বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষায় গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটির খবর প্রকাশের পর বুধবার ইউরোপসহ বিভিন্ন স্থানের সরকারি ওয়েবসাইট অফলাইনে চলে গেছে। নিজেদের ব্যবস্থা সুরক্ষিত করতে হিমশিম খাচ্ছেন ওয়েবসাইট পরিচালকেরা।
পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার নির্মাতারা মঙ্গলবার জানান, তারা দুটি গুরুতর ত্রুটি শনাক্ত করেছেন। সমাধান প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীদের সাইট হালনাগাদ করার আহ্বান জানান তারা। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিট তারা জানান, ত্রুটি সারানো নতুন সংস্করণ চালু হয়েছে।
হ্যাকাররা এসব ত্রুটি কাজে লাগিয়ে ওয়েবসাইটে ঢুকছে বলে খবর থাকায় সমাধান আসার আগেই নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডের সরকারি সংস্থাসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সতর্কতা হিসেবে সাইট অফলাইনে নিয়ে যায়। ইন্টারনেটের বড় অংশ পিএইচপির ওপর দাঁড়িয়ে থাকায় অনেক ওয়েবসাইট ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান হান্টরেস এক ব্লগ পোস্টে বলেছে, পিএইচপি সর্বত্র আছে। এটি নীরবে ওয়ার্ডপ্রেস, ড্রুপাল, জুমলা ও ম্যাজেন্টো সাইট, শেয়ার্ড হোস্টিং প্ল্যাটফর্ম, কন্ট্রোল প্যানেল এবং এমন বহু সফটওয়্যারকে সচল রাখে, যেগুলো নিজেদের পরিচয়ে পিএইচপির কথা জানায়ও না।
ওয়েব ও ক্লাউড নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ডেইন নেখট এক্স-এ বলেন, প্রাথমিক হামলা শুরু হয়েছে এবং নতুন পথ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধব্যবস্থা হালনাগাদ করা হচ্ছে। সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে তারা ফায়ারওয়াল নিয়ম হালনাগাদ করছেন। তিনি লেখেন, এটি শুধুই সাময়িক ব্যবস্থা। পিএইচপি আপডেট প্রকাশ করামাত্র প্যাচ করুন।
ওয়ার্ডপ্রেসের নিরাপত্তা প্লাগইন ওয়ার্ডফেন্স জানায়, ওয়ার্ডপ্রেসের সব সাইট পিএইচপি-সংস্থাপিত সার্ভারে চলে। তারা সতর্ক করে, স্বয়ংক্রিয় আপডেটে এ সমাধান প্রয়োগ হবে না। সাইটের মালিকদের জেনে নিতে বলা হয়েছে, পিএইচপি হালনাগাদের দায়িত্ব কার।
ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও যুক্তরাজ্যের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পিএইচপি ব্যবহারকারীদের অবিলম্বে হালনাগাদ করতে বা প্যাচ প্রয়োগ না হওয়া পর্যন্ত ওয়েবসাইট অফলাইনে রাখতে আহ্বান জানিয়েছে। ডাচ সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা নিজেই অফলাইনে চলে গেছে। তারা জানায়, ত্রুটির কারণে সতর্কতা হিসেবে এ পদক্ষেপ।
কর্মকর্তারা বলেছেন, পিএইচপি ৫ থেকে পরের সব সংস্করণ প্রভাবিত হতে পারে। তবে পিএইচপি এখনও কোন সংস্করণ ঝুঁকিতে, তা প্রকাশ করেনি। পিএইচপি ওয়েবসাইট চালানোর একটি প্রোগ্রামিং ভাষা। দর্শক কোনও পাতা খুললে পিএইচপি চালানো সার্ভার কনটেন্ট সাজিয়ে ব্রাউজারে পাঠায়। এটি বিনামূল্যের ওপেন-সোর্স সফটওয়্যার, যা স্বেচ্ছাসেবকেরা রক্ষণাবেক্ষণ করেন।
ইন্টারনেটে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে এটি একটি। ওয়েব প্রযুক্তি ট্র্যাকার ডব্লিউথ্রিটেকসের তথ্য অনুযায়ী, প্রোগ্রামিং ভাষা শনাক্ত করা যায় এমন ওয়েবসাইটগুলোর প্রায় ৭৫ শতাংশ চলে পিএইচপিতে। ব্লগ ও ছোট ব্যবসার পাতা থেকে সরকারি পোর্টাল, অনলাইন দোকান ও সংবাদ সাইটসহ সব ওয়েবসাইটের প্রায় ৪৩ শতাংশ চলে ওয়ার্ডপ্রেসে, যার চালিকাশক্তি পিএইচপি।
ওয়ার্ডপ্রেস ডটকমের নির্মাতা অটোম্যাটিক বলেছে, আমরা নিরাপত্তা সমস্যার বিস্তারিত নিয়ে মন্তব্য করি না, তবে আমাদের দল প্রস্তুত এবং আপডেট মসৃণ করতে পিএইচপি নিরাপত্তা দলের সঙ্গে কাজ করছে।
সূত্র: রয়টার্স