ম্যাক মিনি নাকি ম্যাক স্টুডিও, কার জন্য কোনটি ভালো?

ডেস্কটপ কম্পিউটার কেনার ক্ষেত্রে অ্যাপলের নতুন ম্যাক মিনি ও ম্যাক স্টুডিও নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বাইরে থেকে দেখতে দুটির মধ্যে বড় কোনও পার্থক্য না থাকলেও ভেতরের হার্ডওয়্যার, কাজের ক্ষমতা, আকার ও দামের ক্ষেত্রে রয়েছে বেশ কিছু পার্থক্য। ফলে প্রশ্ন উঠছে, সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য কোনটি যথেষ্ট, আর কার জন্য দরকার আরও শক্তিশালী ম্যাক স্টুডিও?

ম্যাক মিনি, ছোট আকারে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা

ম্যাক মিনির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এর আকার। মাত্র ২ ইঞ্চি উচ্চতার এই ডেস্কটপটি ছোট জায়গায় সহজেই রাখা যায়। কম জায়গায় শক্তিশালী কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ থাকায় সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এটি বেশ সুবিধাজনক।

নতুন ম্যাক মিনিতে রয়েছে অ্যাপলের এম৬ চিপ। এটি অ্যাপলের প্রথম ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি চিপ। কম বিদ্যুৎ খরচ ও তুলনামূলক কম তাপ উৎপাদনের পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজের জন্য যথেষ্ট ক্ষমতা দেওয়ার লক্ষ্যেই চিপটি তৈরি করা হয়েছে।

বেস মডেলে রয়েছে ১২ কোরের সিপিইউ, ১২ কোরের জিপিইউ, ১৬ গিগাবাইট র‍্যাম ও ২৫৬ গিগাবাইট স্টোরেজ। সাধারণ ব্রাউজিং, অফিসের কাজ, ছবি সম্পাদনা এবং হালকা ভিডিও সম্পাদনার মতো কাজে এই কনফিগারেশন যথেষ্ট হতে পারে। তবে ২৫৬ গিগাবাইট স্টোরেজ অনেক ব্যবহারকারীর জন্য কম হতে পারে।

যারা তুলনামূলক ভারী কাজ করেন, তাদের জন্য ম্যাক মিনিতে এম৫ প্রো চিপ বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এতে সর্বোচ্চ ১৮ কোরের সিপিইউ, ১৬ কোরের জিপিইউ, ৬৪ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ৮ টেরাবাইট পর্যন্ত এসএসডি নেওয়া যায়। ফলে কোডিং ও ত্রিমাত্রিক গ্রাফিকসের মতো কাজেও এটি ব্যবহার করা সম্ভব।

ম্যাক স্টুডিও, বেশি শক্তির প্রয়োজন যাদের

ম্যাক স্টুডিও মূলত এমন ব্যবহারকারীদের জন্য, যাদের কম্পিউটারে আরও বেশি ক্ষমতা প্রয়োজন। এর আকার ম্যাক মিনির তুলনায় বড়। ম্যাক স্টুডিওর উচ্চতা ৩ দশমিক ৭ ইঞ্চি এবং ওজন ৬ পাউন্ডের বেশি।

বেস মডেলেই রয়েছে এম৫ ম্যাক্স চিপ, যেখানে ১৮ কোরের সিপিইউ ও ৩২ কোরের জিপিইউ রয়েছে। ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল প্রশিক্ষণসহ ভারী কম্পিউটিংয়ের কাজে এটি ম্যাক মিনির তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী।

আরও বেশি ক্ষমতার প্রয়োজন হলে রয়েছে এম৫ আল্ট্রা। এই চিপ তৈরিতে দুটি এম৫ ম্যাক্স চিপ একসঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ ৩৬ কোরের সিপিইউ ও ৮০ কোরের জিপিইউ পাওয়া যায়। সর্বোচ্চ ৫১২ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ১৬ টেরাবাইট এসএসডিও বেছে নেওয়া যায়। ফলে বড় আকারের উৎপাদনমূলক কাজ, প্রকৌশল ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার মতো ক্ষেত্রে এটি বেশি উপযোগী।

পোর্টেও এগিয়ে ম্যাক স্টুডিও

ম্যাক স্টুডিওর আরেকটি সুবিধা হলো এর বেশি সংখ্যক পোর্ট। এতে চারটি থান্ডারবোল্ট ৫ পোর্ট রয়েছে, যেগুলো সর্বোচ্চ ১২০ জিবিপিএস গতিতে তথ্য স্থানান্তর করতে পারে। এর সঙ্গে রয়েছে ১০ গিগাবিট ইথারনেট, এইচডিএমআই, হেডফোন জ্যাক ও দুটি ইউএসবি-এ পোর্ট।

সামনের দিকে রয়েছে আরও দুটি ইউএসবি-সি পোর্ট। ফলে অতিরিক্ত হাব ব্যবহারের প্রয়োজন অনেক ক্ষেত্রে কমে যায়। ম্যাক মিনিতেও একাধিক পোর্ট রয়েছে, তবে ম্যাক স্টুডিওর তুলনায় সংখ্যা কম।

দামের পার্থক্যও বড়

নতুন ম্যাক মিনির দাম শুরু হচ্ছে ৮৯৯ ডলার থেকে। অন্যদিকে ম্যাক স্টুডিওর প্রাথমিক দাম ২ হাজার ৪৯৯ ডলার। অর্থাৎ দুই মডেলের মধ্যে দামের ব্যবধান বেশ বড়।

তাই কোনটি নেওয়া উচিত, সেটি মূলত ব্যবহারকারীর কাজের ওপর নির্ভর করছে। সাধারণ ব্যবহার, অফিসের কাজ, হালকা সৃজনশীল কাজ কিংবা ছোট জায়গায় ডেস্কটপ ব্যবহারের প্রয়োজন হলে ম্যাক মিনি যথেষ্ট হতে পারে। আর যারা নিয়মিত ভারী কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ত্রিমাত্রিক গ্রাফিকস, প্রকৌশল বা বৈজ্ঞানিক গবেষণার মতো কাজ করেন, তাদের জন্য বাড়তি ক্ষমতার কারণে ম্যাক স্টুডিও বেশি উপযোগী হতে পারে।

আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার, দুটিই মূলত ডেস্কটপ কম্পিউটার। তাই কিবোর্ড, মাউস ও মনিটর আলাদাভাবে কিনতে হবে। ব্যবহারকারীর কাছে আগে থেকেই এসব আনুষঙ্গিক যন্ত্র থাকলে মোট খরচ তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

সব মিলিয়ে, ম্যাক মিনি হলো ছোট আকারে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা পাওয়া একটি ডেস্কটপ, আর ম্যাক স্টুডিও তৈরি হয়েছে সর্বোচ্চ কর্মক্ষমতা প্রয়োজন এমন ব্যবহারকারীদের জন্য। তাই শুধু বেশি দাম মানেই সবার জন্য ভালো নয়। নিজের কাজের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী মডেল বেছে নেওয়াই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।