স্মার্টওয়াচ, ফিটনেস ব্যান্ড কিংবা স্মার্টফোনের বিভিন্ন ফিটনেস ট্র্যাকিং অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিদিনের হাঁটা-চলা, হৃদ্স্পন্দন, ঘুমের সময় সহ যাবতীয় শারীরিক কর্মকাণ্ডের হিসাব রাখেন অনেকেই। এসব তথ্য শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ, শরীরচর্চার অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কে ধারণা পেতে নির্ভরযোগ্য সহায়ক উপাত্ত হিসেবে কাজ করে। তবে শরীরের এসব তথ্য কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে অধিকাংশ ব্যবহারকারীর মধ্যেই উদ্বেগ দেখা যায়। কারণ, ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন অভ্যাস ও অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের অ্যাক্সেস থাকে এসব অ্যাপের কাছে।
ফিটনেস ট্র্যাকার থেকে সংগ্রহ করা তথ্যের অপব্যবহারের নজিরও রয়েছে। জনপ্রিয় শরীরচর্চার অ্যাপ স্ট্রাভা ব্যবহারকারীদের দৌড়ানোর পথ ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে। ২০১৮ সালে অ্যাপটির ব্যবহারকারীদের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে তৈরি বৈশ্বিক হিটম্যাপ থেকে বিভিন্ন দেশের সামরিক ঘাঁটি ও গোয়েন্দা স্থাপনার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। একইভাবে, কারও নিয়মিত চলাচলের পথ ও সময় জানা থাকলে অপরাধীরা তাকে অনুসরণ বা নজরদারি করতে পারে।
শুধু অবস্থান প্রকাশই নয়, এসব তথ্যের বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ফিটনেস অ্যাপের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য বিজ্ঞাপন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছাতে পারে। ব্যবহারকারীর ঘুমের ধরন, শারীরিক সক্রিয়তা কিংবা দৈনন্দিন অভ্যাস বিশ্লেষণ করে তার পছন্দ ও জীবনযাপন সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা সম্ভব। কিছু প্রতিষ্ঠান এসব তথ্য ব্যবহার করে নির্দিষ্ট পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপন টার্গেটেড অডিয়েন্সদের দেখাতে পারে। বিমা কোম্পানিগুলোও গ্রাহকের শারীরিক কর্মকাণ্ডের তথ্যকে বিভিন্ন সুবিধা বা বিমার মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নিতে পারে।
যুক্তরাজ্যের বিমা প্রতিষ্ঠান ভিটালিটি গ্রাহকদের ফিটনেস ট্র্যাকার থেকে পাওয়া হাঁটার হিসাবের ভিত্তিতে পুরস্কার ও পয়েন্ট দিয়ে থাকে। নির্দিষ্ট মাত্রার শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখতে পারলে বিমার নবায়নমূল্য কমানোর সুযোগও রয়েছে। এতে শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা সম্ভব হলেও গ্রাহকের স্বাস্থ্য ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের তথ্য বিমার মতো বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তে ব্যবহারের বিষয়টি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
ইউগভের ২০২৫ সালের মার্চের এক জরিপে দেখা গেছে, উক্ত জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪৮ শতাংশ উদ্বিগ্ন যে প্রযুক্তিপণ্য থেকে সংগ্রহ করা তথ্য ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁদের জীবনযাপন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারে। অন্যদিকে, বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের গবেষণায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অংশগ্রহণকারী স্বাস্থ্যতথ্য থেকে মুনাফা তৈরির বিষয়ে সম্মতি দিলেও মাত্র ৬ শতাংশ কোনো শর্ত ছাড়াই এ ধরনের ব্যবহারে রাজি ছিলেন।
ফিটনেস ট্র্যাকার ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষায় কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অ্যাপ ব্যবহারের আগে গোপনীয়তা নীতিমালা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পড়ে কোন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তা তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে শেয়ার করা হয় কি না, তা যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে প্রয়োজন না থাকলে অবস্থানসহ অপ্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহারের অনুমতি বন্ধ রাখা এবং অ্যাপের গোপনীয়তা সেটিংস নিয়মিত পর্যালোচনা করাও জরুরি।
ইনস্টাগ্রামে অন্যের পোস্ট ও রিলস রিপোস্ট করবেন যেভাবে
চাকরি সামলে ফুড কার্টেও বাজিমাত, যেভাবে মাসে ৬ লাখ রুপি আয় দুই আইটি বিশেষজ্ঞের