রিফারবিশড নাকি প্রি-ওনড, কোন ফোন আপনার জন্য ভালো

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২০আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২০

স্মার্টফোনের দাম দিন দিন বাড়ছে। তাই নতুন ফোনের পরিবর্তে ব্যবহৃত বা রিফারবিশড ফোন কিনে অনেকেই অর্থ সাশ্রয় করছেন। তবে বাজারে থাকা সব ব্যবহৃত ফোন একই ধরনের নয়। কোনও ফোনের গায়ে ‘প্রি-ওনড’, ‘রিফারবিশড’ বা ‘সার্টিফায়েড প্রি-ওনড’ লেখা থাকলেও এগুলোর অর্থ এক নয়।

সহজভাবে বললে, ‘প্রি-ওনড’ বা ‘ইউজড’ শব্দটি ফোনটির আগের ব্যবহার বোঝায়। অন্যদিকে ‘রিফারবিশড’ বলতে এমন একটি প্রক্রিয়াকে বোঝায়, যার মাধ্যমে ফোনটি পরীক্ষা, পরিষ্কার ও প্রয়োজন অনুযায়ী মেরামত করা হয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে নষ্ট যন্ত্রাংশ বদলে নতুন যন্ত্রাংশও লাগানো হয়।

অর্থাৎ, সব রিফারবিশড ফোনই ব্যবহৃত। তবে সব ব্যবহৃত ফোন রিফারবিশড নয়। সাধারণ ব্যবহৃত ফোন বেশিরভাগ সময় যে অবস্থায় থাকে, সেই অবস্থাতেই বিক্রি করা হয়।

তবে রিফারবিশড ফোন মানেই যে সবসময় ভালো বিকল্প, তা নয়। কোনও ব্যবহৃত ফোনের ইতিহাস জানা থাকলে, ক্রেতা সুরক্ষা থাকলে বা ওয়ারেন্টির মেয়াদ বাকি থাকলে সেটিও ভালো কেনাকাটা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এমন ফোনের দাম রিফারবিশড ফোনের চেয়েও কম হতে পারে।

রিফারবিশড ফোনের মান এক নয়

‘রিফারবিশড’ শব্দটি সব জায়গায় একই মান বা প্রক্রিয়া বোঝায় না। কোনও ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান অথবা তৃতীয় পক্ষ রিফারবিশড করতে পারে। কে ফোনটি সংস্কার করেছে, কী ধরনের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করেছে, কতটা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং কী ধরনের ওয়ারেন্টি দেওয়া হচ্ছে, তা প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে, অ্যাপলের সার্টিফায়েড রিফারবিশড আইফোনে নতুন ব্যাটারি ও বাইরের কাভার দেওয়া হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপলের আসল যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়। এসব ফোনে নতুন আইফোনের মতো এক বছরের সীমিত ওয়ারেন্টিও থাকে।
স্যামসাংয়ের ‘সার্টিফায়েড রিনিউড’ ফোনগুলো ১৪৭ ধাপের মান যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যায়। ফলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের রিফারবিশড ফোন কেনার ক্ষেত্রে কী ধরনের পরীক্ষা ও সেবা পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার ধারণা থাকে।

তবে তৃতীয় পক্ষের রিফারবিশড ফোনের নিয়ম আলাদা হতে পারে। যেমন, ইবের ‘সার্টিফায়েড রিফারবিশড’ শ্রেণির ফোন নির্মাতা বা অনুমোদিত বিক্রেতা সংস্কার করে। এসব ফোনে অলস্টেটের মাধ্যমে দুই বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়া হয়। আবার ‘এক্সেলেন্ট’, ‘ভেরি গুড’ ও ‘গুড’ শ্রেণির রিফারবিশড ফোন মান যাচাই করা বিক্রেতাদের কাছ থেকে আসে এবং এসব ফোনে এক বছরের ওয়ারেন্টি থাকে।

ইবের ‘সেলার রিফারবিশড’ আলাদা একটি তালিকাভুক্ত অবস্থা। এটি ইবের আনুষ্ঠানিক রিফারবিশড কর্মসূচির অংশ নয়। তাই কোনও ফোনে দুই বছরের সার্টিফায়েড ওয়ারেন্টি থাকলেও সেটির সেবা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানই দেবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
ব্যাক মার্কেটের মতো তৃতীয় পক্ষের রিফারবিশড প্ল্যাটফর্মেও নির্দিষ্ট মানদণ্ড থাকে। সেখানে পেশাদার সংস্কারকারীরা ফোন বিক্রি করেন। এসব ফোনে কমপক্ষে ৮০ শতাংশ ব্যাটারি স্বাস্থ্য, ফ্যাক্টরি রিসেট এবং আগের ব্যবহারকারীর তথ্য মুছে ফেলার শর্ত রয়েছে। ফোনের সঙ্গে এক বছরের ওয়ারেন্টি ও ৩০ দিনের বিনা খরচে ফেরত দেওয়ার সুবিধাও থাকে।

সার্টিফায়েড প্রি-ওনড ফোন কী?

