই এবং ভিও প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার শেখানো হবে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রশিক্ষণে শুধু বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহারের কৌশল শেখানো হবে না; বরং এআইভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভিডিও নির্মাণ, ডেটা বিশ্লেষণ, অটোমেশন, ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দেশের তরুণদের চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য।
সেলফি ভিডিও দিয়েই মিলবে গুগল অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার
ব্রাউজারে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করা কতটা নিরাপদ? যা জানা জরুরি







