দানশীলতা বললেই সাধারণত বিশাল অর্থবিত্ত ও বড় অঙ্কের অনুদানের কথা মাথায় আসে। তবে অন্যকে সহায়তা করার ক্ষমতা যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অঙ্কের ওপর নির্ভর করে না, সেটিই মনে করিয়ে দিলেন হলিউড অভিনেত্রী ইভা লঙ্গোরিয়া। অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজস ও তার স্ত্রী লরেন সানচেজ বেজসের কাছ থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রদেয় পুরস্কার পাওয়ার পর দানশীলতা নিয়ে নতুন এই বার্তার কথা জানান তিনি।
২০২৪ সালে ইভা লঙ্গোরিয়া এবং অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল বিল ম্যাকরেভেন যৌথভাবে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেজস কারেজ অ্যান্ড সিভিলিটি অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। যার মধ্যে লঙ্গোরিয়া ও ম্যাকরেভেন প্রত্যেকে ৫০ মিলিয়ন ডলার করে পান। ২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার মার্কিন সামরিক অভিযানের তদারকি করা ম্যাকরেভেন এই অর্থ সেনা সদস্য, তাদের সন্তান ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ল্যাটিনো সম্প্রদায়ের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধিতে এই অর্থ ব্যয় করছেন লঙ্গোরিয়া। ফরচুনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই পুরস্কারটি আমাকে আমার গভীর ভালোবাসার জায়গাগুলোতে, যেমন ল্যাটিনা উদ্যোক্তাদের সহায়তা, শিক্ষার বিস্তার এবং মাঠপর্যায়ে পরিবর্তন আনা সংগঠনগুলোকে সমর্থন দেওয়ার কাজে অর্থ বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে।
তবে দানশীলতা মানেই কেবল বড় অঙ্কের টাকা দেওয়া নয় বলে মনে করেন লঙ্গোরিয়া। তার মতে, মেন্টরিং, পেশাগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করা কিংবা ক্ষুদ্র ব্যবসাকে এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমেও প্রভাব ফেলা সম্ভব। তিনি বলেন, কত অর্থ আছে তা থেকে প্রভাব তৈরি হয় না... এই সহায়তা পাওয়াটা কেবল অর্থের পরিমাণের জন্য নয়, বরং এটি একটি বিশ্বাস ও দায়িত্বের প্রতিফলন হওয়ায় আমার কাছে অবিশ্বাস্যভাবে অর্থবহ ছিল।
২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত ইভা লঙ্গোরিয়া ফাউন্ডেশন ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণদের সহায়তায় ইভাস হিরোস পরিচালনা করে আসা এই অভিনেত্রী মনে করেন, ধনকুবেরদের বিশাল অনুদানের অপেক্ষায় বসে না থেকে সমাজের সব স্তরের মানুষের সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসা উচিত।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া