প্রতিটি স্মার্টফোনেই ১৫ সংখ্যার এমন একটি ইউনিক নম্বর রয়েছে, যেটা নিত্যদিনের ব্যবহারে খুব একটা প্রয়োজন না হলেও ফোন হারিয়ে গেলে, চুরি হলে বা অন্য কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে এর গুরুত্ব সামনে আসে। ১৫ সংখ্যাবিশিষ্ট নম্বরটি হলো আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) নম্বর। প্রতিটি মোবাইল ডিভাইসকে নেটওয়ার্কে শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত এই নম্বরটি ফোনের পরিচয়পত্রের মতো কাজ করে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনের ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)ব্যবস্থায় আইএমইআই নম্বর ব্যবহার করে কোনও হ্যান্ডসেট বৈধ কি না, সেটি হারানো বা চুরি হিসেবে রিপোর্ট করা হয়েছে কিনা এবং আইএমইআই-সংক্রান্ত কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কিনা, এসবকিছু যাচাই করা যায়।
আইএমইআই নম্বর কি?
আইএমইআই নম্বর হলো ১৫ সংখ্যার একটি স্বতন্ত্র ডিভাইস শনাক্তকারী নম্বর, যা মোবাইল নেটওয়ার্কে একটি ফোনকে অন্য ডিভাইস থেকে আলাদাভাবে শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। অনেকে এটিকে সিমের নম্বর মনে করলেও, এর সঙ্গে মোবাইল নম্বর বা সিমের সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। সিম পরিবর্তন করলেও সাধারণত ফোনের আইএমইআই নম্বরের পরিবর্তন হয় না। ফলে একই ফোনে অন্য সিম ব্যবহার করলেও নেটওয়ার্কের কাছে ডিভাইসটির পরিচয় আইএমইআই এর মাধ্যমেই শনাক্ত করা যায়। একাধিক সিম সমর্থনকারী ফোনে সাধারণত প্রতিটি সিম স্লটের জন্য আলাদা আইএমইআই থাকে।
আইএমইআই নম্বরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
একটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের যেমন তার জাতীয় পরিচয় পত্র বা এনআইডি নির্দিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় বহন করে, ঠিক তেমনই আইএমইআই নম্বর প্রতিটি ফোনের শনাক্তকারী স্বতন্ত্র পরিচয় হিসেবে কাজ করে। নম্বরটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হলো হারানো বা চুরি যাওয়া ফোন শনাক্ত ও নেটওয়ার্কে ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা ব্লক করতে সহায়তা করা। কোনও ডিভাইস হারানো বা চুরি হিসেবে রিপোর্ট হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা মোবাইল অপারেটর ফোনের আইএমইআই’র ভিত্তিতে সেটিকে নেটওয়ার্কে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্লক করতে পারে। এছাড়াও এনইআইআর ব্যবস্থায় আইএমইআই নম্বরটি ব্যবহার করে হ্যান্ডসেটের বৈধতা যাচাই করা যায়। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, কোনও ফোন কেনার আগে কেওয়াইডি <স্পেস> ১৫ সংখ্যার আইএমইআই নম্বর লিখে ১৬০০২ নম্বরে এসএমএস পাঠালে হ্যান্ডসেটটির বৈধতা সম্পর্কে জানা যায়।
বিশেষ করে ব্যবহৃত বা বিদেশ থেকে আনা ফোন এবং ব্যবহৃত বা সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনার ক্ষেত্রে আইএমইআই নম্বর যাচাই করা জরুরি। এনইআইআর-এ ডিভাইসের তথ্যের সঙ্গে ফোনের মডেল বা ডিভাইসের পরিচয় না মিললে ক্লোন বা নকল আইএমইআই-সহ বিভিন্ন অনিয়মের আশঙ্কা থাকতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে ফোনটির বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তাই এসব ক্ষেত্রে শুধু বিক্রেতার দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর না করে আইএমইআই যাচাইয়ের পাশাপাশি ক্রয় রসিদও খতিয়ে দেখা উচিত।
ডিভাইসে আইএমইআই নম্বর কীভাবে দেখা যায়?
আইএমইআই নম্বর সবচেয়ে সহজ উপায়ে বের করতে ফোনের ডায়ালার খুলে *#০৬# ডায়াল করতে হবে। সাধারণত সঙ্গে সঙ্গে স্ক্রিনে একটি সিরিয়াল নম্বরের সঙ্গে ফোনে একটি সিম থাকলে একটি কিংবা দুইটি সিমের ক্ষেত্রে দুইটি ইএমআই নম্বর বারকোড সহকারে দেখা যায়। এছাড়াও অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সেটিংস → অ্যাবাউট ফোন → স্ট্যাটাস বা ডিভাইসভেদে কাছাকাছি মেনুতে এবং আইওএস-এ সেটিংস → জেনারেল → অ্যাবাউট অপশন থেকেও আইএমইআই নম্বর দেখা যায়। কেনার সময় ফোনের মূল বক্স বা ক্রয় রসিদেও অনেক সময় নম্বরটি লেখা থাকে।
নতুন বা ব্যবহৃত ফোন কেনার আগে আইএমইআই নম্বর নিজের এবং ফোনের নিরাপত্তার স্বার্থে যাচাই করা অত্যাবশ্যকীয়। কোনও অমিল থাকলে কেনার আগে বিষয়টি বিক্রেতার কাছেই পরিষ্কার করা জরুরি। বিশেষ করে ডুয়াল-সিম ফোনে প্রতিটি আইএমইআই নম্বর আলাদাভাবে যাচাই করা উচিত। এছাড়াও ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে নিজের ফোনের আইএমইআই নম্বরটি আলাদাভাবে সংরক্ষণ করে রাখা উচিত, যেকোনও জরুরি পরিস্থিতিতেই নম্বরটি সহায়ক হতে পারে।