এআই নিয়ন্ত্রণে একজন শক্তিশালী প্রেসিডেন্টই যথেষ্ট, ট্রাম্পের দাবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতি এবং অদূর ভবিষ্যতে এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে টেক জায়ান্টদের উদ্বেগ ও সতর্কবার্তার বিপরীতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিনিষেধের দাবি সরাসরি নাকচ করে তিনি বলেছেন, প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা অতিরঞ্জিত। একই সঙ্গে এআই ও ডেটা সেন্টারের বিরোধিতা ঘিরে একটি ‘অসুস্থ ষড়যন্ত্র’ সক্রিয় আছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

১৪ সেপ্টেম্বর ট্রাম্পের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি বলেন, এআইয়ের জন্য নতুন কোনো নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার প্রয়োজন নেই। তার ভাষায়, ‘এআইয়ের একমাত্র নিয়ন্ত্রক বা ‘গার্ডরেল’ হলো একজন শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান (উচ্চ আইকিউসম্পন্ন) প্রেসিডেন্ট; আর যুক্তরাষ্ট্রের এমন প্রেসিডেন্ট রয়েছে।’

এআইয়ের মাধ্যমে বিশ্ব দখল, মানবজাতি ধ্বংসসহ নানা আশঙ্কাকে সরাসরি ‘প্রতারণা’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এআই বিশ্বের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, মানবজাতিকে ধ্বংস করা এবং এ ধরনের সব খারাপ বিষয় নিয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে, তা একটি প্রতারণা।’

অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেই, ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং ইলন মাস্কসহ প্রযুক্তি খাতের স্বনামধন্য ব্যক্তিদের এআই উন্নয়নের গতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের আহ্বানের পর ট্রাম্পের এমন প্রতিক্রিয়া সমালোচিত হয়েছে।

অন্যদিকে, অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী আমোদেই উন্নত এআই মডেল বাজারে ছাড়ার আগে স্বাধীনভাবে এর নিরাপত্তা যাচাই বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি এআই উন্নয়ন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সময়ে এআই প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়, তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নতুন আইন প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

তবে ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এআই প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই সরকারের কাছে তাদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানানোয় বিস্ময় প্রকাশ করে ভ্যান্স বলেন, ‘বিষয়টি কিছুটা ট্রোজান ঘোড়ার মতো মনে হচ্ছে।’

তার ইঙ্গিত ছিল, এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণের দাবি আপাতদৃষ্টিতে নিরাপত্তার স্বার্থে করা হলেও এর আড়ালে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘এআইয়ের ঝুঁকি যেমন রয়েছে, তেমনি এর উল্লেখযোগ্য সুবিধাও রয়েছে। তবে এ নিয়ে আমেরিকানদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।’

এদিকে ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্পের দাবি, এআই উন্নয়নের গতি কমালে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে চীন।

তার ভাষায়, ‘এআইয়ের বিরুদ্ধে এবং ডেটা সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে একটি অসুস্থ ষড়যন্ত্র চলছে, আর এতে একমাত্র খুশি হচ্ছে চীন।’