নাসার স্যাটেলাইটে ধরা পড়া ‘স্পাইডার ক্রেটার’ আসলে কী?

নাসা অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমিতে পা-যুক্ত একটি আঘাতজনিত কাঠামোর ছবি প্রকাশ করেছে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কিম্বারলি অঞ্চলের ওপর থেকে ছবিটি তুলেছে ল্যান্ডস্যাট ৯ উপগ্রহ। নাসা জানিয়েছে, দেখতে অদ্ভুত লাগলেও এটি আসলে একটি উল্কাপিণ্ডের আঘাতের স্থান, যা লাখ লাখ বছরের মাটিক্ষয়ের মধ্য দিয়ে গেছে। এর অদ্ভুত আকৃতির কারণেই এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্পাইডার ক্রেটার’।

ডিম্বাকৃতির কাঠামোটি ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১১ কিলোমিটার চওড়া। এর কেন্দ্রীয় অংশটি দেখতে মাকড়সার মতো এবং তা ৪ কিলোমিটার বিস্তৃত। ৬০ কোটি থেকে ৯০ কোটি বছর আগে ওই অঞ্চলে উল্কাপিণ্ডের আঘাতে গর্তটি তৈরি হয়েছিল, যদিও সঠিক সময় এখনও অস্পষ্ট। ১৯৫০-এর দশকে এটি আবিষ্কৃত হয়, কিন্তু এর অস্বাভাবিক আকৃতির ব্যাখ্যা দীর্ঘদিন মেলেনি।

গর্তটি দুর্গম, রুক্ষ ভূখণ্ডের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে পৌঁছানো কঠিন। তাই স্যাটেলাইট ছবিই এটি দেখার সবচেয়ে ভালো উপায়। ছবিতে সবুজ গাছপালা ও লাল পাথরের বৈপরীত্য চোখে পড়ার মতো।

আবিষ্কারের পর ১৯৭০-এর দশক পর্যন্ত গর্তটির উৎপত্তি রহস্যই থেকে যায়। বিশাল ও অদ্ভুত এই গর্তের কারণ উদ্ঘাটনে ভূতত্ত্ববিদদের দুই দশক ধরে কাজ করতে হয়েছে। শুরুর দিকের ব্যাখ্যায় এটিকে আগ্নেয়গিরিজনিত বলে মনে করা হয়েছিল। পরে তারা উল্কাপিণ্ড বা গ্রহাণুর আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন শনাক্ত করেন, যার মধ্যে রয়েছে পাথরে খাঁজকাটা, শঙ্কু আকৃতির ফাটল। পাললিক শিলার স্তরগুলোর চরমভাবে বিকৃত হওয়াও এ তত্ত্বকে আরও জোরালো করে।

এসব ফাটল শ্যাটার কোন নামে পরিচিত এবং কাঠামোটির চারপাশে ছড়িয়ে আছে। উচ্চগতির সংঘর্ষের পর শিলার ভেতর দিয়ে ছুটে যাওয়া শকওয়েভ থেকে এগুলো তৈরি হয়। বেলেপাথরে থাকা শকড কোয়ার্টজ ও জিরকন স্ফটিকেও আঘাতের প্রমাণ রয়েছে, যদিও আঘাতের সঠিক সময় এখনও নির্ণয় করা যায়নি।

অস্ট্রেলিয়ায় গ্রহাণু আঘাতের আরও বেশ কয়েকটি স্থান রয়েছে, যার মধ্যে ২২৯ কোটি বছর আগে সৃষ্ট ইয়ারাবুবা কাঠামো একটি। ওই আঘাত প্রাচীন এক বৈশ্বিক হিমযুগের সমাপ্তির সময়ের সঙ্গে মিলে যায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আঘাতে সম্ভবত বিশাল বরফের স্তর গলে গিয়েছিল এবং বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রায় ৫৯ কোটি বছর আগে সৃষ্টি হয় অ্যাক্রামান ক্রেটার, যা অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় নিশ্চিত জটিল আঘাতজনিত কাঠামোগুলোর একটি।

সূত্র: উইয়ন নিউজ