অ্যাপল ওয়াচের প্রচলিত নকশায় ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে অ্যাপল। এর অংশ হিসেবে ডিসপ্লেবিহীন একটি নতুন ধরনের পরিধানযোগ্য ডিভাইস তৈরির সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত কোনো পণ্য বা ঘোষণা নয়।
ব্লুমবার্গের প্রযুক্তি সাংবাদিক মার্ক গারম্যানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বরাতে একাধিক প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অ্যাপলের নকশা দল গত কিছু সময় ধরে অ্যাপল ওয়াচের ভবিষ্যৎ নকশা নিয়ে বিভিন্ন ধারণা পরীক্ষা করছে। এর মধ্যে রয়েছে ভিন্ন ধরনের পর্দা, বিভিন্ন আকারের মডেল এবং একেবারে ডিসপ্লেবিহীন পরিধানযোগ্য ডিভাইস।
কেন ডিসপ্লে বাদ দেওয়ার চিন্তা?
সাম্প্রতিক সময়ে পর্দাবিহীন স্বাস্থ্য ও ফিটনেস ট্র্যাকার জনপ্রিয় হচ্ছে। হুপের মতো ডিভাইসগুলো প্রচলিত স্মার্টওয়াচের মতো বড় পর্দা না রেখেও স্বাস্থ্য, ঘুম ও শরীরচর্চার বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। এই পরিবর্তন অ্যাপলকেও নতুন ধরনের পরিধানযোগ্য ডিভাইস নিয়ে ভাবতে উৎসাহিত করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিসপ্লে না থাকলে ব্যাটারি ব্যবহারের পরিমাণ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে ব্যবহারকারীদের ঘন ঘন চার্জ দেওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে। তবে অ্যাপলের সম্ভাব্য ডিভাইসে কীভাবে তথ্য দেখা বা ব্যবহারকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তথ্য জানা যায়নি।
শুধু ডিসপ্লেবিহীন মডেল নয়
গারম্যানের প্রতিবেদনে শুধু পর্দাবিহীন ডিভাইসের কথাই বলা হয়নি। অ্যাপল বিভিন্ন ধরনের পর্দা ও আকারের অ্যাপল ওয়াচ নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে বলে জানা গেছে। এমনকি প্রচলিত আয়তাকার নকশার বাইরে গোলাকার পর্দার মডেল নিয়েও চিন্তা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে আরও দামি মডেল এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী সংস্করণ আনার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সিরিতেও আসতে পারে বড় পরিবর্তন
অ্যাপল ইতোমধ্যে অ্যাপল ওয়াচের সঙ্গে আরও উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিরি যুক্ত করার পথে এগোচ্ছে। অ্যাপল জানিয়েছে, নতুন সিরি অ্যাপল ওয়াচসহ বিভিন্ন অ্যাপল পণ্যে আরও গভীরভাবে যুক্ত হবে এবং ব্যক্তিগত তথ্য বুঝে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে।
অ্যাপলের বর্তমান পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য ও শরীরচর্চার বিভিন্ন সুবিধার ওপরও গুরুত্ব রয়েছে। সর্বশেষ অ্যাপল ওয়াচ মডেলগুলোতে ঘুম, হৃদ্স্বাস্থ্য ও শরীরচর্চাসংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
কবে দেখা যেতে পারে নতুন নকশা?
এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডিসপ্লেবিহীন অ্যাপল ওয়াচ এখনও নিশ্চিত কোনো পণ্য নয়। গারম্যানের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বলা হচ্ছে, অ্যাপল সম্ভাব্য বিভিন্ন নকশা নিয়ে পরীক্ষা করছে এবং কোন ধারণা শেষ পর্যন্ত বাস্তব পণ্যে রূপ নেবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তাই ২০২৬ সালের আসন্ন অ্যাপল ওয়াচে এমন আমূল পরিবর্তন দেখা যাবে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বরং ডিসপ্লেবিহীন বা সম্পূর্ণ নতুন নকশার ডিভাইসকে অ্যাপলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সম্ভাব্য একটি দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে অ্যাপল ওয়াচের ভবিষ্যৎ হয়তো শুধু আরও বড় পর্দা বা নতুন রঙের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিধানযোগ্য প্রযুক্তির ব্যবহার যেভাবে বদলাচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতের অ্যাপল ওয়াচও হয়তো প্রচলিত স্মার্টওয়াচের ধারণা থেকে বেরিয়ে সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা দিতে পারে।









