চীনের সঙ্গে এআই প্রতিযোগিতা: দেশগুলোকে পক্ষ বেছে নিতে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির নেতৃত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে। এবার নিজেদের নেতৃত্বাধীন এআই জোটের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী দেশগুলোকে চীনের প্রতিদ্বন্দ্বী উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর এই বিষয়ে একটি খসড়া চিঠি তৈরি করেছে। চিঠিটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘এআই অপরচুনিটি স্টেটমেন্ট’-এ সই করা ৩৫টি দেশের উদ্দেশে লেখা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের পাশাপাশি চীনের প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো কাঠামোতে যুক্ত হলে ভবিষ্যতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সহযোগিতা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চিঠিটি এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কবে এটি পাঠাবে, কিংবা পাঠানোর আগে এর ভাষায় পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

এআইয়ের সঙ্গে চিপ ও খনিজের সম্পর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ শুধু এআই মডেল নিয়ে নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর চিপ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহব্যবস্থা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্যাক্স সিলিকা উদ্যোগের লক্ষ্য হলো এআই, সেমিকন্ডাক্টর এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা। এতে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও কাজাখস্তানসহ প্রায় দুই ডজন দেশ যুক্ত হয়েছে।

এর মধ্যে কাজাখস্তানের অবস্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি এখন পর্যন্ত পরিচিত একমাত্র দেশ, যেটি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগের পাশাপাশি চীনের নতুন এআই সহযোগিতা কাঠামোতেও যুক্ত হয়েছে। কাজাখস্তানের গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মজুত থাকায় প্রযুক্তি খাতেও দেশটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

চীনও তৈরি করছে নিজস্ব এআই জোট

অন্যদিকে চীনও আন্তর্জাতিক এআই সহযোগিতায় নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। রয়টার্স জানিয়েছে, জুলাইয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন’ চালু করেন।

চীনের লক্ষ্য হলো নিজেদের ওপেন-ওয়েট এআই প্রযুক্তিকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং এআই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের বিকল্প তৈরি করা।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এআই নিয়ে এই প্রতিযোগিতা?

এআই এখন শুধু চ্যাটবট বা ছবি তৈরির প্রযুক্তি নয়। উন্নত এআই ব্যবস্থা তৈরির জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী চিপ, বিপুল কম্পিউটিং ক্ষমতা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। ফলে এআই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তি সরবরাহব্যবস্থা ও কৌশলগত সম্পদের বিষয়টিও।

চীনের ওপেন-ওয়েট এআই মডেলগুলো দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক -এর মতো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মডেলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তৈরি করছে। ফলে দুই দেশের প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সামনে কী হতে পারে?

যুক্তরাষ্ট্র চাইছে মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোকে নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবস্থার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতে। অন্যদিকে চীনও নিজস্ব এআই প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিধি বাড়াচ্ছে।

ফলে আগামী দিনে এআই নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কোন দেশ কোন প্রযুক্তি জোটের সঙ্গে থাকবে, তার ওপর এআই মডেল, চিপ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থাতেও প্রভাব পড়তে পারে।