সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় কাটানো শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস ও চিন্তাভাবনায় গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীর পছন্দ ও অনলাইন কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে একই ধরনের ভিডিও ও পোস্ট বারবার সামনে আনে। ফলে শিশু-কিশোরেরা অনিচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিকর কনটেন্ট, অবাস্তব জীবনযাপনের ধারণা কিংবা বাহ্যিক রূপ নিয়ে নেতিবাচক বার্তার মুখোমুখি হতে পারে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু সেটিংস ব্যবহার এবং সচেতন অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে এসব প্রভাব কমাতে অভিভাবকেরা সন্তানদের সহায়তা করতে পারেন।
অ্যালগরিদম যেভাবে কাজ করে
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীর পছন্দ বোঝার জন্য তার দেখা ভিডিও, লাইক, মন্তব্য, শেয়ার এবং কোন কনটেন্টে কতক্ষণ সময় কাটাচ্ছেন, তা বিশ্লেষণ করে। এরপর একই ধরনের কনটেন্ট আরও বেশি দেখানোর চেষ্টা করে। এতে ব্যবহারকারীর আগ্রহের বিষয় খুঁজে পাওয়া সহজ হলেও এক ধরনের কনটেন্টের মধ্যেই আটকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যেমন, কোনও কিশোর নিয়মিত শরীরচর্চা বা সৌন্দর্যবিষয়ক ভিডিও দেখলে তার নিউজফিডে এ ধরনের ভিডিও ক্রমাগত বাড়তে থাকে।
অ্যালগরিদমের প্রভাব কমানোর উপায়
কোনও ভিডিও বা পোস্ট অস্বস্তিকর মনে হলে তাতে লাইক, মন্তব্য বা শেয়ার না করে এড়িয়ে যাওয়া উচিত। পাশাপাশি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে থাকা নট ইন্টারেস্টেড, হাইড বা শো লেস অপশন ব্যবহার করলে একই ধরনের কনটেন্ট বারবার সামনে আসার প্রবণতা কমতে পারে।
শুধু একটি বিষয় নিয়ে ভিডিও না দেখে নতুন শখ, খেলাধুলা, শিক্ষা বা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কনটেন্ট খোঁজা যেতে পারে। এতে নিউজফিডে বৈচিত্র্য বাড়তে পারে। পাশাপাশি যেসব অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করা হয়, সেগুলোর পোস্ট দেখার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।
অনেক অ্যাপে স্ক্রল করার সময় ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে শুরু করে। সেটিংস থেকে অটোপ্লে বন্ধ করলে কোন ভিডিও দেখবেন, তা নিজেই বেছে নেওয়া সহজ হয়।
উত্তেজনাপূর্ণ বা অবিশ্বাস্য কোনও পোস্ট দেখলেই সেটি বিশ্বাস বা শেয়ার করা উচিত নয়। তথ্যের উৎস নির্ভরযোগ্য কি না, অন্য বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে একই তথ্য পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।
একটানা স্ক্রল করার বদলে বিরতি নেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা যেতে পারে। এতে বারবার ফোন দেখার প্রবণতা কমতে পারে।
অভিভাবকদের করণীয়
শিশুদের বয়স অনুযায়ী কনটেন্ট ফিল্টার, স্ক্রিন টাইম লিমিট ও প্যারেন্টাল কন্ট্রোল চালু করা যেতে পারে। তবে এসব নিয়ন্ত্রণের কারণ শিশুদের বুঝিয়ে বলা এবং তারা অনলাইনে কী দেখছে, তা নিয়ে নিয়মিত কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের পর শিশু উদ্বিগ্ন, বিরক্ত বা মনমরা হয়ে পড়ছে কি না কিংবা ঘুম ও দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে কি না, সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত।