স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার মনিটর, ট্যাবলেট কিংবা টিভির স্ক্রিনে হঠাৎ ছোট কালো, সাদা বা রঙিন বিন্দু দেখা গেলে সেটিকে অনেকেই সাধারণ দাগ বা সাময়িক সমস্যা মনে করে উপেক্ষা করেন। তবে এগুলো হতে পারে ডেড পিক্সেল, স্টাক পিক্সেল কিংবা হট পিক্সেলের মতো স্ক্রিনের পিক্সেল-সংক্রান্ত ত্রুটির লক্ষণ, যা অনেকসময়ই স্থায়ী হয়ে থাকে। তিন ধরনের সমস্যাই স্ক্রিনের ক্ষুদ্র পিক্সেল বা সাব-পিক্সেলের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও এগুলোর বৈশিষ্ট্য ভিন্ন। সমস্যাগুলো সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমে বুঝতে হবে একটি স্ক্রিন কিভাবে কাজ করে।
একটি ডিসপ্লের সম্পূর্ণ ছবি তৈরি হয় অসংখ্য ক্ষুদ্র পিক্সেলের সমন্বয়ে। প্রতিটি পিক্সেলের মধ্যে সাধারণত তিনটি সাব-পিক্সেল থাকে—লাল, সবুজ ও নীল বা আরজিবি। প্রতিটি সাব-পিক্সেলের উজ্জ্বলতার মাত্রা পরিবর্তন করে স্ক্রিন বিভিন্ন রঙ স্ক্রিনে প্রদর্শন করে। তিনটি একসঙ্গে সর্বোচ্চ মাত্রায় আলো দিলে সাদা রঙ তৈরি হয়, আর তিনটিই বন্ধ থাকলে বা সর্বনিম্ন উজ্জ্বলতায় জ্বলে উঠলে কালো দেখায়।
এলসিডি, ওলেড বা অ্যামোলেড-এর মতো বিভিন্ন ডিসপ্লে প্রযুক্তিতে আলো তৈরির পদ্ধতি আলাদা হলেও রঙ প্রদর্শনের ক্ষেত্রে পিক্সেল ও আরজিবি সাব-পিক্সেলের নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা সবগুলোতেই রয়েছে। ফলে কোনো পিক্সেল বা তার সাব-পিক্সেল যথাযথভাবে কাজ না করলে স্ক্রিনে ছোট বিন্দু বা অস্বাভাবিক রঙ দেখা দিতে পারে।
ডেড, স্টাক ও হট পিক্সেলের পার্থক্য
ডেড পিক্সেল: কোনো পিক্সেল সম্পূর্ণভাবে কাজ করা বন্ধ করে দিলে সেটিকে ডেড পিক্সেল বলা হয়। এটি সাধারণত যেকোনো উজ্জ্বল ব্যাকগ্রাউন্ডে কালো বিন্দু হিসেবে দেখা যায়, কারণ ওই জায়গা থেকে স্বাভাবিকভাবে কোনো আলো বা রঙ প্রদর্শিত হয় না।
স্টাক পিক্সেল: পিক্সেলটি পুরোপুরি নষ্ট না হলেও এর একটি বা একাধিক সাব-পিক্সেল নির্দিষ্ট অবস্থায় আটকে গেলে স্টাক পিক্সেল তৈরি হয়। ফলে এটি সাধারণত লাল, সবুজ, নীল বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট রঙের বিন্দু হিসেবে স্ক্রিনে দেখা যায়।
হট পিক্সেল: কোনো পিক্সেল অস্বাভাবিকভাবে সক্রিয় থেকে গেলে বা মাত্রাতিরিক্ত উজ্জ্বলতা প্রদর্শন করলে সেটি হট পিক্সেল হিসেবে দেখা যেতে পারে। কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে এটি সাধারণত উজ্জ্বল সাদা বা রঙিন বিন্দু হিসেবে বেশি স্পষ্ট দেখা যায়।
কীভাবে পিক্সেল ত্রুটি শনাক্ত করবেন?
প্রথমেই স্ক্রিনটিকে মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে, যেন ধুলা বা ময়লাকে পিক্সেল ত্রুটি মনে না হয়। এরপর স্ক্রিনের ব্রাইটনেস স্বাভাবিক বা পর্যাপ্ত মাত্রায় রেখে ব্রাউজার থেকে সলিড ব্যাকগ্রাউন্ড ডাউনলোড করে ফুল-স্ক্রিন কালার টেস্ট চালাতে হবে।
১. সাদা স্ক্রিন: সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন স্থায়ী কালো বিন্দু দৃশ্যমান হলে তা ডেড পিক্সেলের সম্ভাব্য লক্ষণ।
২. কালো স্ক্রিন: পুরো কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে উজ্জ্বল সাদা বা রঙিন বিন্দু দেখা গেলে সেটি হট পিক্সেল হতে পারে।
৩. লাল, সবুজ ও নীল স্ক্রিন: প্রতিটি রঙ আলাদাভাবে ফুল-স্ক্রিনে পরীক্ষা করার সময় কোনো জায়গায় নির্দিষ্ট রঙের বিন্দু আটকে থাকলে সেটি স্টাক পিক্সেলের ইঙ্গিত দেয়। একই বিন্দু বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডে কীভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে, তাও পর্যবেক্ষণীয় বিষয়।
পরীক্ষাটি বিভিন্ন অনলাইন ডেড-পিক্সেল টেস্ট পেজ ব্যবহার করেও করা যায়। সন্দেহজনক বিন্দুটি একাধিক ব্যাকগ্রাউন্ডে পরীক্ষা করলে ভুল শনাক্তকরণের সম্ভাবনা কমে।
সমস্যা ধরা পড়লে করণীয়
ডেড পিক্সেল ও হট পিক্সেল সাধারণত ঠিক করা যায় না। পিক্সেলটি নষ্ট হয়ে গেলে সফটওয়্যার দিয়ে তা সচল করার নির্ভরযোগ্য উপায় নেই। সার্ভিস সেন্টারও সাধারণত আলাদা পিক্সেল ঠিক করে না; ত্রুটির মাত্রা ও ওয়ারেন্টি নীতির ওপর ভিত্তি করে তারা পুরো ডিসপ্লে প্যানেল বদলে দিতে পারে।
অন্যদিকে, স্টাক পিক্সেল কখনো কখনো পিক্সেল-রিফ্রেশিং পদ্ধতিতে ঠিক করা যেতে পারে। তবে সেটি কাজ না করলে সার্ভিস সেন্টারও সাধারণত আলাদা পিক্সেল মেরামত না করে প্রয়োজন অনুযায়ী পুরো ডিসপ্লে পরিবর্তনের পরামর্শ দেয়। নতুন ডিভাইসে এমন সমস্যা দেখা দিলে আগে রিটার্ন, রিপ্লেসমেন্ট ও ওয়ারেন্টি নীতি যাচাই করে কাস্টোমার কেয়ারে যোগাযোগ করাই ভালো। নিজে স্ক্রিনে চাপ বা ঘষে পিক্সেল ঠিক করার চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকতে হবে, নয়তো স্ক্রিনের আরও ক্ষতি হতে পারে।