হাতের ন্যূনতম ব্যবহার ছাড়া শুধুমাত্র চিন্তাশক্তির মাধ্যমে কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের পর্দায় টাইপিং, কার্সর নিয়ন্ত্রণ কিংবা অন্যান্য কাজ করার প্রযুক্তি তৈরি করছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান নিউরালিংক। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি ‘টেলিপ্যাথি’ নামের ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ থেকে পাওয়া সংকেত বিশ্লেষণ করে সেগুলোকে কম্পিউটারের নির্দেশনায় রূপান্তর করে। সম্প্রতি প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ইলন মাস্ক। তার দাবি, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এর মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানের গতি মানুষের দ্রুততম কথা বলা বা টাইপ করার গতিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
নিউরালিংকের এই প্রযুক্তিতে মস্তিষ্কে স্থাপন করা হয় ‘এন১ ইমপ্লান্ট’ নামের ছোট একটি চিপ। এতে রয়েছে ১ হাজার ২৪টি ইলেকট্রোড, যা ৬৪টি নমনীয় ও সূক্ষ্ম সুতার মতো থ্রেডের সঙ্গে যুক্ত। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এসব থ্রেড মস্তিষ্কের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণকারী অংশে স্থাপন করা হয়। এগুলোর সাহায্যে স্নায়ুকোষের তৈরি বৈদ্যুতিক সংকেত শনাক্ত করে কম্পিউটারের নির্দেশনায় রূপান্তর করা হয়। থ্রেডগুলো মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্থানে নিখুঁতভাবে স্থাপনের জন্য নিউরালিংক তৈরি করেছে ‘আর১’ নামের একটি সার্জিক্যাল রোবট।
প্রযুক্তিটি মূলত পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিন্তার মাধ্যমে কম্পিউটার, স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রথমবারের মতো একজন মানুষের মস্তিষ্কে এন১ ইমপ্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়। এরপর পরীক্ষামূলক ব্যবহারে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা চিন্তার মাধ্যমে কম্পিউটারের কার্সর নিয়ন্ত্রণ, দাবা খেলা এবং নকশা তৈরির সফটওয়্যার ব্যবহারের সক্ষমতা ইতোমধ্যেই দেখিয়েছেন।
এ ছাড়া মস্তিষ্কের সংকেত ব্যবহার করে ভার্চ্যুয়াল কিবোর্ডে লেখার গতিও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। নিউরালিংকের ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি আঙুল নাড়ানোর কথা কল্পনা করে মিনিটে সর্বোচ্চ ৪০টি শব্দ টাইপ করতে পেরেছেন। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কথা বলার গতির কাছাকাছি, অর্থাৎ মিনিটে প্রায় ১৪০ শব্দে যোগাযোগের সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে। এ জন্য গুরুতর বাক্প্রতিবন্ধকতায় ভোগা ব্যক্তিদের নিয়ে ‘ভয়েস’ নামের একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালও চালু করেছে তারা।
তবে মিনিটে ১৪০ শব্দের সমপরিমাণ গতিতে যোগাযোগের বিষয়টি এখনও নিউরালিংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ। পরীক্ষায় এ সক্ষমতা অর্জনের প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। ‘টেলিপ্যাথি’ প্রযুক্তিও সাধারণ ব্যবহারের জন্য বাজারে আসেনি; এটি এখনও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে পক্ষাঘাতসহ গুরুতর শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় ভোগা ব্যক্তিদের যোগাযোগের সুযোগ তৈরি এবং দৈনন্দিন কাজ সহজ করাই প্রযুক্তিটির মূল উদ্দেশ্য।