কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ছবি তৈরির প্রযুক্তি ন্যানো ব্যানানা ২ মডেল যুক্ত করে গুগল আর্থে চালু করা নতুন একটি ফিচার চালুর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে প্রত্যাহার করেছে গুগল। বাস্তব স্থানের ওপর ভিত্তি করে ভুয়া স্যাটেলাইট ছবি তৈরি করে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং ব্যবহারকারীদের নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ফিচারটি চালুর পর ব্যবহারকারীরা গুগল আর্থের ওয়েব সংস্করণে যেকোনও স্থানে গিয়ে টেক্সট নির্দেশনার মাধ্যমে বাস্তব স্যাটেলাইট ও থ্রিডি মানচিত্রের ওপর কৃত্রিমভাবে তৈরি ছবি বসাতে পারছিলেন। এর মাধ্যমে বিস্ফোরণ, যুদ্ধ, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, বন্যা কিংবা অস্তিত্বহীন বিভিন্ন স্থাপনা যুক্ত করে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত দৃশ্য তৈরি করা সম্ভব হচ্ছিল। খুব দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লস অ্যাঞ্জেলসে বিশাল বিস্ফোরণের কারণে গর্তের সৃষ্টি, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবন প্লাবিত হওয়া, ইরানের খার্গ দ্বীপে অগ্নিকাণ্ড, আইফেল টাওয়ার ধসে পড়া কিংবা কিয়েভে রুশ ট্যাংকের আক্রমনের মতো সম্পূর্ণ কাল্পনিক। ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যা ভুল তথ্য ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গুগল আর্থের মতো একটি বিশ্বস্ত ভূ-তথ্য প্ল্যাটফর্মে এআই ব্যবহার করে বাস্তবসদৃশ ভুয়া দৃশ্য তৈরির সক্ষমতা ভুল তথ্যের বিস্তার এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ, গুগল আর্থ দীর্ঘদিন ধরেই সাংবাদিক, গবেষক, ওপেন-সোর্স গোয়েন্দা বিশ্লেষক, মানবাধিকার সংস্থা এমনকি সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সামরিক স্থাপনা এবং অবকাঠামোগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এমন একটি প্ল্যাটফর্মে বাস্তব লোকেশনের সঙ্গে এআই-নির্মিত ভুয়া বিস্ফোরণ, বন্যা বা ধ্বংসযজ্ঞের ছবি যুক্ত করা হলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সত্য ঘটনা বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
সমালোচনার মুখে গুগল ফিচারটি দ্রুত প্রত্যাহার করে। প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র জানান, পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত পরিসরে চালু করা এই সুবিধায় কিছু ব্যবহারকারী কোম্পানির নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি করেছেন। তাই নিরাপত্তা ও অপব্যবহার প্রতিরোধে ফিচারটি সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গুগল জানিয়েছে, তৈরি হওয়া প্রতিটি ছবিতে সিন্থআইডি ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক যুক্ত ছিল এবং সেগুলো মূল গুগল আর্থের স্যাটেলাইট দৃশ্যে স্থায়ীভাবে যোগ করা হয়নি। তবুও ব্যবহারকারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এসব ছবির স্ক্রিনশট গণহারে শেয়ার করায় তথ্য-বিভ্রান্তির সাংঘাতিক ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই আপাতত ফিচারটি প্রত্যাহার করে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নীতিমালা যুক্ত করার কাজ চলছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরই এটি পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।