এআই চ্যাটবটের সঙ্গে বারবার চরম অপমানজনক আচরণে বন্ধ হবে সেবা

এআই চ্যাটবট ‘ক্লড’-এর সঙ্গে বারবার চরম অপমানজনক আচরণ করলে ব্যবহারকারীর কথোপকথন বা সেবা বন্ধ করে দিতে পারে এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নিজেদের ব্যবহারের নীতিমালায় পরিবর্তন এনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, চরম পর্যায়ের এবং বারবার অপমানজনক আচরণের ক্ষেত্রেই কেবল এ নিয়ম কার্যকর হবে। তবে সাধারণ বিরক্তি প্রকাশ, এআইয়ের উত্তরের সঙ্গে দ্বিমত পোষন, সৃজনশীল কাজে বিতর্কিত বিষয় ব্যবহার কিংবা গবেষণার উদ্দেশ্যে পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য নয়।

প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক পর্যালোচনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে নতুন নীতিমালায় প্রতারণামূলক প্রচারণা চালানো, ভোটারদের বিভ্রান্ত করা এবং নির্বাচন ব্যাহত করার কাজে ক্লডের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে কোন ধরনের আচরণকে ‘খারাপ’ বা ‘অপমানজনক’ ধরা হবে, তা স্পষ্ট করেনি অ্যানথ্রপিক।

নতুন এই নীতি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে একে মানুষের শিষ্টাচার বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও বিশেষজ্ঞরা এর সমালোচনা করেছেন।

আয়ারল্যান্ডের আইন প্রতিষ্ঠান উইলিয়াম ফ্রাইয়ের প্রযুক্তিবিষয়ক অংশীদার ব্যারি স্ক্যানেল বলেন, সংখ্যা ও গণিতের প্রতি নিষ্ঠুর হওয়া যায় না। এআইকে মানুষের মতো বিবেচনা করার প্রবণতাকে ক্ষতিকর আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, এতে মানুষ এআইকে এমন কিছু মনে করতে পারে, যা বাস্তবে তা নয়।

মাইক্রোসফটের এআই পরিচালক মুস্তাফা সুলেইমানও এআইকে মানুষের মতো বিবেচনা করার এই প্রবণতার সমালোচনা করেছেন।

অন্যদিকে, এআইয়ের সঙ্গে 'দয়া করে' বা 'ধন্যবাদ'-এর মতো সৌজন্যসূচক শব্দ ব্যবহারে বিদ্যুতের অপচয় বা টোকেন খরচ হওয়া নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এক্সে চ্যাটজিপিটিকে এসব সৌজন্যমূলক শব্দ বলার বৈদ্যুতিক খরচ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান রসিকতা করে বলেন, দশ মিলিয়ন ডলার খরচ হলেও তা ভালোভাবেই ব্যয় হয়েছে, কে জানে ভবিষ্যতে কী হতে পারে।