‘সার্টিফায়েড প্রি-ওনড’ শব্দটি অনেক সময় রিফারবিশড ও ব্যবহৃত ফোনের পার্থক্যকে অস্পষ্ট করে। যেমন, ভেরিজনের সার্টিফায়েড প্রি-ওনড ফোনগুলো শুধু একজন ব্যবহারকারীর কাছ থেকে আরেকজনের কাছে বিক্রি করা হয় না। এগুলো পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কার করা হয়।

ভেরিজন ফোনের ব্যাটারি স্বাস্থ্য ও সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা পরীক্ষা করার কথা জানালেও ব্যাটারি স্বাস্থ্য কত শতাংশের নিচে থাকা যাবে না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সীমা উল্লেখ করে না। এসব ফোন কিস্তি সুবিধার আওতাতেও থাকে।

রিফারবিশড নাকি ব্যবহৃত ফোন কিনবেন?

কম ঝুঁকি ও কম ঝামেলা চাইলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সার্টিফায়েড বা বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের রিফারবিশড ফোন বেছে নেওয়া তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হতে পারে। এসব ফোনের দাম সাধারণ ব্যবহৃত ফোনের চেয়ে কিছুটা বেশি হলেও সেই বাড়তি দামের মধ্যে পরীক্ষা, ফেরত দেওয়ার সুবিধা এবং ওয়ারেন্টির মতো সেবা থাকতে পারে।

অন্যদিকে, পরিচিত কারও কাছ থেকে ব্যবহৃত ফোন কিনলে সেটি কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। বিশ্বস্ত ব্যবহৃত ফোনের মার্কেটপ্লেসও ঝুঁকি কমাতে পারে। যেমন, সোয়াপ্পায় তালিকাভুক্ত ফোন সম্পূর্ণ সচল, পরিষ্কার আইএমইআইযুক্ত, অ্যাক্টিভেশন লকমুক্ত এবং কোনও বকেয়া কিস্তি ছাড়া হতে হয়। তালিকার সঙ্গে ফোনের বড় ধরনের অমিল থাকলে ক্রেতা ফেরত পাওয়ার অধিকার রাখেন।

তবে ফোন কেনার সময় শুধু ‘রিফারবিশড’ বা ‘প্রি-ওনড’ লেখা দেখলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ব্যাটারি স্বাস্থ্য, মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে সামঞ্জস্য, সফটওয়্যার আপডেট সুবিধা, পরিষ্কার আইএমইআই এবং আগের অ্যাকাউন্টের লক সরানো হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।

রিফারবিশড ফোন হলে কে এটি সংস্কার করেছে, কী ধরনের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছে, ওয়ারেন্টি কে দিচ্ছে এবং কত দিনের মধ্যে ফোন ফেরত দেওয়া যাবে, সেসব তথ্যও জেনে নেওয়া জরুরি।

শেষ পর্যন্ত, বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে কেনা ভালো ইতিহাসের একটি ব্যবহৃত ফোন, অস্পষ্ট তথ্যের কোনও বিক্রেতার কাছ থেকে কেনা বেশি দামের রিফারবিশড ফোনের চেয়ে ভালো চুক্তি হতে পারে।

/জেএ/ইউএস/
সম্পর্কিত
এআইয়ের পর এবার এজিআই, গবেষণা গুগল ইনস্টিটিউট
ভবিষ্যৎ সংস্করণকে কারচুপি শেখাচ্ছিল ওপেনএআইয়ের এআই মডেল, মিললো গোপন নোট
এআই কি ক্যাপচা সমাধান করতে পারে?
সর্বশেষ খবর
বিএনপি পানি খাবে, কিন্তু ঘোলা করে খাবে: জামায়াত আমির
বিএনপি পানি খাবে, কিন্তু ঘোলা করে খাবে: জামায়াত আমির
অভিনয় ছেড়ে জাপানে কী করছেন অপর্ণা ঘোষ
অভিনয় ছেড়ে জাপানে কী করছেন অপর্ণা ঘোষ
জনবল নেবে বাংলাদেশ-চায়না রিনিউয়েবল এনার্জি কোম্পানি
জনবল নেবে বাংলাদেশ-চায়না রিনিউয়েবল এনার্জি কোম্পানি
জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের তালিকায় নেই নেতানিয়াহু
জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের তালিকায় নেই নেতানিয়াহু
সর্বাধিক পঠিত
পাকিস্তানে জুমার নামাজের সময় বিস্ফোরণ, প্রাণ গেলো ১৬ জনের
পাকিস্তানে জুমার নামাজের সময় বিস্ফোরণ, প্রাণ গেলো ১৬ জনের
তিন নামকরা হোটেলকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা
তিন নামকরা হোটেলকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা
৩ দফা বদলি, অবশেষে উপজেলা ছাড়লেন সেই এসিল্যান্ড
৩ দফা বদলি, অবশেষে উপজেলা ছাড়লেন সেই এসিল্যান্ড
জেলায় জেলায় বিয়ে করা পুলিশ কর্মকর্তাকে যেভাবে ধরিয়ে দিলেন ষষ্ঠ স্ত্রী
জেলায় জেলায় বিয়ে করা পুলিশ কর্মকর্তাকে যেভাবে ধরিয়ে দিলেন ষষ্ঠ স্ত্রী
লংমার্চের সভামঞ্চে একদিনের জন্য বসেছে বিদ্যুতের মিটার, এক এলাকাতেই ৫০০ পুলিশ
লংমার্চের সভামঞ্চে একদিনের জন্য বসেছে বিদ্যুতের মিটার, এক এলাকাতেই ৫০০ পুলিশ