বহুদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজেদের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচন করেছে অ্যাপল। ‘আইফোন ডুও’ নামের এই ফোনে রয়েছে ভাঁজ করা যায় এমন দুই পর্দা, নতুন এ২০ প্রো চিপ, অ্যাপলের সি২ মডেম, ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন আল্ট্রা-ওয়াইড মেইন ক্যামেরা এবং অ্যাপল পেনসিল ব্যবহারের সুবিধা।
বন্ধ অবস্থায় আইফোন ডুও দেখতে প্রায় পাসপোর্টের আকারের। খুললে এতে পাওয়া যাবে আইফোনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ডিসপ্লে। বাইরের ডিসপ্লে ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি এবং ভেতরের ডিসপ্লে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চি। বড় পর্দাটি পোর্ট্রেট ও ল্যান্ডস্কেপ—দুইভাবেই স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
ভেতরের বড় ডিসপ্লের কারণে একইসঙ্গে একাধিক কাজ করা যাবে। এতে স্প্লিট-ভিউ সুবিধায় দুটি আলাদা অ্যাপ পাশাপাশি চালানো যাবে। একই অ্যাপের একাধিক ইনস্ট্যান্সও ব্যবহার করা যাবে। দুই ডিসপ্লেতেই অ্যাপল পেনসিল ব্যবহার করা যাবে, ফলে নোট নেওয়া ও অন্যান্য কাজেও ফোনটি কাজে লাগবে।
ফোনটি খোলা বা বন্ধ করার সময় ছোট ও বড় ডিসপ্লের মধ্যে পরিবর্তন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে। অ্যাপলের দাবি, এ সময় নিয়ন্ত্রণের জায়গাগুলো একই অবস্থানে থাকে, ফলে ব্যবহারকারীকে নতুন করে সেগুলো খুঁজতে হবে না।
ফোল্ডিং মেকানিজমের জন্য আইফোন ডুওতে বিশেষ হিঞ্জ ব্যবহার করা হয়েছে। এতে রয়েছে শতাধিক উপাদান এবং কাস্টম টর্ক প্রোফাইল। ফোনটি বন্ধ অবস্থায় নিরাপদে আটকে থাকবে এবং পুরোপুরি খুললে সমতল হয়ে যাবে। শক্তি ও ওজনের ভারসাম্য রাখতে এতে টাইটানিয়াম ফ্রেম ব্যবহার করা হয়েছে।
বাইরের ডিসপ্লেতে চার্জে না রেখেও স্ট্যান্ডবাই মোড চালু রাখা যাবে। ফলে সেখানে সবসময় ঘড়ি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দেখা যাবে। নিরাপত্তার জন্য পাশের বাটনে টাচ আইডি যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহার করেও ফোনটি আনলক করা যাবে।
পারফরম্যান্সের জন্য আইফোন ডুওতে রয়েছে অ্যাপলের নতুন এ২০ প্রো চিপ এবং নিজস্ব সি২ মডেম। ফোনটির দুই পাশে দুটি ব্যাটারি রয়েছে। অ্যাপলের হিসাবে, শুধু ভেতরের ডিসপ্লে ব্যবহার করলে একবার চার্জে ৩১ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও দেখা যাবে। শুধু বাইরের ডিসপ্লে ব্যবহার করলে এই সময় বেড়ে দাঁড়াবে ৪৪ ঘণ্টায়। আর দুই ডিসপ্লে সমানভাবে ব্যবহার করলে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে।
ক্যামেরার ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে অ্যাপল। ফোনটির বাইরে রয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন আল্ট্রা-ওয়াইড মেইন ক্যামেরা। এর পাশে রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের ২x অপটিক্যাল টেলিফটো ক্যামেরা। মেইন ক্যামেরা দিয়ে ৪কে রেজল্যুশনে প্রতি সেকেন্ডে ১২০ ফ্রেমে ভিডিও ধারণ করা যাবে। পাশাপাশি ৪কে ডলবি ভিশন এইচডিআর টাইম-ল্যাপস ভিডিও ধারণের সুবিধাও রয়েছে।
সামনের দিকে রয়েছে সেন্টার স্টেজ ফ্রন্ট ক্যামেরা। আর ভেতরের ডিসপ্লের নিচে রয়েছে ফেসটাইম ক্যামেরা। প্রয়োজন না হলে ভেতরের ক্যামেরাটি দৃশ্যমান হবে না।
আইফোন ডুও পাওয়া যাবে ‘নাইট স্কাই’ ও ‘স্টার হোয়াইট’—এই দুই রঙে। ২৫৬ গিগাবাইট স্টোরেজের মডেলের দাম শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে প্রি-অর্ডার নেওয়া হবে। ২৩ অক্টোবর থেকে ৭০টি দেশে বাজারে পাওয়া যাবে ফোনটি।