ফোন হাতে নিয়ে কল করার আগে কিংবা ইন্টারনেট চালানোর সময় প্রথমেই ব্যবহারকারীর চোখ চলে যায় স্ক্রিনের ওপরের ছোট্ট নেটওয়ার্ক বারের দিকে। চার-পাঁচটি বার দেখলে যেখানে নেটওয়ার্ক সংযোগ নিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়া যায়, সেখানে দুই-একটি বার দেখলেই অনেকের মনে হয় ফোনে ঠিকমতো কলে কথা বলা বা ইন্টারনেট ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। কিন্তু এই ছোট্ট আইকনটি আসলে কী বোঝায়? প্রচলিত ধারণার বিপরীতে, নেটওয়ার্ক বার সরাসরি ইন্টারনেটের গতি বা কলের মান নির্দেশ করে না। নেটওয়ার্ক বার সম্পর্কিত কিছু বিষয় জানা থাকলে এই সংক্রান্ত প্রচলিত ভুল ধারণা দূর হবে।
নেটওয়ার্ক বার দিয়ে কি বোঝায়?
নেটওয়ার্ক বার মূলত ফোন ও কাছাকাছি সেল টাওয়ার বা সেল সাইটের মধ্যে রেডিও সিগন্যালের শক্তিকে বোঝায়। সাধারণত এক থেকে পাঁচটি বার দিয়ে এই শক্তি প্রকাশ করা হয়। বেশি বার মানে ফোন তুলনামূলক শক্তিশালী ও স্থিতিশীল সিগন্যাল গ্রহণ করছে, আর কম বার মানে সিগন্যাল দুর্বল। তবে এর অর্থ এই নয় যে বেশি বার থাকলেই মোবাইল ডেটা দ্রুত চলবে বা কলের মান ভালো হবে।
সব ফোনে একই সংখ্যক নেটওয়ার্ক বারের অর্থ কি এক?
নেটওয়ার্ক বারের সংখ্যা নির্ধারণের কোনও সর্বজনীন মানদণ্ড নেই। ফোন নির্মাতারা নির্দিষ্ট সিগন্যালের মাত্রাকে নিজেদের নির্ধারিত সীমা অনুযায়ী এক থেকে পাঁচটি বারে প্রকাশ করে। ফলে একই স্থানে একই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলেও ভিন্ন ব্র্যান্ডের বা মডেলের ফোনে ভিন্ন সংখ্যক বার দেখা যেতে পারে। ফোনের অ্যান্টেনার নকশা, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের পার্থক্যও এই ভিন্নতার কারণ হতে পারে।
আসল সিগন্যাল শক্তি মাপা হয় কীভাবে?
সিগন্যালের প্রকৃত শক্তি সাধারণত ডিবিএম (ডেসিবেল-মিলিওয়াট)-এ প্রকাশ করা হয়। এটি একটি লগারিদমিক স্কেল এবং মান সাধারণত ঋণাত্মক হয়। এর সংখ্যা যত শূন্যের কাছাকাছি, সিগন্যাল তত শক্তিশালী। এলটিই ও ৫জি নেটওয়ার্কে সিগন্যালের প্রকৃত অবস্থা বোঝার জন্য আরএসআরপি (রেফারেন্স সিগন্যাল রিসিভড পাওয়ার) এবং আরএসআরকিউ (রেফারেন্স সিগন্যাল রিসিভড কোয়ালিটি)-এর মতো পরিমাপক ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে আরএসআরপি ফোনে পৌঁছানো সিগন্যালের শক্তি, আর আরএসআরকিউ সেই সিগন্যালের গুণমান সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে নির্দিষ্ট ধারণা দেয়।
কোথায় গেলে নেটওয়ার্ক বার কমে যায়?
সেল টাওয়ার থেকে দূরত্ব বাড়লে সাধারণত সিগন্যাল দুর্বল হয়। এছাড়াও কংক্রিটের দেয়াল, ধাতব কাঠামো, বেসমেন্ট, লিফট, পাহাড় বা অন্যান্য বাধা রেডিও সিগন্যালকে দুর্বল করতে পারে। একইভাবে আশপাশের অন্য রেডিও সিগন্যালের বাধা, নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত ব্যবহারকারীর চাপ এবং ফোনের অবস্থানও সিগন্যালের মান পরিবর্তন করতে পারে।
৫ বার থাকলেও ইন্টারনেট ধীর কেন?
এখানেই নেটওয়ার্ক বার নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাটি তৈরি হয়। পাঁচটি বার মূলত শক্তিশালী সিগন্যাল বোঝালেও টাওয়ারের নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি বা সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা সম্পর্কে কোন তথ্য দেয়না। একই সেল সাইটে অনেক মানুষ একসঙ্গে ডেটা ব্যবহার করলে নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে শক্তিশালী সিগন্যাল থাকা সত্ত্বেও ইন্টারনেট ধীর হতে পারে।
কম বার দেখালে কী করণীয়?
দুর্বল সিগন্যালের ক্ষেত্রে জানালার কাছে যাওয়া বা খোলা জায়গায় অবস্থান করলে অনেক সময় কানেকশনের মান কিছুটা উন্নত হতে পারে। ফোনে ওয়াই-ফাই কলিং সুবিধা থাকলে দুর্বল সেলুলার কভারেজের পরিবর্তে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কল করা সম্ভব। সিগন্যাল বুস্টারও কিছু ক্ষেত্রে দুর্বল সিগন্যালকে আরও কার্যকর করতে পারে। তবে যেখানে একেবারেই সেলুলার সিগন্যাল নেই, সেখানে বুস্টার নতুন করে কভারেজ তৈরি করতে পারে না।