যুক্তরাষ্ট্র চীনে তৈরি নতুন হিউম্যানয়েড (মানবসদৃশ) এবং কোয়াড্রুপেড (চার পা–ওয়ালা) রোবট আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। একইসঙ্গে নেটওয়ার্ক-সংযুক্ত পাওয়ার ইনভার্টার আমদানিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেন্সর ও ইন্টারনেট সংযোগ সমৃদ্ধ এসব উন্নত রোবট জাতীয় নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষায় সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এফসিসি-এর চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার বলেন, বর্তমানে উন্নত রোবটগুলোতে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, বিভিন্ন সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ইন্টারনেট সংযোগ থাকায় এগুলো আশপাশের পরিবেশ, মানুষের চলাফেরা ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। মার্কিন কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, এসব তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ব্যবহার করতে পারে অথবা দূর থেকে রোবট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সরবরাহ ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালানো হতে পারে। তার মতে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো "যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খলকে সুরক্ষিত রাখা।"
নিষেধাজ্ঞাটি মূলত চীনের দ্রুত বর্ধনশীল রোবোটিক্স শিল্পকে লক্ষ্য করেই নেওয়া হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বৈশ্বিক হিউম্যানয়েড রোবট বাজারের প্রায় ৮৫ শতাংশ চীনা নির্মাতাদের দখলে। বিশেষ করে ইউনিট্রি–এর মতো প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম দামে উন্নত হিউম্যানয়েড ও রোবট কুকুর তৈরি করে আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত অবস্থান শক্ত করছে।
নতুন নীতিমালার আওতায় বর্তমানে ব্যবহৃত বা আগে অনুমোদন পাওয়া রোবটগুলো তাৎক্ষণিকভাবে নিষিদ্ধ হচ্ছে না, এটি মূলত ভবিষ্যতের নতুন আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে প্রয়োজনে এফসিসি আগের অনুমোদনও পুনর্বিবেচনা করতে পারবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে এবং উৎপাদন-ব্যবস্থা অন্য দেশে স্থানান্তরের পরিকল্পনা থাকলে, কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য ছাড় দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বিষয়কে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত বাজারনীতির প্রতি সম্মান রেখে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করা।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বৈশ্বিক হিউম্যানয়েড রোবট বাজারে চীনা নির্মাতাদের প্রাধান্য থাকায় এই নিষেধাজ্ঞা মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং রোবোটিক্স শিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থায়ও প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রে দেশীয় রোবট উৎপাদন ও বিকল্প সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।