কিশোরীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে রোবট আটক

জার্মানিতে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে একটি রোবটের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। দুই তরুণের নিয়ন্ত্রণে থাকা রোবটটি ওই কিশোরীর নিতম্বে স্পর্শ করে এবং তার দিকে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ভঙ্গিতে নড়াচড়া করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কোলোনে শনিবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, রোবটটির সম্ভাব্য ১৬ বছর বয়সী মালিক এবং তার ১৯ বছর বয়সী এক সঙ্গী কথিত হয়রানির ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করেন। তারা অনলাইনে ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচার করেন এবং এ নিয়ে ধারাভাষ্যও দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কোলোন পুলিশের মুখপাত্র ক্রিস্টোফ বার্মেল বলেন, দুই তরুণের বিরুদ্ধে এখনও অভিযোগ গঠন করা হয়নি। তবে তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। রোবটটির নড়াচড়া আগে থেকেই প্রোগ্রাম করা ছিল, নাকি তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে আগে পরিচিত ছিলেন না বলে জানান বার্মেল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে অবগত ছিলাম না’। বিষয়টিকে পুলিশের জন্য ‘নতুন অভিজ্ঞতা’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কোলোন পুলিশের সোমবারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, একটি ফাস্টফুড রেস্তোরাঁর কাছে ঘটনাস্থলে পাঠানো জরুরি সেবাকর্মীরা একটি গাড়ির ডিকিতে রোবটটিকে খুঁজে পান। পরে রোবটটি এবং দুই তরুণের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া পুলিশের কোলোন শাখা ফেসবুকে লাল ও সোনালি রঙের রোবটটির মাটিতে পড়ে থাকা একটি ছবি প্রকাশ করেছে।

প্রায় ১২০ সেন্টিমিটার বা ৩ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার রোবটটি সাদা হাতাকাটা গেঞ্জি, কালো ট্রাউজার, সোনালি চেইন ও সানগ্লাস পরা ছিল। এর মুখে নকল গোঁফের মতো কিছু একটা দেখা যায়।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাতে ব্যস্ত একটি সড়কে দুই তরুণ রোবটটিকে একদল নারীর দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় রোবটটি একজনের সঙ্গে ধাক্কা খায় এবং অন্য কয়েকজনকে জড়িয়ে ধরে।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, রোবটটি যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি করলে দুই তরুণের একজন বারবার তাকে ধমক দেন এবং পেছনের দিকে টেনে নেন। এ সময় আশপাশের লোকজনকে হাসতে দেখা যায়।

মঙ্গলবার পুলিশের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে অনভিপ্রেত মন্তব্যের সমালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে পুলিশ সতর্ক করে জানায়, এ ধরনের ঘটনা নিয়ে ঠাট্টা করা বা সংশ্লিষ্ট ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া ভুক্তভোগীর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। 

সূত্র: এপি