অন্যের ভিডিও ক্লিপ ব্যবহার করছেন? বড় ধাক্কা আসছে!

সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ইউটিউব চ্যানেল অন্য নির্মাতাদের ভিডিও কেটে বা সামান্য সম্পাদনা করে ইউটিউব শর্টসে প্রকাশের মাধ্যমে বিপুল ভিউ ও সাবস্ক্রাইবার পাচ্ছে। এতে মূল নির্মাতার কনটেন্ট ব্যবহার করে তৈরি ভিডিও থেকেও অন্য অ্যাকাউন্টগুলো দর্শক ও সাবস্ক্রাইবার আকর্ষণ করছে। এ ধরনের ‘ক্লিপার’ অ্যাকাউন্টের কনটেন্টের প্রচার কমাতে এবার উদ্যোগ নিয়েছে ইউটিউব। এসব অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে নিজস্ব কনটেন্টকে অগ্রাধিকার দিতে শর্টসের রিকমেন্ডেশন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ফলে অন্যের ভিডিও ব্যবহার করে তৈরি কনটেন্টে নিজস্ব তথ্য, মন্তব্য বা সৃজনশীল সংযোজন না থাকলে তা দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ কমবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইউটিউব জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় শর্টসের রিকমেন্ডেশন সিস্টেমে মৌলিক কনটেন্টকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অন্য নির্মাতার ভিডিও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ছাড়াই নিয়মিত পুনরায় আপলোড করে এমন চ্যানেলগুলো শর্টস ফিডে তুলনামূলক কম প্রদর্শিত হবে। তবে অন্যের ভিডিও ব্যবহার করলেই সেটির প্রচার কমানো হবে, এমন নয়। ভিডিওতে নির্মাতার নিজস্ব মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সম্পাদনা বা গল্প বলার ধরন যুক্ত করে নতুন কিছু উপস্থাপন করা হলে সেটিকে মৌলিক কনটেন্ট হিসেবে বিবেচনার সুযোগ থাকবে।

ইউটিউব আরও জানিয়েছে, শুধু ভিডিওর গতি পরিবর্তন, ক্রপ করা বা সামান্য কারিগরি সম্পাদনার মতো পরিবর্তন করে মূল কনটেন্টকে নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা যথেষ্ট নয়। এর পরিবর্তে নির্মাতাদের নিজস্ব বক্তব্য, বিশ্লেষণ বা গল্প বলার ধরণ যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ অন্যের ভিডিও ব্যবহার করা হলেও তাতে এমন মৌলিক সংযোজন থাকতে হবে, যা কনটেন্টটিকে শুধু পুনরায় প্রকাশ করা ভিডিওর বদলে স্বতন্ত্র উপস্থাপনায় পরিণত করে।

তবে নতুন পরিবর্তনটি দীর্ঘ ভিডিও নির্মাতাদের নিজেদের কনটেন্ট থেকে তৈরি শর্টসের ক্ষেত্রে কীভাবে কাজ করবে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। অনেক নির্মাতা নিজেদের পডকাস্ট, সাক্ষাৎকার বা দীর্ঘ ভিডিও থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শর্টস তৈরি করেন। ইউটিউবের ঘোষণায় এ ধরনের নিজস্ব কনটেন্ট থেকে তৈরি ভিডিওকে আলাদাভাবে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়নি।

শর্টসের কনটেন্টে মৌলিকতার ওপর ইউটিউবের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। প্ল্যাটফর্মটির স্প্যাম নীতিতে অন্যের ভিডিওতে নিজস্ব মন্তব্য, তথ্য বা স্বতন্ত্র সম্পাদনা যুক্ত না করে পুনরায় প্রকাশ করাকে অননুমোদিত পুনর্ব্যবহার করা কনটেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নতুন রিকমেন্ডেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে শর্টস ফিডে কোন ধরনের ভিডিও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছাবে, সেই বিষয়েও মৌলিক কনটেন্টকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

গত ১ অক্টোবর থেকে ইউটিউব এই নতুন রিকমেন্ডেশন ব্যবস্থা চালু করেছে। নতুন ব্যবস্থার ফলে শর্টস নির্মাতাদের কনটেন্ট তৈরির কৌশলেও পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে দ্রুত ভিউ পাওয়ার জন্য অন্যের জনপ্রিয় ভিডিও নির্ভর করে তৈরি কনটেন্টের বদলে নিজস্ব ধারণা, বক্তব্য ও উপস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এতে শর্টসের রিকমেন্ডেশন ব্যবস্থায় শুধু ভিডিওর সংখ্যা নয়, কনটেন্টের স্বাতন্ত্র্য ও দর্শকের জন্য তৈরি করা নতুন মূল্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ফলে শর্টসের রিকমেন্ডেশনে শুধু ভিডিও প্রকাশের সংখ্যাই নয়, কনটেন্টের মৌলিকতা ও দর্শকের জন্য কতটুকু নতুনত্ব আনা হয়েছে, সেটিও অন্যতম বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠবে।