বিরল রোগের ওষুধ আবিষ্কারে এআই, নতুন গবেষণাগার চালু করলো অ্যানথ্রপিক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ওষুধ গবেষণার পরিধি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ায় নিজস্ব ‘ওয়েট ল্যাব’ বা জীববিজ্ঞান গবেষণাগার স্থাপন করেছে অ্যানথ্রপিক। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ল্যাবটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন প্রতিষ্ঠানটির লাইফ সায়েন্সেস বিভাগের প্রধান এরিক কডারার-আব্রামস। এত দিন কম্পিউটারভিত্তিক গবেষণায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া অ্যানথ্রপিক এখন নিজস্ব স্থাপনায় বাস্তব জীববৈজ্ঞানিক পরীক্ষাও চালাচ্ছে। তবে ল্যাবটির কার্যক্রম নির্দিষ্টভাবে ষুধ আবিষ্কারে সীমাবদ্ধ নয় বলে জানা যায়। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরের অংশীদারদের দিয়েও পরীক্ষা করানো হবে।

চলতি বছর জুনে সান ফ্রান্সিসকোর এক অনুষ্ঠানে অ্যানথ্রপিক প্রথমবারের মতো ওষুধ গবেষণা কার্যক্রমের পরিকল্পনা জানায়। প্রতিষ্ঠানটি এমন রোগ নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণায় মনোযোগ দিচ্ছে, যেগুলো প্রচলিত ওষুধ কোম্পানিগুলোর জন্য তুলনামূলকভাবে কম লাভজনক হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত গবেষণার আওতায় আসেনি। বিশেষ করে বিরল এবং প্রচলিত পদ্ধতিতে চিকিৎসার ওষুধ তৈরি করা কঠিন, এমন রোগের ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করে গবেষণার সময় কমানো এবং সম্ভাব্য ওষুধ শনাক্ত করার প্রক্রিয়া দ্রুত করাই এর অন্যতম লক্ষ্য। আর এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই জীবনবিজ্ঞান গবেষণায় বিনিয়োগ ও জনবল বাড়াচ্ছে অ্যানথ্রপিক।

গবেষণাগারের পরীক্ষাগুলোও এআই-এর সমন্বয়ে স্বয়ংক্রিয় করার সক্ষমতা যাচাই করছে অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব এআই ক্লডকে রোবোটিক যন্ত্রপাতির সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে মানব হস্তক্ষেপ কমিয়ে এনে বিভিন্ন পরীক্ষা পরিচালনা করা সম্ভব কি না, তা পরীক্ষা করছে। তবে পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো প্রক্রিয়ায় মানব তদারকি রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া গত আগস্ট মাসে ‘মডেল  হার্ডওয়্যার স্ট্যান্ডার্ড’ চালু করে গবেষণাগারে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সঙ্গে এআই মডেলের কাজ করার জন্য একটি সাধারণ প্রযুক্তিগত কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেয় অ্যানথ্রপিক। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ল্যাবরেটরি সরঞ্জামের সঙ্গে এআই মডেলের সমন্বয় সহজ করার লক্ষ্য রয়েছে।

জীববিজ্ঞান গবেষণায় ক্লড এআই-এর ব্যবহার বাড়াতে ৬০টির বেশি বৈজ্ঞানিক ডেটাবেসের সঙ্গে যুক্ত ‘ক্লড সাইন্স’ প্ল্যাটফর্মও চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্ল্যাটফর্মটিতে জিনোমিকস, প্রোটিওমিকস ও স্ট্রাকচারাল বায়োলজিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও সরঞ্জাম ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রায় ৪০ কোটি ডলারের শেয়ারের বিনিময়ে ক-ইফিশিয়েন্ট বায়ো অধিগ্রহণ করেছে অ্যানথ্রপিক। এছাড়াও বিভিন্ন বড় ফার্মাসিউটিক্যাল ও বায়োটেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব অংশীদারত্বের মাধ্যমে গবেষণা, ওষুধ উন্নয়ন এবং সম্ভাব্য ওষুধ শনাক্তকরণে ক্লডের সক্ষমতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিস্টল মায়ার্স স্কুইব ও রোশের জেনেনটেকের কর্মীরাও গবেষণা ও ওষুধ উন্নয়নের কাজে ক্লড ব্যবহার করতে পারছেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর ডেনমার্কভিত্তিক ওষুধ কোম্পানি নোভো নরডিস্কের সঙ্গে অংশীদারত্বের ঘোষণা দেয় অ্যানথ্রপিক। 

তবে আপাতত নিজস্বভাবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনার পরিকল্পনা নেই অ্যানথ্রপিকের। ওষুধ বাজারজাত করার চূড়ান্ত ধাপ পর্যন্ত যাওয়ার পরিবর্তে ফার্মাসিউটিক্যাল ও বায়োটেক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করে প্রাথমিক ও প্রি-ক্লিনিক্যাল গবেষণায় এআই ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করাই তাদের বর্তমান লক্ষ্য।