ক্লাউডেই চলবে কোয়ান্টাম কম্পিউটার, ওরাক্যাল-কোয়ান্টিনিউওয়ামের নতুন উদ্যোগ

কোয়ান্টাম কম্পিউটিংকে আরও সহজলভ্য করে তুলতে সম্প্রতি বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাক্যাল ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিং কোম্পানি কোয়ান্টিনাম দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের ঘোষণা দিয়েছে। চুক্তির আওতায় কোয়ান্টিনিউওয়ামের সবচেয়ে উন্নত কোয়ান্টাম কম্পিউটার হিলিওস ওরাক্যাল ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচারের (ওসিআই) একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এআই ডেটা সেন্টারে স্থাপন করা হবে। ফলে ওসিআই সেবার গ্রাহকেরা ক্লাউড কম্পিউটিং-এর মাধ্যমে হেলিওসের অ্যাক্সেস পাবে ও তা ব্যবহার করতে পারবে। 

দুই প্রতিষ্ঠান মূলত হাইব্রিড কোয়ান্টাম-এআই কম্পিউটিং নিয়ে কাজ করবে। তাদের লক্ষ্য হলো এআই, প্রচলিত সুপারকম্পিউটিং ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিংকে একই অবকাঠামোয় যুক্ত করে ড্রাগ ডিসকভারি, নতুন এলিমেন্ট আবিষ্কার, লজিস্টিকস, জ্বালানি, আর্থিক মডেলিং ও বড় পরিসরের অপ্টিমাইজেশনের মতো জটিল সমস্যায় প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করা। অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এ সুবিধা উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কোয়ান্টিনিউওয়ামের হিলিওস একটি ৯৮-ফিজিক্যাল-কিউবিটের ট্র্যাপড-আয়ন কোয়ান্টাম কম্পিউটার। কিউবিট হলো কোয়ান্টাম কম্পিউটারের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের মৌলিক একক, আর ‘ফিজিক্যাল কিউবিট’ হলো হার্ডওয়্যারে সরাসরি থাকা কিউবিট। এটি ৪৮টি লজিকাল কিউবিট নিয়ে প্রদর্শনী চালিয়েছে এবং এর গড় তু-কিউবিট গেট ফিডেলিটি ৯৯.৯২১ শতাংশ। অর্থাৎ দুটি কিউবিটের মধ্যে একটি কোয়ান্টাম অপারেশন নির্ধারিত ফল দেওয়ার হার প্রায় ৯৯.৯২১ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই নির্ভুলতার হার প্রচলিত ‘থ্রি-নাইনস’ বা ৯৯.৯ শতাংশ মানদণ্ডকেও ছাড়িয়েছে। কোয়ান্টাম কম্পিউটারটি বাণিজ্যিকভাবে ২০২৫ সালের নভেম্বরে চালু হয়।

ওসিআই-এর পরিকল্পিত কোয়ান্টাম সার্ভিসে হেলিওসের পাশাপাশি কোয়ান্টিনিউওয়ামের সফটওয়্যার উন্নয়ন ব্যবস্থাএবং ওপেন সোর্স হাইব্রিড-প্রোগ্রামিং ফ্রেমওয়ার্কের সমর্থন থাকবে। এর ফলে প্রচলিত কম্পিউটিং ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিং একসঙ্গে ব্যবহার করে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে। ওরাক্যাল জানিয়েছে, হেলিওস তাদের ক্লাউড অবকাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হওয়ায় কম্পিউটিং, নেটওয়ার্ক, স্টোরেজ ও ডেটা ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান সুবিধাগুলোর সঙ্গে এটি সমন্বয় করে কাজ করতে পারবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই কোয়ান্টাম সেবার পরীক্ষামূলক সংস্করণ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন এই পরিকল্পনাটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো শক্তি সাশ্রয়। এইচভিএসি (তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা) বাদ দিলে একটি হিলিওস সিস্টেম চালাতে আনুমানিক ৬০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ লাগে। বিদ্যুৎ ব্যবহারের দিক থেকে এটি বড় সুবিধা হতে পারে, কারণ একই ধরনের জটিল গণনার জন্য ব্যবহৃত শীর্ষস্থানীয় সুপারকম্পিউটারগুলো প্রায় ১৬ থেকে ৩৯ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ করতে পারে। অর্থাৎ হিলিওসের মূল কম্পিউটিং ব্যবস্থার বিদ্যুৎ চাহিদা এসব সুপারকম্পিউটারের তুলনায় অনেক কম।

এই অংশীদারত্বের আর্থিক শর্ত, হিলিওস স্থাপনের নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং ক্লাউড সেবাটির খরচ এখনো প্রকাশ করেনি ওরাক্যাল ও কোয়ান্টিনিউওয়াম। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলক সংস্করণ চালুর পর এই সেবা কীভাবে গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, তার বিস্তারিতও জানা যাবে এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিংকে বাণিজ্যিকভাবে আরও সহজলভ্য করার এই উদ্যোগের বাস্তব প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা পরবর্তী ধাপেই বোঝা যাবে।