সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কনটেন্ট থেকে আয়ের ক্ষেত্রে মৌলিক ও মানসম্মত কাজকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্ল্যাটফর্মটির বর্তমান আয় নীতিমালায় অন্যের কনটেন্ট কপি করে প্রকাশ করা, পুনর্ব্যবহৃত বা অমৌলিক কনটেন্ট থেকে আয় করার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। এর ফলে শুধু অন্যের পোস্ট, ছবি বা ভিডিও সামান্য পরিবর্তন করে প্রকাশ করে আয় করার প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও কঠিন হতে পারে।
এক্সের নির্মাতা আয় ভাগাভাগি কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মটি এমন নির্মাতাদের উৎসাহিত করতে চায়, যারা মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করেন এবং দর্শকদের সঙ্গে অর্থবহ যোগাযোগ তৈরি করেন। আয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে যাচাইকৃত ব্যবহারকারীদের সঙ্গে পোস্টের বিভিন্ন ধরনের মিথস্ক্রিয়াও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
কপি করা কনটেন্টে কেন কমবে সুযোগ?
এক্সের কনটেন্ট আয় নীতিমালায় ‘অমৌলিক বা পুনর্ব্যবহৃত কনটেন্ট’কে আয়ের ক্ষেত্রে অযোগ্য আচরণের মধ্যে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ অন্যের তৈরি কনটেন্ট নিজের অ্যাকাউন্টে পুনরায় প্রকাশ করে শুধু সামান্য পরিবর্তন আনা হলে সেটি আয়ের জন্য গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।
এ ধরনের নীতির উদ্দেশ্য হলো, এমন কনটেন্টকে উৎসাহিত করা, যেখানে নির্মাতার নিজস্ব চিন্তা, তথ্য, বিশ্লেষণ বা সৃজনশীলতার উপস্থিতি রয়েছে। ফলে অন্যের কাজের ওপর নির্ভর না করে নিজের তৈরি কনটেন্ট প্রকাশ করাই এখন নির্মাতাদের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
আয় করতে হলে কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে?
এক্সের বর্তমান নির্মাতা আয় ভাগাভাগি কর্মসূচিতে অংশ নিতে একটি সক্রিয় প্রিমিয়াম, প্রিমিয়াম ব্যবসা বা প্রিমিয়াম প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সদস্যতা থাকতে হয়। পাশাপাশি গত তিন মাসে অন্তত ৫০ লাখ স্বাভাবিক প্রদর্শন এবং কমপক্ষে ৫০০ যাচাইকৃত অনুসারী থাকতে হয়। ব্যবহারকারীকে সমর্থিত দেশে অবস্থান করতে হবে এবং এক্সের ব্যবহারবিধি মেনে চলতে হবে।
এ ছাড়া আয় গ্রহণের জন্য পরিচয় যাচাই এবং অনুমোদিত অর্থপ্রদান ব্যবস্থার হিসাব সংযুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।
শুধু বেশি প্রদর্শনই এখন মূল বিষয় নয়
এক্সের ভাষ্য অনুযায়ী, আয়ের হিসাব শুধু কতবার কোনো পোস্ট দেখা হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে না। পোস্টের সঙ্গে যাচাইকৃত ব্যবহারকারীদের মিথস্ক্রিয়া, কে কনটেন্ট দেখছেন এবং কনটেন্টের ধরনও আয়ের হিসাবের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
অর্থাৎ শুধু বেশি প্রদর্শন পাওয়ার জন্য একই ধরনের পোস্ট বারবার প্রকাশ করা বা আলোচনার বাইরে থাকা অমৌলিক কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর কৌশল নাও হতে পারে।
মৌলিক কনটেন্টের গুরুত্ব বাড়ছে
নিজের লেখা, নিজস্ব বিশ্লেষণ, নিজস্ব ছবি বা ভিডিও এবং নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তৈরি কনটেন্ট এখন নির্মাতাদের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো বিষয় নিয়ে নিজের ব্যাখ্যা, অভিজ্ঞতা বা বিশ্লেষণ যুক্ত করলে সেটি সাধারণ পুনঃপ্রকাশের চেয়ে বেশি মূল্য তৈরি করতে পারে।
এক্সের নির্মাতা আয় নীতিমালায়ও মানসম্মত ও মৌলিক কনটেন্ট তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কৃত্রিমভাবে মিথ্যা মিথস্ক্রিয়া বাড়ানোর চেষ্টা, বিভ্রান্তিকর আচরণ এবং প্ল্যাটফর্মের নিয়ম ভঙ্গ করাও আয়ের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য বার্তা কী?
এক্সের বর্তমান নীতিমালা থেকে স্পষ্ট, প্ল্যাটফর্মটিতে আয় করতে চাইলে শুধু অনুসারী বা প্রদর্শনের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে নজর দিলে হবে না। দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হলে নিজের দর্শকের জন্য নিয়মিত মানসম্মত ও মৌলিক কনটেন্ট তৈরি করতে হবে।
অন্যের ভাইরাল পোস্ট কপি করে প্রকাশ করার বদলে সেই বিষয় নিয়ে নিজের মতামত, ব্যাখ্যা বা নতুন তথ্য যোগ করা যেতে পারে। একইভাবে অন্যের ছবি বা ভিডিও পুনরায় প্রকাশের পরিবর্তে নিজস্ব ছবি, ভিডিও বা গ্রাফিকস তৈরির দিকে মনোযোগ দেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে।
ভবিষ্যতে আরও কঠোর হতে পারে নিয়ম
এক্স তাদের নির্মাতা আয় ভাগাভাগি কর্মসূচির নিয়ম পরিবর্তন বা বাতিল করার অধিকারও সংরক্ষণ করে। ফলে সময়ের সঙ্গে যোগ্যতা, কনটেন্টের মান এবং আয় নির্ধারণের পদ্ধতিতে আরও পরিবর্তন আসতে পারে।
সব মিলিয়ে এক্সের বর্তমান নীতিমালার বার্তা বেশ পরিষ্কার: শুধু অন্যের তৈরি কনটেন্ট ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্রকাশ করে আয়ের পথ তৈরি করা কঠিন হচ্ছে। নিজের তৈরি, মানসম্মত ও দর্শকের সঙ্গে অর্থবহ যোগাযোগ তৈরি করে এমন কনটেন্টই ভবিষ্যতে বেশি গুরুত্ব পাবে।
সূত্র: এক্সের নির্মাতা আয় ভাগাভাগি ও কনটেন্ট আয় নীতিমালা।