স্মার্টফোনের ডেটা চুরির জন্য সাইবার অপরাধীরা এখন শুধু জটিল হ্যাকিং প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে না। অনেক ক্ষেত্রেই স্মার্টফোনের ডিফল্ট সেটিংস থেকেই ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারকারীর অজান্তেই বিভিন্ন অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। সেটিংসগুলো স্মার্টফোন কেনার সময় থেকে বাই-ডিফল্ট সচল থাকার কারণে অধিকাংশ ব্যবহারকারীর কাছেই অজানা। এই সেটিংসগুলোর সামান্য পরিবর্তন স্মার্টফোনের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে করতে পারে আরও সমৃদ্ধ।
ফোন নম্বর শেয়ারিং বন্ধ করুন
ফোনের সেটিংসে গিয়ে গুগল> অল সার্ভিসেস> ফোন নম্বর শেয়ারিং অপশনে গিয়ে ফিচারটি বন্ধ করে দিন। অনেক ফোনে এটি ডিফল্টভাবে চালু থাকে। ফলে স্মার্টফোন অপারেটরসহ বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আপনার ফোন নম্বর শেয়ার হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে স্প্যাম কল, প্রতারণামূলক এসএমএস ও অবাঞ্ছিত বিজ্ঞাপন প্রদর্শন বাড়িয়ে দিতে পারে।
ক্রোমের অটোফিল থেকে ব্যক্তিগত তথ্য সরিয়ে ফেলুন
আপনার ফোনের গুগল ক্রোম ব্রাউজারে গিয়ে থ্রি ডট মেনু থেকে সেটিংস> অ্যাড্রেস এন্ড মোর অপশনে প্রবেশ করুন। এখানে সংরক্ষিত বাসার ঠিকানা, ফোন নম্বর বা ই-মেইলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিগত তথ্য দেওয়া থাকলে তা প্রয়োজন না হলে মুছে ফেলুন অথবা ‘অটোফিল’ সুবিধা বন্ধ করুন। এতে অপরিচিত ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে।
অ্যাপের অনুমতি (পারমিশন্স) নিয়মিত পরীক্ষা করুন
ফোনের সেটিংস থেকে > পারমিশন ম্যানেজার অপশনে গিয়ে ক্যামেরা, লোকেশন, কন্ট্যাক্টস, মাইক্রোফোন, কল লগস ও ফাইলস-এর মতো অনুমতিগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা করুন। কোনো অ্যাপের কাজের সঙ্গে অনুমতির প্রয়োজনীয়তা বা মিল না থাকলে ‘ডোন্ট অ্যালাউ’ অপশনটি নির্বাচন করুন। এতে স্মার্টফোনে থাকা অ্যাপগুলোর অপ্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের সুযোগ কমে যাবে।
অ্যাডভার্টাইজিং আইডি রিসেট বা মুছে ফেলুন
ফোনের সেটিংস থেকে> গুগল> অল সার্ভিসেস> অ্যাডস (কিছু ফোনে প্রাইভেসি> অ্যাডস) থেকে ‘ডিলিট অ্যাডভার্টাইজিং আইডি’ অথবা ‘রিসেট অ্যাডভার্টাইজিং আইডি’ অপশনটি ব্যবহার করুন। এই অপশনটির সাহায্যে বিভিন্ন অ্যাপ আপনার আগ্রহ ও ব্যবহার প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে পার্সোনালাইজড বিজ্ঞাপন দেখায়। এটি মুছে ফেললে বা রিসেট করলে অ্যাপগুলোর জন্য আপনার কার্যকলাপের ভিত্তিতে বিজ্ঞাপন প্রোফাইল তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা সীমিত করুন
ফোনের সেটিংসে গিয়ে অ্যাপস> (নির্দিষ্ট অ্যাপ)> মোবাইল ডেটা এন্ড ওয়াই-ফাই অথবা ডেটা ইউসেজ অপশনে গিয়ে প্রয়োজন না হলে ‘ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা’ বন্ধ রাখুন। এতে অ্যাপটি অব্যবহৃত অবস্থায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবে না। এর ফলে একদিকে যেমন ব্যক্তিগত তথ্যের অপ্রয়োজনীয় শেয়ারিং কমবে, অন্যদিকে মোবাইল ডেটা ও ব্যাটারির ব্যবহারও কিছুটা সাশ্রয় হবে।